০২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে দেশের অর্ধেক মানুষ

  • Update Time : ১১:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০১৭
  • / ১১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ভূমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে আছে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক (৮ কোটি) মানুষ। এদের একটি বড় অংশই বাস করে দেশের দুই প্রধান নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামে।

আর বড় আকারের ভূমিকম্প হলে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর এলাকার দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রথম জাতীয় কনভেনশনের মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আর এ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।

রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক, শফিকুল ইসলাম শিমুল ও আবদুর রহমান বদি প্রমুখ।

পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন করেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

মূল প্রবন্ধে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘ভূমিকম্প থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এটি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে। তা না হলে ভূমিকম্প ঝুঁকি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। শুধু বিল্ডিং কোড মেনে ভবন করলেই হবে না, যেই মাটিতে ভবন নির্মাণ করা হবে সেই মাটিও সহনীয় হতে হবে।

কারণ অনেকেই জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেন। এটা ঠিক নয়। ভূমিকম্প হলে জলাশয়ের ওপর নির্মিত ভবনে ঝুঁকি থেকে যায়।’

হাইতি এবং চিলির ভূমিকম্পের উদাহরণ দিয়ে জামিলুর রেজা বলেন, ‘২০১০ সালের জানুয়ারিতে হাইতিতে সাত দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প হয়। তাতে তিন লাখ মানুষ প্রায় হারান। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিলিতে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। কিন্তু সেখানে মাত্র ৫৬২ জন মানুষ প্রাণ হারান। পরিকল্পিত ভবন নির্মাণের কারণেই চিলিতে মানুষের মৃত্যু অনেক কম হয়। কারণ ১৯৬০ সালে চিলিতে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই থেকে তারা মাস্টার প্ল্যান করে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করেছে। এ কারণে হাইতির চেয়ে অনেকগুণ কম মানুষ মারা গেছে।

এভাবে আমরাও যদি প্রস্তুতি না নেই তাহলে ঝুঁকি থেকে যাবে।’ বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে বুয়েটের এ সাবেক অধ্যাপক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষায় আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

১৯৭০ সালের বন্যায় ভোলায় আমাদের পাঁচ লাখ মানুষ মারা গেছেন। ১৯৮৫ সালের উড়ির চরে বন্যায় ১১ হাজার মানুষ মারা গেছেন। ১৯৯১ সালের বন্যায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এরপর আমরা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে মাস্টার প্ল্যান করি। ফলে ২০০৭ সালে সিডরে আমাদের মানুষ মৃত্যুর হার অনেক কমে আসে। সিডরের এ অভিজ্ঞতার পর ২০০৯ সালের আরেক ঘূর্ণিঝড় আইলায় ৪০০ মানুষ মারা গেছেন। ১৯৯২ সালের মাস্টার প্ল্যানকে যুগোপযোগী করতে হবে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, দেশের ৬১ শতাংশ ভূমি ও ৭১ শতাংশ মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া ৩২ শতাংশ ভূমি ও ২৭ শতাংশ মানুষ ঘূর্ণিঝড় এবং লবণাক্ততার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে ৭০ শতাংশ ভূমি ও ৮০ শতাংশ মানুষ। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯২ সালের মহাপরিকল্পনাটি যুগোপযোগী করা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী, ভবন নির্মাণে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞদের সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন জামিলুর রেজা চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ আগে ছিল ছয় ঋতুর দেশ। এখন আর ছয় ঋতু নেই। শীতের সময় শীত নেই, গরমের সময় গরম নেই। আগাম বৃষ্টি, আগাম বন্যা, আগাম শীত। কোনো জিনিসে আর তাল মেলে না। কিভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায় সেজন্য এ কনভেনশনের আয়োজন করেছি। এতে প্রায় ২ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করছেন।

সময়ের সঙ্গে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনাকে তাল মেলাতে আপনাদের সবার (অংশগ্রহণকারী) প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ কনভেনশনে বজ পাত, ভূমিকম্প, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে উল্লেখ করে কনভেনশনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আলোকে আপনারা সুচিন্তিত ও বাস্তব মতামত দেবেন। এর আলোকে আমরা আগামী দিনের পরিকল্পনা ঢেলে সাজাব।’

চলতি বছর চারটি বড় দুর্যোগ মোকাবেলা করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ চারটি দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার টন খাদ্যশস্য, নগদ ৬৭ কোটি টাকা, বাড়িঘর নির্মাণের জন্য ৭ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন ও দুই কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ৫২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চাহিদা দেয়ার ১ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে জেলা পর্যায়ে ত্রাণের বরাদ্দ পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন ত্রাণমন্ত্রী।

আজ বিকাল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেষ হবে দু’দিনব্যাপী এ জাতীয় সম্মেলন। এতে বাংলাদেশের দুর্যোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, বাস্তবায়নকারী সংস্থা, উপকারভোগী, এনজিও, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিগত কয়েকটি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন বলে শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে দেশের অর্ধেক মানুষ

Update Time : ১১:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ভূমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে আছে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক (৮ কোটি) মানুষ। এদের একটি বড় অংশই বাস করে দেশের দুই প্রধান নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামে।

আর বড় আকারের ভূমিকম্প হলে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর এলাকার দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রথম জাতীয় কনভেনশনের মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আর এ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।

রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক, শফিকুল ইসলাম শিমুল ও আবদুর রহমান বদি প্রমুখ।

পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন করেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

মূল প্রবন্ধে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘ভূমিকম্প থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এটি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে। তা না হলে ভূমিকম্প ঝুঁকি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। শুধু বিল্ডিং কোড মেনে ভবন করলেই হবে না, যেই মাটিতে ভবন নির্মাণ করা হবে সেই মাটিও সহনীয় হতে হবে।

কারণ অনেকেই জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেন। এটা ঠিক নয়। ভূমিকম্প হলে জলাশয়ের ওপর নির্মিত ভবনে ঝুঁকি থেকে যায়।’

হাইতি এবং চিলির ভূমিকম্পের উদাহরণ দিয়ে জামিলুর রেজা বলেন, ‘২০১০ সালের জানুয়ারিতে হাইতিতে সাত দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প হয়। তাতে তিন লাখ মানুষ প্রায় হারান। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিলিতে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। কিন্তু সেখানে মাত্র ৫৬২ জন মানুষ প্রাণ হারান। পরিকল্পিত ভবন নির্মাণের কারণেই চিলিতে মানুষের মৃত্যু অনেক কম হয়। কারণ ১৯৬০ সালে চিলিতে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই থেকে তারা মাস্টার প্ল্যান করে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করেছে। এ কারণে হাইতির চেয়ে অনেকগুণ কম মানুষ মারা গেছে।

এভাবে আমরাও যদি প্রস্তুতি না নেই তাহলে ঝুঁকি থেকে যাবে।’ বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে বুয়েটের এ সাবেক অধ্যাপক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষায় আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

১৯৭০ সালের বন্যায় ভোলায় আমাদের পাঁচ লাখ মানুষ মারা গেছেন। ১৯৮৫ সালের উড়ির চরে বন্যায় ১১ হাজার মানুষ মারা গেছেন। ১৯৯১ সালের বন্যায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এরপর আমরা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে মাস্টার প্ল্যান করি। ফলে ২০০৭ সালে সিডরে আমাদের মানুষ মৃত্যুর হার অনেক কমে আসে। সিডরের এ অভিজ্ঞতার পর ২০০৯ সালের আরেক ঘূর্ণিঝড় আইলায় ৪০০ মানুষ মারা গেছেন। ১৯৯২ সালের মাস্টার প্ল্যানকে যুগোপযোগী করতে হবে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, দেশের ৬১ শতাংশ ভূমি ও ৭১ শতাংশ মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া ৩২ শতাংশ ভূমি ও ২৭ শতাংশ মানুষ ঘূর্ণিঝড় এবং লবণাক্ততার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে ৭০ শতাংশ ভূমি ও ৮০ শতাংশ মানুষ। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯২ সালের মহাপরিকল্পনাটি যুগোপযোগী করা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী, ভবন নির্মাণে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞদের সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন জামিলুর রেজা চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ আগে ছিল ছয় ঋতুর দেশ। এখন আর ছয় ঋতু নেই। শীতের সময় শীত নেই, গরমের সময় গরম নেই। আগাম বৃষ্টি, আগাম বন্যা, আগাম শীত। কোনো জিনিসে আর তাল মেলে না। কিভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায় সেজন্য এ কনভেনশনের আয়োজন করেছি। এতে প্রায় ২ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করছেন।

সময়ের সঙ্গে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনাকে তাল মেলাতে আপনাদের সবার (অংশগ্রহণকারী) প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ কনভেনশনে বজ পাত, ভূমিকম্প, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে উল্লেখ করে কনভেনশনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আলোকে আপনারা সুচিন্তিত ও বাস্তব মতামত দেবেন। এর আলোকে আমরা আগামী দিনের পরিকল্পনা ঢেলে সাজাব।’

চলতি বছর চারটি বড় দুর্যোগ মোকাবেলা করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ চারটি দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার টন খাদ্যশস্য, নগদ ৬৭ কোটি টাকা, বাড়িঘর নির্মাণের জন্য ৭ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন ও দুই কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ৫২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চাহিদা দেয়ার ১ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে জেলা পর্যায়ে ত্রাণের বরাদ্দ পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন ত্রাণমন্ত্রী।

আজ বিকাল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেষ হবে দু’দিনব্যাপী এ জাতীয় সম্মেলন। এতে বাংলাদেশের দুর্যোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, বাস্তবায়নকারী সংস্থা, উপকারভোগী, এনজিও, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিগত কয়েকটি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন বলে শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ