০৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একনেকে উঠছে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প

  • Update Time : ০৪:৫১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একসঙ্গে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভায় প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্প তিনটি হলো—জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর), এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র জানায়, একনেকের মূল এজেন্ডায় এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। পরে এর সঙ্গে জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাপানের অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আর ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ডসহ ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪%

সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। তখন মোট ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ এবং জাইকার ঋণ থেকে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

সংশোধিত ডিপিপিতে সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ১৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং জাপানের ঋণের বরাদ্দ ১১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পুনর্গঠিত ডিপিপিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে নকশা ও দরপত্র দলিল চূড়ান্তকরণে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সময় লাগে। এতে প্যাকেজগুলোর আর্থিক দরপত্র উন্মুক্তকরণ বিলম্বিত হয়, যা পরবর্তীতে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

এমআরটি লাইন-১-এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার অংশটি সম্পূর্ণ পাতাল মেট্রোরেল হিসেবে নির্মিত হচ্ছে। এ অংশে থাকবে ১২টি পাতাল স্টেশন।

অন্যদিকে, পূর্বাচল রুটটি নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার। এ অংশে সাতটি উড়াল ও দুটি পাতাল স্টেশন থাকবে।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্নের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৮৭%

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয়ও ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ বাড়ছে। ২০১৯ সালে অনুমোদিত মূল প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুযায়ী, সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ বাড়িয়ে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা এবং জাপানের ঋণের অংশ ১৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি করিডোর নির্মাণ ও চালু করা। হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার অংশ এলিভেটেড মেট্রোরেল এবং আমিনবাজার থেকে ভাটারা অংশ আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হিসেবে নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালুর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও নতুন প্রস্তাবে ২০৩২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

### এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্নে ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার টাকা সংস্থান হবে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার ও আফতাব নগর পূর্ব হয়ে নাসিরাবাদ ও দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই রুট।

প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার যাবে মাটির নিচ দিয়ে এবং আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে উড়ালপথ।

প্রকল্পের আওতায় মেইন লাইনের সিভিল ও স্টেশন নির্মাণ, ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ব্যবস্থা স্থাপন, রেলওয়ে সিস্টেম চালু, রোলিং স্টক ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ, কনসালটেন্সি সার্ভিস, জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ করা হবে।

শুরুতে প্রকল্পটির জন্য ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে পুনর্মূল্যায়ন শেষে ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সবশেষ পর্যালোচনায় ব্যয় কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুরুতে শুধু এডিবির ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও পরে দক্ষিণ কোরিয়াও প্রকল্পটিতে যুক্ত হয়। এডিবি কনসালট্যান্সি ও সিভিল প্যাকেজে অর্থায়ন করবে এবং কো-ফাইন্যান্সার হিসেবে কোরিয়া সিস্টেম প্যাকেজে ঋণ দেবে।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে যুক্ত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা জোরদারে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

একনেকে উঠছে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প

Update Time : ০৪:৫১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একসঙ্গে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভায় প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্প তিনটি হলো—জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর), এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র জানায়, একনেকের মূল এজেন্ডায় এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। পরে এর সঙ্গে জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাপানের অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আর ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ডসহ ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪%

সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। তখন মোট ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ এবং জাইকার ঋণ থেকে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

সংশোধিত ডিপিপিতে সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ১৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং জাপানের ঋণের বরাদ্দ ১১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পুনর্গঠিত ডিপিপিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে নকশা ও দরপত্র দলিল চূড়ান্তকরণে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সময় লাগে। এতে প্যাকেজগুলোর আর্থিক দরপত্র উন্মুক্তকরণ বিলম্বিত হয়, যা পরবর্তীতে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

এমআরটি লাইন-১-এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার অংশটি সম্পূর্ণ পাতাল মেট্রোরেল হিসেবে নির্মিত হচ্ছে। এ অংশে থাকবে ১২টি পাতাল স্টেশন।

অন্যদিকে, পূর্বাচল রুটটি নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার। এ অংশে সাতটি উড়াল ও দুটি পাতাল স্টেশন থাকবে।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্নের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৮৭%

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয়ও ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ বাড়ছে। ২০১৯ সালে অনুমোদিত মূল প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুযায়ী, সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ বাড়িয়ে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা এবং জাপানের ঋণের অংশ ১৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি করিডোর নির্মাণ ও চালু করা। হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার অংশ এলিভেটেড মেট্রোরেল এবং আমিনবাজার থেকে ভাটারা অংশ আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হিসেবে নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালুর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও নতুন প্রস্তাবে ২০৩২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

### এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্নে ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার টাকা সংস্থান হবে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার ও আফতাব নগর পূর্ব হয়ে নাসিরাবাদ ও দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই রুট।

প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার যাবে মাটির নিচ দিয়ে এবং আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে উড়ালপথ।

প্রকল্পের আওতায় মেইন লাইনের সিভিল ও স্টেশন নির্মাণ, ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ব্যবস্থা স্থাপন, রেলওয়ে সিস্টেম চালু, রোলিং স্টক ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ, কনসালটেন্সি সার্ভিস, জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ করা হবে।

শুরুতে প্রকল্পটির জন্য ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে পুনর্মূল্যায়ন শেষে ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সবশেষ পর্যালোচনায় ব্যয় কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুরুতে শুধু এডিবির ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও পরে দক্ষিণ কোরিয়াও প্রকল্পটিতে যুক্ত হয়। এডিবি কনসালট্যান্সি ও সিভিল প্যাকেজে অর্থায়ন করবে এবং কো-ফাইন্যান্সার হিসেবে কোরিয়া সিস্টেম প্যাকেজে ঋণ দেবে।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে যুক্ত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা জোরদারে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ