০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না- মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির

  • Update Time : ১০:১১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট মহানগরীকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও সুশাসিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের মতো কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। শনিবার (২২ আগস্ট) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট একটি শান্তিপ্রিয় ও আধ্যাত্মিক নগরী। এখানে দল-মত নির্বিশেষে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব সামাজিক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আইন অনুযায়ী কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে যেন সাধারণ নাগরিকরা নির্ভয়ে চলাচল করতে পারেন। জবাবে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম আশ্বস্ত করে বলেন, মহানগরীর প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মেট্রোপলিটন পুলিশ তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, পিপি এডভোকেট আশিক উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা দ্বিপক্ষীয় শুল্ক নীতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, মার্কিন এই নীতির আওতায় বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রযোজ্য হলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি সর্বনিম্ন এবং রপ্তানি খাতের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। তিনি আরও জানান, ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এই প্রক্রিয়া গতিশীল করতে এফবিসিসিআই-এর সঙ্গে যৌথভাবে দুটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের সীমান্ত ল্যান্ডপোর্টগুলো দ্রুত পুরোপুরি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মুক্তমনে প্রশ্ন করার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেটে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না- মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির

Update Time : ১০:১১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট মহানগরীকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও সুশাসিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের মতো কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। শনিবার (২২ আগস্ট) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট একটি শান্তিপ্রিয় ও আধ্যাত্মিক নগরী। এখানে দল-মত নির্বিশেষে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব সামাজিক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আইন অনুযায়ী কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে যেন সাধারণ নাগরিকরা নির্ভয়ে চলাচল করতে পারেন। জবাবে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম আশ্বস্ত করে বলেন, মহানগরীর প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মেট্রোপলিটন পুলিশ তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, পিপি এডভোকেট আশিক উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা দ্বিপক্ষীয় শুল্ক নীতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, মার্কিন এই নীতির আওতায় বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রযোজ্য হলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি সর্বনিম্ন এবং রপ্তানি খাতের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। তিনি আরও জানান, ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এই প্রক্রিয়া গতিশীল করতে এফবিসিসিআই-এর সঙ্গে যৌথভাবে দুটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের সীমান্ত ল্যান্ডপোর্টগুলো দ্রুত পুরোপুরি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মুক্তমনে প্রশ্ন করার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ