০৪:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজেদের শক্তি নষ্ট করে নেতৃত্বের স্বপ্ন, এ কেমন রাজনীতি?

  • Update Time : ০৩:০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

সালেহ নজীব আল আইয়ুবী

নিজেরা করবেন কামড়াকামড়ি, জাতিকে করবেন খান খান, আবার আশা করবেন মন্ত্রীত্বের চেয়ার আমাদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে! এটা হয় কীভাবে?

যে জাতির সন্তানরা একদিন বৃটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে, আজ সেই জাতিরই একটি বড় অংশ নিজেদের শক্তি নিজেদের বিরুদ্ধে ব্যয় করছে। ফলে বাইরের মানুষ আজ আমাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনবে কেন?
আমরা পরস্পরকে দুর্বল করতে ব্যস্ত, আর অন্যরা আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে ব্যস্ত।

পৃথিবী যখন মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ব্যস্ত, আমরা তখন ব্যস্ত পাকিস্তানের কোন মৌলভী কী বললেন, ভারতের কোন আলেম কী মন্তব্য করলেন, কে কাকে বাতিল করলেন, কে কার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিলেন, এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে নতুন নতুন যুদ্ধ বাধাতে। এভাবে কোনো জাতি এগোয় না।

আফগানদের দীর্ঘ সংগ্রামের পেছনে তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগ যে বড় শক্তি ছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ঐক্য একটি জাতিকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস দেয়, বিভক্তি তাকে অন্যের করুণার পাত্র বানায়।

আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা শুধু সম্পদের অভাব নয়, বরং সম্পদ পেলেই অনেক সময় আমরা বিলাসী হয়ে যাই, (ব্রুনাইয়ের সুলতান ও মুসলিম রাজা বাদশারা এর জলন্ত প্রমান) আমরা ক্ষমতা পেলেই দাম্ভিক হয়ে উঠি, আর সামান্য প্রভাব পেলেই অন্য মুসলমানকে নিজের অধীনস্ত রাখার চেষ্টা করি। ইতিহাস আমাদের বারবার সতর্ক করেছে।

সাদ্দাম হোসাইনের পতনের সময় মুসলিম বিশ্বের অসহায় নীরবতা, মুয়াম্মার গাদ্দাফির করুণ পরিণতি কিংবা মিসরের মুহাম্মদ মুরসির পতন, এসব ঘটনা মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও পারস্পরিক বিভক্তির কঠিন বাস্তবতা সামনে এনেছে।

মতভেদ থাকতেই পারে, রাজনৈতিক মূল্যায়নও ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি বিষয় অস্বীকার করা কঠিন, মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বিভক্তি আমাদের শক্তিকে বহুবার ক্ষয় করেছে।

আজ একজন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আমরা আঙুল তুলছি, গলা ফাটাচ্ছি। প্রশ্ন হলো, শুধু অভিযোগ করে লাভ কী?
নিজেরা আগে এক হোন।
নিজেদের যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনুন। নিজেদের মধ্যকার হিংসা, অহংকার, গুতাগুতি, গোষ্ঠীগত সংকীর্ণতা ও চেয়ারকেন্দ্রিক রাজনীতির অবসান ঘটান।

যে দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ হানাফি মতাদর্শের অনুসারী, সেখানে যোগ্য আলেম-উলামা ও দ্বীনদার নেতৃত্বকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করার মতো ঐক্য ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা যদি আমরা তৈরি করতে না পারি, তাহলে শুধু আফসোস করে কী লাভ?
আজ যদি আমরা নিজেদের শক্তি নিজেদের শেষ করতে ব্যয় করি, কাল অন্যরা আমাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই স্বাভাবিক।

তাই কাউকে গালি নয়, আগে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা দরকার। কে কত বড় আলেম, কে কত বড় নেতা, এই প্রতিযোগিতার আগে ভাবতে হবে, আমরা কি একসঙ্গে দাঁড়াতে পারি? একসঙ্গে বসতে পারি? একসঙ্গে চা পান করতে পারি?

কারণ,
ঐক্যহীন উলামা শক্তিশালী হতে পারেন না, এতে আপনি যত বড় আল্লামা কিংবা যুগের শাহজালাল হোন না কেন!
ঐক্যহীন জাতি মর্যাদা ধরে রাখতে পারে না, আর বিভক্ত মুসলমানের হাতে স্বাধীন নেতৃত্বের স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যায়।

তাই চেয়ার পাওয়ার আগে যোগ্যতা ও ঐক্য অর্জন করুন।
অন্যকে সরানোর আগে নিজেদের ভেতরের দেয়ালগুলো ভাঙুন। তাহলেই হয়তো একদিন আর বলতে হবে না “আমাদের মূল্যায়ন হলো না।” বরং ইতিহাস বলবে, “তারা নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তাই তাদের উপেক্ষা করার সাহস কারও ছিল না।”

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক: রাংজিয়ল জামেয়া নজীবিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসা, নূরজাহানপুর, গোলাপগঞ্জ, সিলেট- 01860278339

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

নিজেদের শক্তি নষ্ট করে নেতৃত্বের স্বপ্ন, এ কেমন রাজনীতি?

Update Time : ০৩:০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

সালেহ নজীব আল আইয়ুবী

নিজেরা করবেন কামড়াকামড়ি, জাতিকে করবেন খান খান, আবার আশা করবেন মন্ত্রীত্বের চেয়ার আমাদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে! এটা হয় কীভাবে?

যে জাতির সন্তানরা একদিন বৃটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে, আজ সেই জাতিরই একটি বড় অংশ নিজেদের শক্তি নিজেদের বিরুদ্ধে ব্যয় করছে। ফলে বাইরের মানুষ আজ আমাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনবে কেন?
আমরা পরস্পরকে দুর্বল করতে ব্যস্ত, আর অন্যরা আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে ব্যস্ত।

পৃথিবী যখন মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ব্যস্ত, আমরা তখন ব্যস্ত পাকিস্তানের কোন মৌলভী কী বললেন, ভারতের কোন আলেম কী মন্তব্য করলেন, কে কাকে বাতিল করলেন, কে কার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিলেন, এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে নতুন নতুন যুদ্ধ বাধাতে। এভাবে কোনো জাতি এগোয় না।

আফগানদের দীর্ঘ সংগ্রামের পেছনে তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগ যে বড় শক্তি ছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ঐক্য একটি জাতিকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস দেয়, বিভক্তি তাকে অন্যের করুণার পাত্র বানায়।

আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা শুধু সম্পদের অভাব নয়, বরং সম্পদ পেলেই অনেক সময় আমরা বিলাসী হয়ে যাই, (ব্রুনাইয়ের সুলতান ও মুসলিম রাজা বাদশারা এর জলন্ত প্রমান) আমরা ক্ষমতা পেলেই দাম্ভিক হয়ে উঠি, আর সামান্য প্রভাব পেলেই অন্য মুসলমানকে নিজের অধীনস্ত রাখার চেষ্টা করি। ইতিহাস আমাদের বারবার সতর্ক করেছে।

সাদ্দাম হোসাইনের পতনের সময় মুসলিম বিশ্বের অসহায় নীরবতা, মুয়াম্মার গাদ্দাফির করুণ পরিণতি কিংবা মিসরের মুহাম্মদ মুরসির পতন, এসব ঘটনা মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও পারস্পরিক বিভক্তির কঠিন বাস্তবতা সামনে এনেছে।

মতভেদ থাকতেই পারে, রাজনৈতিক মূল্যায়নও ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি বিষয় অস্বীকার করা কঠিন, মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বিভক্তি আমাদের শক্তিকে বহুবার ক্ষয় করেছে।

আজ একজন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আমরা আঙুল তুলছি, গলা ফাটাচ্ছি। প্রশ্ন হলো, শুধু অভিযোগ করে লাভ কী?
নিজেরা আগে এক হোন।
নিজেদের যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনুন। নিজেদের মধ্যকার হিংসা, অহংকার, গুতাগুতি, গোষ্ঠীগত সংকীর্ণতা ও চেয়ারকেন্দ্রিক রাজনীতির অবসান ঘটান।

যে দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ হানাফি মতাদর্শের অনুসারী, সেখানে যোগ্য আলেম-উলামা ও দ্বীনদার নেতৃত্বকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করার মতো ঐক্য ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা যদি আমরা তৈরি করতে না পারি, তাহলে শুধু আফসোস করে কী লাভ?
আজ যদি আমরা নিজেদের শক্তি নিজেদের শেষ করতে ব্যয় করি, কাল অন্যরা আমাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই স্বাভাবিক।

তাই কাউকে গালি নয়, আগে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা দরকার। কে কত বড় আলেম, কে কত বড় নেতা, এই প্রতিযোগিতার আগে ভাবতে হবে, আমরা কি একসঙ্গে দাঁড়াতে পারি? একসঙ্গে বসতে পারি? একসঙ্গে চা পান করতে পারি?

কারণ,
ঐক্যহীন উলামা শক্তিশালী হতে পারেন না, এতে আপনি যত বড় আল্লামা কিংবা যুগের শাহজালাল হোন না কেন!
ঐক্যহীন জাতি মর্যাদা ধরে রাখতে পারে না, আর বিভক্ত মুসলমানের হাতে স্বাধীন নেতৃত্বের স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যায়।

তাই চেয়ার পাওয়ার আগে যোগ্যতা ও ঐক্য অর্জন করুন।
অন্যকে সরানোর আগে নিজেদের ভেতরের দেয়ালগুলো ভাঙুন। তাহলেই হয়তো একদিন আর বলতে হবে না “আমাদের মূল্যায়ন হলো না।” বরং ইতিহাস বলবে, “তারা নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তাই তাদের উপেক্ষা করার সাহস কারও ছিল না।”

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক: রাংজিয়ল জামেয়া নজীবিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসা, নূরজাহানপুর, গোলাপগঞ্জ, সিলেট- 01860278339

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ