০৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রবাসী প্রেমিকের বাড়ি ছাড়লেন সেই তরুণী

  • Update Time : ০৮:৩৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: ফেনীর সোনাগাজীতে ফেসবুকে প্রেমের সূত্র ধরে ওমান প্রবাসী যুবক আরিফ হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নেন নীলফামারী জেলার এক তরুণী (২২)। পরে ২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রেমিকের বাড়ি ছেড়ে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে তিনি ওই বাড়ি ত্যাগ করেন। এর আগে ১৬ জুন রাত ১১টা থেকে ওই তরুণী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের আবদুল আজিজ সারেং বাড়ির ঘরের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ঘরে ঢুকতে চাইলে ওই সময়ে ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন ওই যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা। তরুণীকে পাহারা দিয়েছিলেন ৭নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ রাকিব নামের এক যুবক। ওই তরুণীকে হানি ট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চরিত্রা ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার। ওই যুবকের আত্মীয় জাহাঙ্গীর আলম জানান, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই তরুণীকে ২০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করলে তিনি নিজ বাড়িতে চলে যান। আরিফ ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের আবদুল আজিজ সারেং বাড়ির সাহাব উদ্দিনের ছেলে। ওই তরুণীর (২২) বাড়ি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার ৭নং ওয়ার্ডে। পুলিশ, এলাকাবাসী, তরুণী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তিন বছর আগে আরিফ হোসেন জীবিকার তাগিদে ওমান যান। গত এক বছর আগে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক মাস পূর্বে আরিফ দুই মাসের ছুটিতে দেশের বাড়িতে আসেন। আরিফ দেশে আসার খবর শুনে ওই তরুণী ১৫ দিন আগে তার সঙ্গে দেখা করতে ফেনীর মহিপালে আসেন। তরুণীকে সরাসরি দেখার পর ওই যুবকের পছন্দ না হওয়ায় তাকে বুঝিয়ে তার পিতার বাড়িতে সৈয়দপুর দিয়ে আসেন ওই যুবক। সেখান থেকে নিজের বাড়িতে ফিরে আরিফ তার ফেসবুক আইডি ও মোবাইল ফোন বন্ধ করে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে শিবলু নামে এক যুবকের কাছ থেকে বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে প্রেমিক আরিফের বাড়িতে ওঠেন ওই তরুণী। তিনি ঘরে ঢুকতে চাইলে আরিফসহ তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে যান। ওই যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে সোনাগাজী মডেল থানার এসআই তপু আহমদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে যুবকের পরিবারের কোনো সদস্যকে না পেলেও তিনি তরুণীর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে ফের থানায় চলে যান। তিনি মৌখিকভাবে পাহারা দেওয়ার জন্য স্থানীয় গ্রামপুলিশ রাকিবকে নির্দেশ দেন।

এদিকে তরুণীর কারণে যুবকের পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকতে পারছেন না বলে দাবি করে তাকে হানি ট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চরিত্রা ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে ১৭ জুন বুধবার রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার। ওই তরুণী বলেন, বিয়ের কথা বলে ওই যুবক তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে গড়েছে; কিন্তু আমাকে দেখার পর থেকে বিয়ে না করার জন্য নানা টালবাহানা করছেন। আমি তার বাড়িতে আসার পর ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে তিনি তার পিতা-মাতাকে নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি তার বাড়ি ছাড়ব না। ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের লোক। ধারদেনা করে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে আমার ছেলেকে ওমান পাঠিয়েছি। এখনও কর্জ পরিশোধ করতে পারিনি। ওই তরুণী একজন হানি ট্র্যাপের সদস্য। ফেসবুকে এক সুন্দরী নারীর ছবি দিয়ে আইডি খুলে আমার ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এখন সে বিয়ের স্বপ্ন দেখছেন। আমার স্বামী মতিগঞ্জ আরএম হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোনোরকম সংসার চালায়। ভাঙা ঘরে দিনযাপন করছি। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কর্জও পরিশোধ করতে পারিনি। তাকে বিয়ে করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমার ছেলে যদি প্রেম করে কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে সে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করুক। আইনগত ব্যবস্থা নিক। আমিও আইনগত প্রতিকার পেতে থানায় লিখিত আবেদন করেছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রবাসী প্রেমিকের বাড়ি ছাড়লেন সেই তরুণী

Update Time : ০৮:৩৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: ফেনীর সোনাগাজীতে ফেসবুকে প্রেমের সূত্র ধরে ওমান প্রবাসী যুবক আরিফ হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নেন নীলফামারী জেলার এক তরুণী (২২)। পরে ২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রেমিকের বাড়ি ছেড়ে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে তিনি ওই বাড়ি ত্যাগ করেন। এর আগে ১৬ জুন রাত ১১টা থেকে ওই তরুণী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের আবদুল আজিজ সারেং বাড়ির ঘরের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ঘরে ঢুকতে চাইলে ওই সময়ে ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন ওই যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা। তরুণীকে পাহারা দিয়েছিলেন ৭নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ রাকিব নামের এক যুবক। ওই তরুণীকে হানি ট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চরিত্রা ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার। ওই যুবকের আত্মীয় জাহাঙ্গীর আলম জানান, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই তরুণীকে ২০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করলে তিনি নিজ বাড়িতে চলে যান। আরিফ ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের আবদুল আজিজ সারেং বাড়ির সাহাব উদ্দিনের ছেলে। ওই তরুণীর (২২) বাড়ি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার ৭নং ওয়ার্ডে। পুলিশ, এলাকাবাসী, তরুণী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তিন বছর আগে আরিফ হোসেন জীবিকার তাগিদে ওমান যান। গত এক বছর আগে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক মাস পূর্বে আরিফ দুই মাসের ছুটিতে দেশের বাড়িতে আসেন। আরিফ দেশে আসার খবর শুনে ওই তরুণী ১৫ দিন আগে তার সঙ্গে দেখা করতে ফেনীর মহিপালে আসেন। তরুণীকে সরাসরি দেখার পর ওই যুবকের পছন্দ না হওয়ায় তাকে বুঝিয়ে তার পিতার বাড়িতে সৈয়দপুর দিয়ে আসেন ওই যুবক। সেখান থেকে নিজের বাড়িতে ফিরে আরিফ তার ফেসবুক আইডি ও মোবাইল ফোন বন্ধ করে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে শিবলু নামে এক যুবকের কাছ থেকে বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে প্রেমিক আরিফের বাড়িতে ওঠেন ওই তরুণী। তিনি ঘরে ঢুকতে চাইলে আরিফসহ তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে যান। ওই যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে সোনাগাজী মডেল থানার এসআই তপু আহমদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে যুবকের পরিবারের কোনো সদস্যকে না পেলেও তিনি তরুণীর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে ফের থানায় চলে যান। তিনি মৌখিকভাবে পাহারা দেওয়ার জন্য স্থানীয় গ্রামপুলিশ রাকিবকে নির্দেশ দেন।

এদিকে তরুণীর কারণে যুবকের পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকতে পারছেন না বলে দাবি করে তাকে হানি ট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চরিত্রা ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে ১৭ জুন বুধবার রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার। ওই তরুণী বলেন, বিয়ের কথা বলে ওই যুবক তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে গড়েছে; কিন্তু আমাকে দেখার পর থেকে বিয়ে না করার জন্য নানা টালবাহানা করছেন। আমি তার বাড়িতে আসার পর ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে তিনি তার পিতা-মাতাকে নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি তার বাড়ি ছাড়ব না। ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের লোক। ধারদেনা করে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে আমার ছেলেকে ওমান পাঠিয়েছি। এখনও কর্জ পরিশোধ করতে পারিনি। ওই তরুণী একজন হানি ট্র্যাপের সদস্য। ফেসবুকে এক সুন্দরী নারীর ছবি দিয়ে আইডি খুলে আমার ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এখন সে বিয়ের স্বপ্ন দেখছেন। আমার স্বামী মতিগঞ্জ আরএম হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোনোরকম সংসার চালায়। ভাঙা ঘরে দিনযাপন করছি। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কর্জও পরিশোধ করতে পারিনি। তাকে বিয়ে করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমার ছেলে যদি প্রেম করে কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে সে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করুক। আইনগত ব্যবস্থা নিক। আমিও আইনগত প্রতিকার পেতে থানায় লিখিত আবেদন করেছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ