নবীগঞ্জে হাতুড়ে চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু
- Update Time : ০১:৪৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সরওয়ার শিকদার :: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় ৯ বছরের এক কিশোরীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ১ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপোষে রফদফা করা হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা না করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই কিশোরীর মরদেহ দাফন করেছে। নিহত তানহা বেগম (৯) বানিয়াচং উপজেলার ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নের গুনই গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২৭ মে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে দাঁতের ব্যথায় আক্রান্ত হয় তানহা। ওইদিন তার নানি খোসেদা খাতুন তাকে নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের ইমামবাড়ি বাজারের এক ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে ফার্মেসি ব্যবসায়ী ও কথিত দাঁতের চিকিৎসক শামসুদ্দিন কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তানহার একটি দাঁত তুলে ফেলেন। অভিযোগ রয়েছে, দাঁত তোলার পরপরই তানহার মুখ দিয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্ত বন্ধ না হওয়ায় স্বজনরা পুনরায় ফার্মেসিতে গেলে চিকিৎসক শামসুদ্দিনকে আর পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অন্য দোকান থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে গা ঢাকা দেন। পরবর্তীতে তানহার অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দিলেও আর্থিক সংকটের কারণে পরিবার তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। দীর্ঘ কয়েকদিন যন্ত্রণার পর গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে তানহা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এদিকে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হাতুড়ে ডাক্তার শামসুদ্দিনকে বাঁচাতে কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মাসুদ কোরাইশি মক্কী নগদ ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। নিহত তানহার মামা আলমগীর মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চেয়ারম্যান মক্কী ভাই বিষয়টি আপোষে মীমাংসা করে দিয়েছেন। ফলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ভাগনিকে দাফন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মাসুদ কোরাইশি মক্কী পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি, কিন্তু কিভাবে শেষ হয়েছে তা জানি না। খোঁজ নিয়ে জানাব।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত শামসুদ্দিন দাঁত তোলার কথা স্বীকার করলেও মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করতে অস্বীকার করেন এবং বর্তমানে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























