সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ১০ দফা দাবিতে মানববন্ধন
- Update Time : ০১:১৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সামর্থ্যবান ও প্রভাবশালীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে ‘সচেতন কুরবাননগর ইউনিয়নবাসী’র ব্যানারে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কুরবাননগর ইউনিয়নের অসংখ্য কৃষকের বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে স্থানীয় সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং প্রভাবশালীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকদের নাম তালিকায় ঢুকিয়েছেন। অবিলম্বে এই বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন এম এ বারি সিদ্দিকী, মাওলানা মাসুক, শাহিনুর রহমান শাহিন, কবি মাজহারুল ইসলাম, ওবায়দুল হক, সুহেল আহমদ, নূর আলম, পরান, মামুন, শফিকুল ইসলাম ও সালমানসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতি দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে তারা জেলা প্রশাসন ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো: বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তালিকা সংশোধন, ত্রাণ বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবা ও খরচের তালিকা নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ, প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছ হিসাব সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা, দুর্নীতিরোধে সরকারি অনুদান প্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তাগুলোর উন্নয়ন ও সলিং করা, জন্মনিবন্ধনসহ সকল নাগরিক সেবা প্রদানে হয়রানি বন্ধ করা, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ ও অনৈতিক লেনদেন বন্ধ করা, চাল পরিমাপে ‘বালতি প্রথা’ বাতিল করে ডিজিটাল মিটারের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং রসিদ ছাড়া যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষকরা এখন এই দুর্নীতি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।




























