৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, বরাদ্দ সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা
- Update Time : ০৬:৫৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো- সকল নাগরিককে জীবনচক্রভিত্তিক পদ্ধতিতে সুরক্ষার আওতায় আনা, যাতে দারিদ্র্য হ্রাস পায়, বৈষম্য কমে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। এই কাঠামোর মূল দর্শন হলো অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জন। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে সরকার বেশকিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যেমন-সামাজিক সুরক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকল্পে আমাদের সরকারের সিগনেচার প্রোগ্রাম ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’, যার কার্যক্রম সরকার গঠনের ১ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে পরিবারের প্রধান নারী ব্যাক্তি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে। ইতোমধ্যে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লক্ষ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং এর বিপরীতে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বৃদ্ধি করে ৬২ লাখ এবং ভাতার হার ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করছি। একইভাবে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রমের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বৃদ্ধি করে ৩০ লাখে এবং মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করছি। প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা সাড়ে ৩৪ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৮ লাখে এবং মাসিক ভাতার হার ৯০০ টাকা হতে বৃদ্ধি করে এক হাজার টাকা করার প্রস্তাব করছি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখে এবং মাসিক ভাতার হার ১০০-১৫০ টাকা বৃদ্ধি করে প্রাথমিক স্তরে ১ হাজার টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার ১০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব করছি। গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশুদের সুরক্ষার জন্য ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির’ মাধ্যমে মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বৃদ্ধি করে মোট ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন করা এবং এ খাতে ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া, ক্যানসারসহ ৬টি দুরারোগ্য ব্যাধির সহায়তা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৫ হাজারে এবং এককালীন আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়।
৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সী সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সরকারি মালিকানাধীন গণপরিবহন তথা ট্রেনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মওকুফ ও মেট্রোরেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভাড়া ২৫ শতাংশ হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। বেসরকারি কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ফান্ডের আওতায় অবসর গ্রহণকালে মোট অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করে যথাক্রমে বীরশ্রেষ্ঠ ৪০ হাজার , বীর উত্তম ৩০ হাজার, বীর বিক্রম ২৫ হাজার এবং বীর প্রতীক ২৫ হাজার টাকা করা হবে। জুলাই গণভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারদের মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে আহতদের যথাক্রমে ২০, ১৫ ও ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা অব্যাহত থাকবে। তবে ভাতাভোগীর সংখ্যা এক হাজার ৮৫৭ জন বৃদ্ধি করে ১৬ হাজার ৫১৩ জন করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া জুলাই গণভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং কর্মক্ষমতা হারানো জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের আবাসনের জন্য চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছরে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।




























