যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ডের ইন্টারভিউ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, স্বস্তিতে লক্ষাধিক বাংলাদেশি
- Update Time : ০১:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
- / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্রিনকার্ডের জন্য ‘স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট’ আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকার দেওয়ার যে নির্দেশনা সম্প্রতি জারি হয়েছিল, তা এক সপ্তাহের মাথায় সংশোধন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত বা জটিলতার মধ্যে রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ডের সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শুক্রবার (২৯ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে গ্রিনকার্ড অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ইউএসসিআইএস (USCIS) কর্মকর্তার বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা কর্মসূচি—যেমন ফুড স্ট্যাম্প বা মেডিকেয়ারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে হলে তার আবেদন বাতিল করার ক্ষমতা কর্মকর্তাদের থাকবে। এর আগে ২২ মে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের আবেদনকারীদের গ্রিনকার্ড সাক্ষাৎকারের জন্য নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর তীব্র বিরোধিতা করে। কারণ, যারা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, তারা দেশ ত্যাগ করলে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। অর্থনীতিবিদরাও সতর্ক করে বলেন, এমন কঠোর নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষ কর্মী ও সম্ভাবনাময় অভিবাসীদের হারিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এসব সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই ট্রাম্প প্রশাসন স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি-আমেরিকান অভিবাসন আইনজীবী জান্নাতুল রুমা বলেন, ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর নিজ দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
তিনি বলেন, “কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে দেশে ফিরে গেলে তিনি নির্যাতন বা ঝুঁকির মুখে পড়বেন এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী কর্মকর্তা তাতে সন্তুষ্ট হন, তাহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ”
তিনি আরও বলেন, দক্ষ কর্মী হিসেবে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের আবেদনকারীরাও আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিনকার্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আইনজীবী মঈন চৌধুরী বলেন, “স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের আবেদনকারীদের এখন দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ডের সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন। ”
বর্তমান আইনে ট্যুরিস্ট, ব্যবসায়িক বা শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিরা মার্কিন নাগরিককে বিয়ে, নাগরিক বাবা-মায়ের স্পন্সরশিপ অথবা যোগ্য কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারেন।
দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা আংশিকভাবে সংশোধন করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আবেদনকারী বা তার স্পন্সর যদি সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল অথবা দক্ষ কর্মী হিসেবে যোগ্যতা অর্জনকারীদের ক্ষেত্রে অনুমোদনের পথে বড় কোনো বাধা থাকবে না।
ইউএসসিআইএস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে ৮ লাখ ৮২ হাজার মানুষ গ্রিনকার্ড পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন। অধিকাংশই পারিবারিক কোটায় অথবা মার্কিন নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে এই সুযোগ লাভ করেছেন।
এদিকে বর্তমানে এ ধরনের আরও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানেরা ভিসা কার্যক্রমে জটিলতার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এ পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানবিরোধী দাবি করে বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো শুনানির তারিখ নির্ধারণ না হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।




























