ঈদের আগে সহায়তা চান ধানহারা কৃষক
- Update Time : ০৩:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের এক লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার বিকালে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। হাওরের ফসল হারানো কৃষক পরিবারের সদস্যরা ঈদের আগে ক্ষতিপূরণ পেতে অপেক্ষা করছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা বলেছেন, ‘এবার ধান নেই, ধান বিক্রয় করে অন্যান্য বছর ঈদের বাজার হয়, এবছর সাহায্য ছাড়া ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঈদের আনন্দে শরিক হবার সাধ্য নেই অনেকের।’ শনিবার বিকাল তিনটায় সুনামগঞ্জ শহরতলির ঝাওয়ার হাওর পাড়ের সুনামগঞ্জ পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডের হাছনবসত এলাকায় রোদ না থাকলেও বাতাসে পচা ধান শুকাচ্ছিলেন কৃষাণি সুমি বেগম (৪০)। জানালেন, এক একর জমি করেছিলেন। সবই ডুবেছে। কিছু ধান কেটেছিলেন। তাও লাগাতার বৃষ্টিতে পচে নষ্ট হয়েছে। স্বামী হাবিবুর রহমান হাওরে মাছ ধরে বিক্রয় করে যা পান তা দিয়েই সংসার চলে। বললেন, ধান হলে ৬০-৭০ মণ পাবার কথা ছিল। অন্যবছর ঈদের আগে চার পাঁচ মণ বিক্রয় করে কাপড়-চোপড় কেনাসহ অন্য বাজার হয়। এবছর ধান তো নেই, বাজার করার কোন সাধ্যও নেই। এই কৃষাণি জানালেন, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ঈদের সময় একটা কাপড় কিনে দেবার ইচ্ছে ছিল তাকে। সেটা আর হবে না এবার। ছেলেটা ছোট তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার জন্য কিছু কিনে আনতে হবে। তবে সাহায্য ছাড়া এবার আর কোন উপায় নেই। একই খলায় পচা ধান শুকানোর চেষ্টা করছিলেন জাহারুন নেছা (৩৫)। তার স্বামী হাসমত আলী এক একর ২৮ শতাংশ জমি করেছিলেন। ২৮ শতাংশের ধান কেটেছিলেন। অন্য জমির ধান পানির নীচে গেছে। এখন জমির উপরে এসে জমেছে কচুরিপানা। পচা ধানও পানির নীচ থেকে তুলে আনা সম্ভব নয়। কিছু ধান টেনে-টুনে এনেছিলেন। এগুলো শুকাচ্ছেন। এই ধানের চাল খাওয়া যাবে না। বললেন, স্বামী মাছ ধরারও কাজ করেন। কিন্তু এখন হাওরে মাছ নেই। তিন ছেলে-মেয়েসহ তাদের সংসার। খাওয়া-দাওয়া নিয়েই চিন্তা। ঈদ করবেন কীভাবে। ঈদের আগে সাহায্য পেলে কষ্ট কিছু কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা নিয়ে কষ্ট আছে কারও কারও। ওই খলায় ধান শুকাতে থাকা আরেক কিষানি জমিলা খাতুন বললেন, তার স্বামী বন্ধক এনে (টাকা ঋণ দিয়ে জমি আনা) এক একর জমি করেছিল। সবই পানির নীচে গেছে। তালিকা যারা করেছে, তারা তাদের নাম তালিকায় নেয় নি। জানিয়েছে, তোমাদের নিজের জমি নেই, তালিকায় নাম দেওয়া যাবে না।
খলায় পচা ধান শুকানোর কাজে থাকা ষাটোর্ধ্ব লুৎফুন্নেছা ও জমিলা খাতুন বললেন, হাছনবসত-কালীপুরসহ আশপাশের এলাকার যারাই ঝাওয়ার হাওরে চাষাবাদ করেছেন, তাদের মধ্যে যারা কৃষি কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করেন, তারা কেউই সাহায্য ছাড়া ঈদ করতে পারবে না। হাছনবশতের লাগায়ো গ্রাম কালীপুরের নবাব মিয়া বললেন, কালীপুর ও হাছনবশতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করেছেন বিএনপি কর্মী আজগর আলীসহ কয়েকজন। আমাদের জানামতে ক্ষতি যাদের হয়েছে, সকলেরই নাম নিয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমদ লিলু জানালেন, ক্ষতিগ্রস্ত সকল এলাকায় যারাই জমি চাষবাস করেছে এবং ক্ষতি হয়েছে, জমির মালিক হোক বা বর্গা চাষী হোক। তালিকায় তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকার কাজ সমন্বয় করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান। তিনি জানালেন, শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সকল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠিয়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় যারা জমি চাষাবাদ করেছিলেন, তাদের নামই যুক্ত হয়েছে। মার্চের শেষ দিকেই সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি শুরু হয়। অনেক হাওরে জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়। লাগাতার বৃষ্টিতে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ডুবে যায় জেলার সবকয়টি ছোট বড় হাওরের নিচু এলাকা। সরকারি হিসেবে ২০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানানো হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দাবি করেছেন নিচু এলাকার প্রায় একলাখ হেক্টর জমি পানিতে ডুবেছিল। কিছু ধান পানির নীচ থেকে কৃষকরা তুলে আনলেও রোদ না থাকায় পচে নষ্ট হয়েছে এসব ধান। সুনামগঞ্জে কৃষক আছেন প্রায় চার লাখ। এবার জমি চাষাবাদ হয়েছিল দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর।




























