সিলেট-২ আসনে ফিরতে চান বালাগঞ্জবাসী
- Update Time : ০৫:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫
- / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বালাগঞ্জ উপজেলা সিলেট-২ আসনের সাথে যুক্ত ছিল। ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নকে সিলেট-৩ আসনের সাথে যুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে উপজেলার জনদাবি উপেক্ষা করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা চরিতার্থের উদ্দেশে বালাগঞ্জকে সিলেট-৩ আসনে যুক্ত করে নেয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি প্রস্তুত করা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রস্তাবের আলোকে সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণ করে আগের সীমানায় অর্থাৎ সিলেট-২ আসনে ফেরার জোর দাবি জানিয়েছেন বালাগঞ্জের অধিবাসীরা। গত বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসির প্রকাশিত খসড়ায় অন্যান্য সংসদীয় আসনের সাথে সিলেট-৩ আসনের সীমানায় আংশিক পরিবর্তন করা হলেও বালাগঞ্জ উপজেলাকে আগের সীমানায় অর্থাৎ সিলেট-২ আসনে অধিভুক্ত না করায় অসন্তোষ ও ক্ষোভ এই উপজেলার বাসিন্দাদের। উপজেলাবাসী সিলেট-২ আসনে ফিরতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। ইসির কাছে জোর দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, যে কোনো মূল্যে এই উপজেলাকে সিলেট-২ আসনে ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় জোরালো গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। যদিও এ বিষয়ে ১০ আগস্টের মধ্যে এই আসনের পুনর্নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকার বিষয়ে ইসির কাছে লিখিত দাবি, আপত্তি, সুপারিশ ও মতামত পেশ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দীর্ঘদিন সিলেট-২ আসনের সাথে যুক্ত থাকা বালাগঞ্জের ৩টি ইউনিয়নকে সিলেট-৩ আসনের সাথে যুক্ত করা হয়। ইসির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন উপজেলার সর্বসাধারণ। আসন পূনর্বিন্যাস করে ওই ৩ টি ইউনিয়নকে সিলেট-২ আসনে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি ছিল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের। ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সীমানা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলে বালাগঞ্জের ৩টি ইউনিয়নকে সিলেট-২ আসনের সাথে পুনরায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু, অদৃশ্য ইশারায় সেই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠে।
২০১৮ সালের ১৫ মার্চ সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের প্রকাশিত খসড়া তালিকায় সিলেট-২ ও সিলেট-৩ আসনের বিষয়টি উল্লেখ না করায় ইসির কৌশলী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে, ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায় বালাগঞ্জকে সিলেট-৩ আসনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ১ এপ্রিলের মধ্যে ইসিতে পৃথকভাবে লিখিত আবেদন, অভিযোগ ও আপত্তি দাখিল করা হয়। বালাগঞ্জের অধিবাসীদের হুশিয়ারি সিলেট-২ আসনে ফিরিয়ে না নিলে নির্বাচন বর্জন শিরোনামে ৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ২৩ এপ্রিল ইসির সচিবালয়ে এ বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
বালাগঞ্জকে সিলেট-২ আসনে যুক্ত করার পক্ষে ১১২ জন এবং সিলেট-৩ আসনের সাথে রাখার পক্ষে তৎকালীন সংসদ সদস্য সামাদ কয়েসসহ ৪৯ জন নাগরিক নিজেদের আইনজীবী নিয়ে গণশুনানিতে অংশ নেন। কিন্তু স্থানীয় জনসাধারণের মতামতকে উপেক্ষা করে পুরো বালাগঞ্জকে সিলেট-৩ আসনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করে সংসদীয় আসন পুনর্গঠনের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। ওই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ কয়েস ক্ষমতার প্রভাব দিয়ে বালাগঞ্জকে সিলেট-৩ আসনে যুক্ত করিয়ে নেন। তার সাথে তৎকালীন বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের একজন জনপ্রতিনিধি ও তার অনুসারীরা সহযোগিতা করেছেন বলে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তখন মানুষের মুখে-মুখে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল উক্তি ছিল- তিন চৌধুরীর বালাগঞ্জে কেউ স্বাধীন-কেউ পরাধীন, শফিক-এহিয়াকে আউট করে মাহমুদ উস সামাদ ইন।
এ অঞ্চলের বাসিন্দারাসহ সর্বদলীয় নেতারা বলেন, ‘বালাগঞ্জকে সিলেট-২ আসনে ফিরিয়ে আনতে আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করছি। অতীতে আমরা সিলেট-২ আসনে ছিলাম আগামীতেও থাকতে চাই। আসন পরির্বতন হওয়ায় আমাদের গর্ব ও অহংকারের জায়গাটুকু নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পেশিশক্তির বলে ষড়যন্ত্র করে আমাদেরকে জোরপূর্বক অন্য আসনে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা ও ব্যক্তি স্বার্থের কথা চিন্তা করে যে বা যারা এমনটি করেছে জনগণ তাদেরকে চিহ্নিত করতে পেরেছে।’




























