০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে জমিয়ত- মজলিসের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান

  • Update Time : ০৭:২৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

{"msource":{"from":"Gallery"},"tools_used":{"crop":0,"free_crop":0,"shape_crop":0,"selection":0,"clone":0,"motion":0,"stretch":0,"curves":0,"adjust":0,"enhance":0,"resize":0,"flip_rotate":0},"total_effects_time":0,"total_editor_time":1594,"total_drawing_time":0,"total_effects_actions":0,"effects_applied":0,"total_editor_actions":{"frame":0,"mask":0,"sticker":0,"clipart":0,"lensflare":0,"callout":0,"border":0,"text":0,"shape_mask":0},"draw":{"layers_used":0,"total_draw_actions":0},"photos_added":0}

ইয়াকুব মিয়া :: সুনামগঞ্জে জমিয়ত- মজলিসের অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুঃখজনক ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সহ-প্রচার সম্পাদক ও সুলতানা পারভীন হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামীম হাফিজ মাওলানা রইস উদ্দীনের উপর শনিবার (৫ জুলাই) একটি সংগঠিত হামলা চালানো হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভতি কর হয়। ঘটনার পর তিনি নিজে যা বলেন, “আমাকে কয়েকজন লোক কল দিয়ে বলে টুকের বাজারে জমিয়তের মিটিংয়ে যেতে হবে। কিন্তু আমি বলি, আসতে পারবো না, জরুরি প্রয়োজনে সুনামগঞ্জ যেতে হবে। আমি তখন আমার মাদ্রাসায় ছিলাম। হঠাৎ করে দুইটি গাড়িতে করে ১০-১৫ জন লোক এসে হাজির হয়। তারা বলে, আমি নাকি মুরুব্বিদের কথা মানি না। এরপর তারা আমাকে ঘাড় ধরে জোর করে গাড়িতে তোলে এবং টুকের বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব সাহেবের মাদ্রাসার অফিস কক্ষে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে।” উল্লেখ্য, রোববার (৬ জুলাই) তাঁর মাদ্রাসায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একটি নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানের কথা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই সভা বানচালের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রাথমিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম দৈনিক জগন্নাথপুর পত্রিকাকে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুঃখজনক ঘটনায় জমিয়ত নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে আমাদের জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে যোগাযোগ করেন, উভয় দলের নেতৃবৃন্দের সম্মতিতে আমাদের জেলা সভাপতি মুফতি আজিজুল হকের বাসায় রোববার (৬ জুলাই) রাতে বসেন এবং আলাপ আলোচনা শেষে মাওলানা আবদুল ওয়াহাব এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আহত ভাইকে খুশি করে দোয়া করে দেন এবং চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণ করেন। এতে সবাই সন্তুষ্ট হয়ে ঘটনার নিষ্পত্তি ঘোষণা করে উভয় দলের নেতৃবৃন্দ ফেইসবুক লাইভ দেন। হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম তিনি আরো জানান, আমরা এই গঠনমূলক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাই। তবে জমিয়তের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী ভাই সহ কিছু ভাই বিষয়টাকে অরাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা অনভিপ্রেত। এই দায়হীন আচরণের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করি। আমরা জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দাবি জানাই- ঘটনার পেছনে যাঁরা সরাসরি জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

জানাগেছে, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানে উভয় দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সভাপতি মুফতি আজিজুল হক, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা দিলওয়ার হুসেন, ডা. আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সাজাওয়ার, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা ফেদাউল হক। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব, সহ-সভাপতি মাওলানা আনোয়ার বানিপুরী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তৈয়বুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা রফিক উলাশনগরী, অর্থ সম্পাদক মাওলানা নাজমুল ইসলাম জাহিদ, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রমজান আলী, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা মিজান প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জে জমিয়ত- মজলিসের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান

Update Time : ০৭:২৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

ইয়াকুব মিয়া :: সুনামগঞ্জে জমিয়ত- মজলিসের অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুঃখজনক ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সহ-প্রচার সম্পাদক ও সুলতানা পারভীন হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামীম হাফিজ মাওলানা রইস উদ্দীনের উপর শনিবার (৫ জুলাই) একটি সংগঠিত হামলা চালানো হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভতি কর হয়। ঘটনার পর তিনি নিজে যা বলেন, “আমাকে কয়েকজন লোক কল দিয়ে বলে টুকের বাজারে জমিয়তের মিটিংয়ে যেতে হবে। কিন্তু আমি বলি, আসতে পারবো না, জরুরি প্রয়োজনে সুনামগঞ্জ যেতে হবে। আমি তখন আমার মাদ্রাসায় ছিলাম। হঠাৎ করে দুইটি গাড়িতে করে ১০-১৫ জন লোক এসে হাজির হয়। তারা বলে, আমি নাকি মুরুব্বিদের কথা মানি না। এরপর তারা আমাকে ঘাড় ধরে জোর করে গাড়িতে তোলে এবং টুকের বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব সাহেবের মাদ্রাসার অফিস কক্ষে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে।” উল্লেখ্য, রোববার (৬ জুলাই) তাঁর মাদ্রাসায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একটি নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানের কথা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই সভা বানচালের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রাথমিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম দৈনিক জগন্নাথপুর পত্রিকাকে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুঃখজনক ঘটনায় জমিয়ত নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে আমাদের জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে যোগাযোগ করেন, উভয় দলের নেতৃবৃন্দের সম্মতিতে আমাদের জেলা সভাপতি মুফতি আজিজুল হকের বাসায় রোববার (৬ জুলাই) রাতে বসেন এবং আলাপ আলোচনা শেষে মাওলানা আবদুল ওয়াহাব এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আহত ভাইকে খুশি করে দোয়া করে দেন এবং চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণ করেন। এতে সবাই সন্তুষ্ট হয়ে ঘটনার নিষ্পত্তি ঘোষণা করে উভয় দলের নেতৃবৃন্দ ফেইসবুক লাইভ দেন। হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম তিনি আরো জানান, আমরা এই গঠনমূলক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাই। তবে জমিয়তের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী ভাই সহ কিছু ভাই বিষয়টাকে অরাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা অনভিপ্রেত। এই দায়হীন আচরণের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করি। আমরা জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দাবি জানাই- ঘটনার পেছনে যাঁরা সরাসরি জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

জানাগেছে, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানে উভয় দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সভাপতি মুফতি আজিজুল হক, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা দিলওয়ার হুসেন, ডা. আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সাজাওয়ার, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা ফেদাউল হক। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব, সহ-সভাপতি মাওলানা আনোয়ার বানিপুরী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তৈয়বুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা রফিক উলাশনগরী, অর্থ সম্পাদক মাওলানা নাজমুল ইসলাম জাহিদ, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রমজান আলী, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা মিজান প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ