সিলেটে মাংস বিতরণ ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের ফাঁকে নেতাদের নির্বাচনের প্রচার
- Update Time : ০৬:৩৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: দেশ নির্বাচনমুখী হতে এখনো অনেক দেরি। কিন্তু পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সিলেটে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের মতো করে নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের আড়ালে নিজেদের প্রার্থীতার জানান দিয়েছেন। বিএনপিরসহ অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রে রাখঢাক থাকলেও জামায়েতে ইসলামের এক্ষেত্রে বেশি তৎপর দেখা গেছে। তাদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে ছিল সরাসরি নির্বাচনী আবহ। সিলেট বিএনপির রাজনীতি এখন আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরে বিভক্ত। তারা দুইজনই বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্ট। ঈদুল আজহার নামাজ দুজনেই সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহে পড়েছেন। নামাজ শেষে জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন দুইজনেই। জানা যায়, সিলেটের সাবেক মেয়র ও সিলেট-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আরিফুল হক চৌধুরী ঈদুল আজহায় নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গরীব দুঃখী মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪-এর আন্দোলনে আহত নিহতদের পরিবারে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিয়েছেন। সিসিকের মেয়র না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা তার বাসায় ভিড় জমান। তিনি তাদেরও সহযোগিতা করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্যপ্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ঈদের দিন দুপুর থেকে রাত ৮টার আগ পর্যন্ত নিজের বাসায় বিএনপির নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদের আগেরদিন তিনি দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের খোঁজ নেন। বেশ কয়েকজনের বাসায়ও যান। ঈদের দিন রাত ৮টার ফ্লাইটে তিনি ঢাকা চলে যান। সিলেট-১ আসনে জামায়েতে ইসলামির ঘোষিত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানও সিলেটের শাহী ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। সেখানে তিনি দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি সিলেটের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেখানে তিনি নির্বাচনে তার প্রার্থীতা ও দলের লক্ষ্য তুলে ধরেন। ঈদের আগে থেকেই নগরের সোবহানীঘাট, সুবিধবাজারসহ বিভিন্নস্থানে তিনি বিলবোর্ডে সিলেট-১ আসনসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঈদ শুভেচ্ছা জানান। সেখানে নিজের পরিচয়ের জায়গায় সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী উল্লেখ করেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। ঈদের দুইদিন তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় কাটিয়েছেন। ফেঞ্চুগঞ্জের নূরপুরে ঈদের জামায়াত আদায়ের পর দলের নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নির্বাচনী এলাকার দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মিলিত হন। একই নির্বাচন করতে অনেক আগে থেকেই তৎপরতা চালাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার নূরুল হুদা জুনায়েদ। পারিবারিক প্রয়োজনে ঈদের আগে যুক্তরাজ্য গেলেও তিনি এলাকায় নানা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। ফেস্টুন, স্টিকারে ও ডিজিটাল মাধ্যমে নির্বাচনী আসনের মানুষকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কোরবানি যাতে দিতে পারেন সেজন্য ছাত্র জনতার আন্দোলনে শহীদ আয়াত উল্লাহর পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। পাশাপাশি শহীদ শ্রমিকদের বাসায় বাসায় মাংস পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছেন দলের পক্ষ থেকে। সিলেট-৬ আসনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী। এবারও তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশি। তিনি ঈদের পরদিন থেকে দুইদিন নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে। বিয়ানীবাজারে গ্রামের বাড়িতে ঈদের পরদিন বেলা ১১টা থেকে সারাদিন নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল। নির্বাচনী আসনের দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা সেখানে ভিড় জমান। পরদিন দুপুর পর্যন্ত শুভেচ্ছা বিনিময় চলে। পাশাপাশি বিয়ানীবাজারের আলীনগর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অসুস্থ নেতাকর্মীদের দেখতে তাদের বাড়িতে যান।




























