মাদরাসা শিক্ষকের দাফন সম্পন্ন, এলাকায় চাপা ক্ষোভ-উত্তেজনা
- Update Time : ০২:১৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ এপ্রিল ২০২২
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে এক খন্ড জমির বিরোধ নিয়ে হেমু হাউদপাড়া ও শ্যামপুর গ্রামের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় এখনও চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থল হরিপুর বাজার এলাকায় পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত চিকিৎসাধীন অন্তত ৮জনকে আটক করেছে পুলিশ। হরিপুর বাজারের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে লাশ হয়েই বাড়ি ফিরলেন হাফেজ মাওলানা সালেহ আহমদ।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) হরিপুর বাজারের জমি নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হাউদপাড়া গ্রামবাসীর নির্মম হামলায় নিহত হন তিনি।মঙ্গলবার ময়না তদন্ত শেষে বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় লাশ তার নিজ বাড়ি জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু ভাটপাড়া গ্রামে এসে পৌঁছায়। লাশ আসার খবরে স্বজনের আহাজারিতে আশপাশের বাতাস ভারি হয়ে উঠে। হাফিজ মাওলানা সালেহ আহমদের লাশ মঙ্গলবার রাত ১১ টায় তার বড় ভাই মাওলানা শামছুল ইসলামের ইমামতিতে জামেয়া দারুল উলুম হেমু মাদ্রাসা মাঠে নামাজে জানাজা শেষ তার নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিততি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সকাল থেকে হরিপুর স্টেশন বাজারে ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান পাট পরিস্কার করে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পুনরায় খুলতে শুরু করেছেন। সংঘর্ষের সময় বাজারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার পর অন্তত ১০/১২ টি দোকান ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
সোমবার ভোর রাতে বাজারের এক খন্ড জমির বিরোধ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউ/পি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ও তার গ্রামের লোকজন এবং হেমু হাউদপাড়া গ্রামের মধ্যে ১০ ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় হামলা পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করতে গিয়ে হাউদপাড়া গ্রামবাসীর হামলায় শিকার হন হাফিজ মাওলানা সালেহ আহমদ।ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। এ সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ৭৭ জনের নামোল্লেখ করে ১০০০জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে বলে জানান জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয় নি। এদিকে জানাযার নামাজে বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, হেমু মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি জিল্লুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য মুহিবুল হক মুহিব, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, ইউপি সদস্য ফারুক আহমদ ও নিহতের বড় ভাই শামছুল ইসলাম।
বক্তব্যে বক্তারা বলেন, একজন কোরআনে হাফেজকে নির্মমভাবে যারা হত্যা করেছে, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। একজন মধ্যস্ততাকারি কোরআনে হাফেজকে হত্যা করা মানে গোটা জাতিকে হত্যা করা। প্রতি বছর দু’ একটি হত্যা কান্ড এটা বদরের যুদ্ধকে হার মানায়।
সংঘর্ষের ব্যাপারে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন, ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাজারের পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। বাজার এলাকা পরিস্কার করে দোকান পাট খুলতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, হাউদপাড়া গ্রামবাসীকে আল্লাহ এতো শক্তি দিয়েছে। আজ আমার ক্রয়কৃত জমি আমি ভোগ করতে পারছি না। আমার জমিতে বালু পাথর আনলোড করতে আমি বাধা দেয়ায় আমার উপর আক্রমন করলো। আপনারা জানেন হাউদপাড়া গ্রামবাসীর কাছে পুরো ইউনিয়ন জিম্মি হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর তারা কোন না কোন গ্রামের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রোববার সংঘর্ষ থামাতে আসা হাফেজ মাওলানা সালেহ আহমদকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এর কয়েক বছর আগে হাউদপাড়া গ্রামবাসীর কাছে নিহত হন হেমু মাঝপাড়া গ্রামের লতিফ আহমদ। তাদের কাজই হলো মানুষ হত্যা করা। তিনি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হাফিজ মাওলানা সালেহ আহমদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তার শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, হরিপুর বাজার এলাকার পরিস্থিতি এখন অনেকটা শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৮জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। ময়না তদন্ত শেষ লাশ নিহতের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময়ে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় একটি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

























