ওসমানীনগরে মা-বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ দুই প্রবাসীর বিরুদ্ধে
- Update Time : ০৪:২৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের ওসমানীনগরে জাল-জালিয়াতের আশ্রয় নিয়ে ৪ বোন ও মাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে একটি চক্র। ওই চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা। রোববার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হামতনপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আহাদ ওরফে ফটিক মিয়ার স্ত্রী ও মৃত আফতাব মিয়ার মেয়ে দলা বেগম রেজিয়া।
লিখিত বক্তব্যে রেজিয়া বলেন, তারা ৪ বোন ও দুই ভাই। ভাই বশির মিয়া ও নজির মিয়া এবং দুই বোন যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। বয়োবৃদ্ধ মা যুক্তরাজ্যে বোনদের কাছেই থাকেন। তিনি বলেন, হামতনপুর গ্রামের সাইস্তা মিয়ার ছেলে মতিউর রহমানের সহযোগিতায় ভাই বশির মিয়া ও নজির মিয়া তাদেরকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে নানা কুট কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন। মতিউর স্থানীয় মুরব্বীদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে আমরা ৪ বোনসহ মায়ের নাম বাদ দিয়ে উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উত্তরাধীকারী সনদ সংগ্রহ করে। যার স্মারক নং- উমরপুর.উঃসঃ.২০১৮.১৬ (২)। সনদটি সংগ্রহ করতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন এই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশা রাণী সূত্রধর। এই জাল সনদে দেখা যায়- আমার পিতা আফতার মিয়ার উত্তরাধীকারী হিসেবে শুধুমাত্র আমার ভাই বশির মিয়া ও নজির মিয়ার নাম উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জালিয়াত চক্রের সংগ্রহ করা আরেকটি উত্তরাধীকারী সনদে দেখা যায়- আমার পিতার উত্তরাধীকারী হিসেবে আমার ভাই বশির মিয়া ও নজির মিয়ার নাম রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে আমার বোন লায়লা বেগমকে মৃত ও অবিবাহিত উল্লেখ করা হয়েছে। জালিয়াতি উত্তরাধীকারী সনদ দিয়ে মতিউরের মাধ্যমে জেলা-সিলেট, থানা- ওসমানীনগর, জে.এল নং- ৭৫ স্থিত গ্রামতলা মৌজার বিএস ৩৭০নং খতিয়ানের ১৪৮৭নং দাগের ০.০৩ একর এবং বি.এস ৪৫নং খতিয়ানের ১৪৮৩দাগে ০.০২৫০ একর ভূমিসহ আমার পিতা আফতার মিয়ার রেখে যাওয়া বিশাল ভূ-সম্পত্তি থেকে আমাদেরকে বাদ দিয়ে বশির মিয়া ও নজির মিয়ার নামে নামজারী করে নেয়।
রেজিয়া বলেন, প্রতারনামূলকভাবে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়টি আমরা জানতে পেরে উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহফুজুল হক আকলুকে বিষয়টি অবহিত করি। পরবর্তীতে যাচাইবাছাই করে আমাদেরকে পূর্ণাঙ্গ উত্তরাধীকারী সনদ প্রদান করেন চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া। সেই সনদ হাতে আসার পর জালিয়াত চক্রের নামজারী বাতিলের দাবিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিলেট-এর বরাবরে আপত্তিপত্র (আপলি) দাখিল করি। জালিয়াতির ঘটনা উল্লেখ করে আমি বাদি হয়ে বশির মিয়া, নজির মিয়া এবং তাদের সহযোগী মতিউর রহমান ও ইউপি সদস্য আশা রাণী সূত্রধরকে অভিযুক্ত করে সিলেট আদালতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করি। বর্তমানে এই মামলাটি সিআইডির কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, মতিউর ভুয়া আমমোক্তারনামার দাবি করে আমাদের সমুদয় পৈত্রিক সম্পত্তির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। বিগত দুই বছরে মতিউর জোর পূর্বক আমাদের বাজার এলাকায় থাকা বাসা-দোকান ভাড়া, জমির ধান, বাড়ির গাছ ও পুকুরের মাছ আত্মসাৎ করে নিয়েছে। প্রতিবাদ করলে সে আমাকে প্রণনাশের হুমকিসহ নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। কোনো উপায়ান্তর না দেখে আমি আমার বোনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েও তার হুমকি থেকে বাঁচতে পারছি না। সে প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে আমার বৃদ্ধ মা ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী দুই বোন দেশে আসলে তাদেরকে জীবিত অবস্থায় বিদেশে যেতে দেবে না। সম্প্রতি মতিউর ও তার পিতা সাইস্তা মিয়া তাদের সহযোগি সন্ত্রাসীদের নিয়ে জোর পূর্বক আমাদের বসত বাড়িতে থাকা পুকুরের মাছ লুট ও জমির ধান কেটে নিয়ে যায়। এঘটনায় গ্রামের আনছর মিয়া প্রতিবাদ করলে মতিউর ও তার পিতা সাইস্তা মিয়া আনছর মিয়ার উপর হামলা করে তাকে পিটিয়ে আহত করে। মতিউরের কর্মকান্ডের বিচার পাওয়া তো দূরের কথা উল্টো সে উপজেলা যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে থানা পুলিশের কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে গ্রামের নিরিহ লোকজনের নামে থানায় জিডি করে হয়রানি করে আসছে। রেজিয়া বলেন, মতিউর অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি। ২০০৯ সালে গোয়ালাবাজারে অস্ত্র বিক্রিকালে র্যাব-৯ এর সদস্যরা অস্ত্রসহ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলা বেগম রেজিয়া তার পিতার রেখে যাওয়া বিশাল ভূ-সম্পত্তি রক্ষাসহ এলাকার সাধারণ মানুষকে মতিউরের নির্যাতন থেকে রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।





























