০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বছরে সেরা ১০ দিন শুরু হচ্ছে— এই আমলগুলো বদলে দিতে পারে আপনার জীবন

  • Update Time : ০১:৪৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: মানুষের জীবনে কিছু সময় আসে, যা আল্লাহ তাআলা বিশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমার জন্য নির্ধারণ করে দেন। জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন তেমনই এক মহামূল্যবান সময়— যে দিনগুলোকে রাসুলুল্লাহ (সা.) পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই দিনগুলোতে একটি ছোট নেক আমলও আল্লাহর কাছে বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, গুনাহ মাফ হয় এবং বান্দার মর্যাদা উন্নীত হয়।

আজকের ব্যস্ত জীবন, দুনিয়ার অস্থিরতা আর গুনাহে আচ্ছন্ন পরিবেশের মাঝে এই দশ দিন একজন মুমিনের জন্য হতে পারে আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং জান্নাতের পথে ফিরে আসার সুবর্ণ সুযোগ। তাই সচেতন মুমিনের উচিত এই দিনগুলোকে অবহেলায় না কাটিয়ে ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলে ভরিয়ে তোলা। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالْفَجْرِ ۝ وَلَيَالٍ عَشْرٍ

‘শপথ ভোরবেলার, এবং শপথ দশ রাতের।’ (সুরা আল-ফজর: আয়াত ১–২)

মুফাসসিরগণ বলেন, এখানে ‘দশ রাত’ বলতে জিলহজের প্রথম দশ রাতকে বোঝানো হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ

‘এমন কোনো দিন নেই, যে দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে (জিলহজ মাসের) এই দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।’ (বুখারি ৯৬৯)

 

জিলহজের প্রথম দশ দিনের করণীয় আমলসমূহ—

১️. বেশি বেশি তাকবির ও তাহলিল পড়ুন

এই দিনগুলোতে আল্লাহর জিকির বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ। বেশি বেশি পড়ুন—

> اللّٰهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবার’

অর্থ: ‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।’

> لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ

উচ্চারণ: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’

অর্থ: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।’

> الْحَمْدُ لِلّٰهِ

উচ্চারণ: ‘আলহামদুলিল্লাহ’

অর্থ: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।’

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ

‘তারা যেন নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।’ (সুরা আল-হাজ: আয়াত ২৮)

২️. সময়মতো নামাজ আদায় করুন

নামাজ মুমিনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এই বরকতময় দিনগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

أَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا

‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সময়মতো নামাজ আদায় করা।’ (বুখারি ৫২৭)

৩️. প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করুন

কুরআন মানুষের অন্তরকে জীবিত করে। এই দিনগুলোতে প্রতিদিন কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্ধারণ করুন। আল্লাহ বলেন—

إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ

‘নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ দেখায়, যা সবচেয়ে সরল ও সঠিক।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৯)

৪️. অল্প হলেও সদকা করুন

সদকা মানুষের বিপদ দূর করে এবং সম্পদে বরকত আনে। অল্প দানও আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ

‘এক টুকরো খেজুর দান করে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো।’ (বুখারি ১৪১৭)

৫️. সামর্থ্য থাকলে প্রথম নয় দিন রোজা রাখুন

জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখার ফজিলত অনেক বেশি। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ

‘আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি এর মাধ্যমে আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করবেন।’ (মুসলিম ১১৬২)

৬️. বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করুন

এই দিনগুলো দোয়া কবুলের উত্তম সময়। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চান। আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا

‘আমি বললাম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০)

৭️. মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করুন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখুন

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا

‘আর পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত ৮৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ

‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং আয়ুতে বরকত হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি ৫৯৮৬)

৮️. নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন

দরুদ মানুষের অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا

‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।’ (মুসলিম ৪০৮)

জিলহজের প্রথম দশ দিন একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলোর একটি। এই দিনগুলোতে সামান্য ইবাদতও আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় হয়ে ওঠে। তাই দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝে এই মহামূল্যবান সময়কে অবহেলা না করে ইবাদত, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত, সদকা ও তওবায় নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

মনে রাখবেন, এই দিনগুলো বারবার আসে না। হয়তো এটাই হতে পারে আপনার জীবনের সেই সময়, যখন আল্লাহ আপনার গুনাহ মাফ করে দেবেন, মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং হৃদয়কে বদলে দেবেন।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে জিলহজের প্রথম দশ দিনের মর্যাদা বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন। আমিন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বছরে সেরা ১০ দিন শুরু হচ্ছে— এই আমলগুলো বদলে দিতে পারে আপনার জীবন

Update Time : ০১:৪৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: মানুষের জীবনে কিছু সময় আসে, যা আল্লাহ তাআলা বিশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমার জন্য নির্ধারণ করে দেন। জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন তেমনই এক মহামূল্যবান সময়— যে দিনগুলোকে রাসুলুল্লাহ (সা.) পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই দিনগুলোতে একটি ছোট নেক আমলও আল্লাহর কাছে বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, গুনাহ মাফ হয় এবং বান্দার মর্যাদা উন্নীত হয়।

আজকের ব্যস্ত জীবন, দুনিয়ার অস্থিরতা আর গুনাহে আচ্ছন্ন পরিবেশের মাঝে এই দশ দিন একজন মুমিনের জন্য হতে পারে আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং জান্নাতের পথে ফিরে আসার সুবর্ণ সুযোগ। তাই সচেতন মুমিনের উচিত এই দিনগুলোকে অবহেলায় না কাটিয়ে ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলে ভরিয়ে তোলা। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالْفَجْرِ ۝ وَلَيَالٍ عَشْرٍ

‘শপথ ভোরবেলার, এবং শপথ দশ রাতের।’ (সুরা আল-ফজর: আয়াত ১–২)

মুফাসসিরগণ বলেন, এখানে ‘দশ রাত’ বলতে জিলহজের প্রথম দশ রাতকে বোঝানো হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ

‘এমন কোনো দিন নেই, যে দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে (জিলহজ মাসের) এই দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।’ (বুখারি ৯৬৯)

 

জিলহজের প্রথম দশ দিনের করণীয় আমলসমূহ—

১️. বেশি বেশি তাকবির ও তাহলিল পড়ুন

এই দিনগুলোতে আল্লাহর জিকির বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ। বেশি বেশি পড়ুন—

> اللّٰهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবার’

অর্থ: ‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।’

> لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ

উচ্চারণ: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’

অর্থ: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।’

> الْحَمْدُ لِلّٰهِ

উচ্চারণ: ‘আলহামদুলিল্লাহ’

অর্থ: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।’

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ

‘তারা যেন নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।’ (সুরা আল-হাজ: আয়াত ২৮)

২️. সময়মতো নামাজ আদায় করুন

নামাজ মুমিনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এই বরকতময় দিনগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

أَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا

‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সময়মতো নামাজ আদায় করা।’ (বুখারি ৫২৭)

৩️. প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করুন

কুরআন মানুষের অন্তরকে জীবিত করে। এই দিনগুলোতে প্রতিদিন কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্ধারণ করুন। আল্লাহ বলেন—

إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ

‘নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ দেখায়, যা সবচেয়ে সরল ও সঠিক।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৯)

৪️. অল্প হলেও সদকা করুন

সদকা মানুষের বিপদ দূর করে এবং সম্পদে বরকত আনে। অল্প দানও আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ

‘এক টুকরো খেজুর দান করে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো।’ (বুখারি ১৪১৭)

৫️. সামর্থ্য থাকলে প্রথম নয় দিন রোজা রাখুন

জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখার ফজিলত অনেক বেশি। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ

‘আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি এর মাধ্যমে আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করবেন।’ (মুসলিম ১১৬২)

৬️. বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করুন

এই দিনগুলো দোয়া কবুলের উত্তম সময়। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চান। আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا

‘আমি বললাম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০)

৭️. মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করুন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখুন

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا

‘আর পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত ৮৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ

‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং আয়ুতে বরকত হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি ৫৯৮৬)

৮️. নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন

দরুদ মানুষের অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا

‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।’ (মুসলিম ৪০৮)

জিলহজের প্রথম দশ দিন একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলোর একটি। এই দিনগুলোতে সামান্য ইবাদতও আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় হয়ে ওঠে। তাই দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝে এই মহামূল্যবান সময়কে অবহেলা না করে ইবাদত, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত, সদকা ও তওবায় নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

মনে রাখবেন, এই দিনগুলো বারবার আসে না। হয়তো এটাই হতে পারে আপনার জীবনের সেই সময়, যখন আল্লাহ আপনার গুনাহ মাফ করে দেবেন, মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং হৃদয়কে বদলে দেবেন।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে জিলহজের প্রথম দশ দিনের মর্যাদা বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন। আমিন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ