০৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসমানীনগরে প্রভাবশালীদের দখলে সরকারী খাল, পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ

  • Update Time : ০৩:৫২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সামান্য বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতায় পড়তে হচ্ছে সিলেটের ওসমানীনগরের সাদিপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে। পানি নিস্কাশনের একমাত্র গোপাট রখমের নালা খালটি প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় গত ৩ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে তাদের বিড়ম্বনার শেষ নেই।

 

জানা যায়, সাদিপুর ইউনিয়নের পূর্বতাজপুর, সৈয়দপুর এলাকার প্রায় ৬শত পরিবার সামান্য বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বাড়ির উঠোন থেকে শুরু করে রাস্তঘাট ডুবে যাওয়ায় তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা দূরুহ হয়ে পড়ে। কুশিয়ারা নদীর ২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ খাল গ্রামগুলোর মধ্যদিয়ে কুড়িরবিলে পতিত হয়েছে। বৃষ্টির পানি এ খাল দিয়েই নির্গত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে প্রভাবশালীরা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করায় এক সময়ের ২০ থেকে ২৫ ফুট প্রস্থের খালটি স্থানে স্থানে সংকুচিত হয়ে কোথাও ৩ ফুটে এসে ঠেকেছে। অনেক জায়গায় সিমেন্টের রিং বসিয়ে খাল দখলে নেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রায় ৩ বছর পূর্বে এলাকার কালনীরচর, সুন্দিখলাকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে কুশিয়ারা ডাইক সামান্য উঁচু করা হলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। বন্যার পানিতো আছেই তার সাথে সামান্যবৃষ্টিতে পূর্বতাজপুর, সৈয়দপুর গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা পানিবন্দী হয়ে পড়েন।

 

সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল আলী বলেন,কি রকম দুর্ভোগে আমরা রয়েছি তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তা ঘাট-বাড়ির উঠান সবদিকে পানিবন্দী হয়ে পড়ি। পঁচা পানি ঠেলে মসজিদেও যেতে হচ্ছে। বছরের পর বছর এমন চললেও দুর্ভোগ নিরসনে কেউ এগিয়ে আসেনি।

 

স্থানীয় শামীম আহমদ জানান, তার বাড়ির উঠানে হাঁটুপানি। ২ কিলোমিটার দৈর্ঘের সরকারি খাল অন্তত অর্ধশতাধিক স্থানে দখল করে রাখা হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা লেগে থাকে।

 

পূর্বতাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহমদ আলী বলেন, জলাবদ্ধার হাত থেকে রেহাই পেতে আমরা স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের স্মরণাপন্ন হয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কেউই কোন উদ্যোগ নেননি। পরবর্তীতে গত ১৮ জুন আমরা সরকারী খাল উদ্ধার করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি।৮ নং ওয়ার্ডের ইউপির সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিকার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা বার বার ব্যর্থ হয়েছে।

 

স্থানীয় চেয়ারম্যান হাজী আব্দুর রব বলেন, অবৈধ দখলের কারণে খালের স্থানে স্থানে পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্ষা শেষ হলে এলাকার পানি যাওয়ার পথ স্বাভাবিক রাখতে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে।

 

 

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা বেগম বলেন, ভূক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করেছি। সরকারী জায়গা চিহ্নিত করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ওসমানীনগরে প্রভাবশালীদের দখলে সরকারী খাল, পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ

Update Time : ০৩:৫২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সামান্য বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতায় পড়তে হচ্ছে সিলেটের ওসমানীনগরের সাদিপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে। পানি নিস্কাশনের একমাত্র গোপাট রখমের নালা খালটি প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় গত ৩ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে তাদের বিড়ম্বনার শেষ নেই।

 

জানা যায়, সাদিপুর ইউনিয়নের পূর্বতাজপুর, সৈয়দপুর এলাকার প্রায় ৬শত পরিবার সামান্য বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বাড়ির উঠোন থেকে শুরু করে রাস্তঘাট ডুবে যাওয়ায় তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা দূরুহ হয়ে পড়ে। কুশিয়ারা নদীর ২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ খাল গ্রামগুলোর মধ্যদিয়ে কুড়িরবিলে পতিত হয়েছে। বৃষ্টির পানি এ খাল দিয়েই নির্গত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে প্রভাবশালীরা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করায় এক সময়ের ২০ থেকে ২৫ ফুট প্রস্থের খালটি স্থানে স্থানে সংকুচিত হয়ে কোথাও ৩ ফুটে এসে ঠেকেছে। অনেক জায়গায় সিমেন্টের রিং বসিয়ে খাল দখলে নেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রায় ৩ বছর পূর্বে এলাকার কালনীরচর, সুন্দিখলাকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে কুশিয়ারা ডাইক সামান্য উঁচু করা হলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। বন্যার পানিতো আছেই তার সাথে সামান্যবৃষ্টিতে পূর্বতাজপুর, সৈয়দপুর গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা পানিবন্দী হয়ে পড়েন।

 

সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল আলী বলেন,কি রকম দুর্ভোগে আমরা রয়েছি তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তা ঘাট-বাড়ির উঠান সবদিকে পানিবন্দী হয়ে পড়ি। পঁচা পানি ঠেলে মসজিদেও যেতে হচ্ছে। বছরের পর বছর এমন চললেও দুর্ভোগ নিরসনে কেউ এগিয়ে আসেনি।

 

স্থানীয় শামীম আহমদ জানান, তার বাড়ির উঠানে হাঁটুপানি। ২ কিলোমিটার দৈর্ঘের সরকারি খাল অন্তত অর্ধশতাধিক স্থানে দখল করে রাখা হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা লেগে থাকে।

 

পূর্বতাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহমদ আলী বলেন, জলাবদ্ধার হাত থেকে রেহাই পেতে আমরা স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের স্মরণাপন্ন হয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কেউই কোন উদ্যোগ নেননি। পরবর্তীতে গত ১৮ জুন আমরা সরকারী খাল উদ্ধার করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি।৮ নং ওয়ার্ডের ইউপির সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিকার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা বার বার ব্যর্থ হয়েছে।

 

স্থানীয় চেয়ারম্যান হাজী আব্দুর রব বলেন, অবৈধ দখলের কারণে খালের স্থানে স্থানে পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্ষা শেষ হলে এলাকার পানি যাওয়ার পথ স্বাভাবিক রাখতে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে।

 

 

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা বেগম বলেন, ভূক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করেছি। সরকারী জায়গা চিহ্নিত করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ