০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের মানহানি, হবিগঞ্জ থেকে ফেসবুক হ্যাকার আটক

  • Update Time : ০৬:২২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • / ৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: পেশায় তিনি র‍্যাব অফিসার(!)। র‍্যাবের ডিএডি পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে ঘিরেই তার অপরাধ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি। তার শিকারের আওতা থেকে বাদ যান না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, মিডিয়া কর্মী, দেশজুড়ে পরিচিত সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী কিংবা আটপৌরে জীবনযাপনকারী সাধারণ একজন চাকুরজীবী বা গৃহিণীও। একের পর এক ব্যক্তিকে টার্গেট করে ফেসবুক আইডি হ্যাক, ভিডিও ও ছবি জালিয়াতি, র‍্যাব কর্মকর্তা সেজে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায়, পর্নোগ্রাফি ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চরিত্রহননের মাধ্যমে অকল্পনীয় সব উপায়ে সাইবার অপরাধ সংঘটন করেন তিনি।

থ্রিলারকে হার মানানো অবিশ্বাস্য প্রতারণা কৌশল প্রয়োগ করে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য ভুক্তভোগী মানুষের লাখলাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর অবশেষে র‍্যাবের জালে আটকা পড়লেন পেশাদার সাইবার অপরাধী ও অনলাইন ভিত্তিক প্রতারক চক্রের হোতা মাহফুজুর রহমান নবিন ( ২৮)।
আটক নবিন হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানাধীন মোহাম্মদ নগর (তিতারকোনা) গ্রামের মৃত ইজাজুর রহমানের ছেলে। বুধবার র‍্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার ( এএসপি) মোঃ আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে পার্শ্ববর্তী আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

 

 

র‍্যাব সূত্র জানায়, টার্গেট করার ক্ষেত্রে নারীদেরকেই তিনি সাধারণত প্রাধান্য দিতেন। ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পর প্রথমে তিনি আইডির মালিককে মানসিক চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইডিতে থাকা একান্ত ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টস বিভিন্ন জনকে পাঠিয়ে দিতে থাকেন।

তারপর ধারাহিকভাবে হ্যাককৃত আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন, সম্ভাব্য সকল উপায়ে আইডির মালিকের সম্মান বিনষ্ট করা এবং সবশেষে এই আইডিগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন মুখী, বিচিত্র প্রতারণার জাল বিস্তার।
র‍্যাবের দাবি অনুযায়ী, আটক নবিন অসংখ্য নারীকে টার্গেট করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে তাদের মাথা জুড়ে দিয়ে ছবি ও ভিডিও নির্মানের মাধ্যমে তাদের চরিত্র হনন এবং তাদেরকে ব্ল্যাকমেইলিং এ জড়িত। এভাবে তিনি স্বামী-স্ত্রী / প্রেমিক- প্রেমিকার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতেন। পরিকল্পিতভাবে ভেঙ্গে দিতেন দীর্ঘ দিনের সাজানো সংসার।
এছাড়াও টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ফরমায়েশ নিয়েও তিনি এই কাজটি করতেন। তার ছবি বিকৃতির তালিকা হতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা বিদেশি সরকার প্রধানেরাও বাদ পড়েন নি। এছাড়াও অনলাইনে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে বিষোদগার ও কুরুচিপুর্ণ মন্তব্য তার কাছে নৈমিত্তিক ব্যাপার বলে জানা যায়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের মানহানি, হবিগঞ্জ থেকে ফেসবুক হ্যাকার আটক

Update Time : ০৬:২২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট :: পেশায় তিনি র‍্যাব অফিসার(!)। র‍্যাবের ডিএডি পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে ঘিরেই তার অপরাধ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি। তার শিকারের আওতা থেকে বাদ যান না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, মিডিয়া কর্মী, দেশজুড়ে পরিচিত সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী কিংবা আটপৌরে জীবনযাপনকারী সাধারণ একজন চাকুরজীবী বা গৃহিণীও। একের পর এক ব্যক্তিকে টার্গেট করে ফেসবুক আইডি হ্যাক, ভিডিও ও ছবি জালিয়াতি, র‍্যাব কর্মকর্তা সেজে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায়, পর্নোগ্রাফি ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চরিত্রহননের মাধ্যমে অকল্পনীয় সব উপায়ে সাইবার অপরাধ সংঘটন করেন তিনি।

থ্রিলারকে হার মানানো অবিশ্বাস্য প্রতারণা কৌশল প্রয়োগ করে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য ভুক্তভোগী মানুষের লাখলাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর অবশেষে র‍্যাবের জালে আটকা পড়লেন পেশাদার সাইবার অপরাধী ও অনলাইন ভিত্তিক প্রতারক চক্রের হোতা মাহফুজুর রহমান নবিন ( ২৮)।
আটক নবিন হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানাধীন মোহাম্মদ নগর (তিতারকোনা) গ্রামের মৃত ইজাজুর রহমানের ছেলে। বুধবার র‍্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার ( এএসপি) মোঃ আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে পার্শ্ববর্তী আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

 

 

র‍্যাব সূত্র জানায়, টার্গেট করার ক্ষেত্রে নারীদেরকেই তিনি সাধারণত প্রাধান্য দিতেন। ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পর প্রথমে তিনি আইডির মালিককে মানসিক চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইডিতে থাকা একান্ত ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টস বিভিন্ন জনকে পাঠিয়ে দিতে থাকেন।

তারপর ধারাহিকভাবে হ্যাককৃত আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন, সম্ভাব্য সকল উপায়ে আইডির মালিকের সম্মান বিনষ্ট করা এবং সবশেষে এই আইডিগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন মুখী, বিচিত্র প্রতারণার জাল বিস্তার।
র‍্যাবের দাবি অনুযায়ী, আটক নবিন অসংখ্য নারীকে টার্গেট করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে তাদের মাথা জুড়ে দিয়ে ছবি ও ভিডিও নির্মানের মাধ্যমে তাদের চরিত্র হনন এবং তাদেরকে ব্ল্যাকমেইলিং এ জড়িত। এভাবে তিনি স্বামী-স্ত্রী / প্রেমিক- প্রেমিকার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতেন। পরিকল্পিতভাবে ভেঙ্গে দিতেন দীর্ঘ দিনের সাজানো সংসার।
এছাড়াও টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ফরমায়েশ নিয়েও তিনি এই কাজটি করতেন। তার ছবি বিকৃতির তালিকা হতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা বিদেশি সরকার প্রধানেরাও বাদ পড়েন নি। এছাড়াও অনলাইনে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে বিষোদগার ও কুরুচিপুর্ণ মন্তব্য তার কাছে নৈমিত্তিক ব্যাপার বলে জানা যায়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ