১১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানুষ ও কুকুরের অনন্য বন্ধন

  • Update Time : ০৪:৪২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯
  • / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: প্রাণীর মধ্যে কুকুর খুবই প্রভুভক্ত। কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করে না।

 

এমনকি বিপদের মুহূর্তে কখনো ছেড়ে চলে যায় না। প্রভুর জন্য এরা যেমন প্রাণ দিতে পারে, তেমনি কারো প্রাণ নিতেও পারে। এমন দৃষ্টান্ত বিরলও নয়। কুকুর ও মানুষের ভালোবাসার অনন্য এক বন্ধন দেখা গেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এলাকায়।

 

ভালোবাসা ছাড়া কুকুর ও প্রভুর মধ্যে দেওয়া-নেওয়ার আর কোনো সম্পর্ক নেই। যাঁকে প্রভু হিসেবে দেখা যায় তিনি নিজে এক ভবঘুরে। চতুষ্পদী এ প্রাণীদের দেওয়ার মতো খাবারও তিনি জোগাড় করতে পারেন না। কিন্তু তাতে কী? বন্ধুত্ব তো আছে, কুকুরগুলো তাতেই খুশি।

 

ভবঘুরে এই বন্ধুটি হলেন পিয়াস।

এ ছাড়া যুবকটির আর কোনো পরিচয় জানা যায় না। তাঁর সঙ্গে জুটেছে বেওয়ারিশ ৩০টি কুকুর। সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে এদের ঠাঁই হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে। সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাটিতে বসে আছেন পিয়াস। আর কুকুরগুলো তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে আছে। পিয়াস কুকুরের মুখে ঠোঁট লাগিয়ে আদর করছেন, মাঝেমধ্যে কুকুরগুলোর সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠছেন। এভাবেই কুকুরগুলোর সঙ্গে চলছে তাঁর খুনসুটি। পিয়াস ঘরে থাকলে ওরাও ঘরে থাকে। তিনি বাইরে বের হলে ওরাও তাঁর পিছু নেয়। অবশ্য খাবার সংগ্রহের প্রয়োজনে অনেক সময় ওদের ঘরে আটকে রেখে বাইরে বের হন পিয়াস।

 

শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রায়হান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে তাঁর কার্যালয় এলাকায় পিয়াস নামের এই যুবকের আবির্ভাব ঘটে। পিয়াস নাম ছাড়া কোনো কিছুই বলতে পারেন না তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছে বেওয়ারিশ ৩০টি কুকুর। কুকুরগুলোর চলাফেরায় মনে হয় পিয়াস ওদের প্রভু। এসব কুকুরকে সাধ্যমতো সেবাযত্ন করেন পিয়াস।

 

ডা. রায়হান বলছিলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁর দপ্তরের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে পিয়াস ও কুকুরগুলোর থাকার ব্যবস্থা করে দেন তিনি। শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিদিন পিয়াস ও কুকুরের খাবারের জন্য সামান্য পরিমাণ টাকাও দেন তিনি। পিয়াসও সারা দিন বাইরে ঘুরে, চেয়ে-চিন্তে টাকা আনেন। সেই টাকায় খাবার কিনে ঘরে ফিরে নিজে খান এবং কুকুরগুলোকেও খাওয়ান।

 

এ বিষয়ে কলামিস্ট রেজাউল হক মিন্টু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা নতুন নয়। আদিম যুগ থেকে মানুষ যখন বন্য পশুকে পোষ মানিয়েছে, তখন থেকেই এ সম্পর্কের সূচনা। তবে মানুষের মতো কৌশলী নয় বলেই ভালোবাসার প্রতিদানে পোষা প্রাণীর

 

নিবেদন বা আত্মত্যাগের কাহিনিগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মানুষ ও কুকুরের অনন্য বন্ধন

Update Time : ০৪:৪২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: প্রাণীর মধ্যে কুকুর খুবই প্রভুভক্ত। কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করে না।

 

এমনকি বিপদের মুহূর্তে কখনো ছেড়ে চলে যায় না। প্রভুর জন্য এরা যেমন প্রাণ দিতে পারে, তেমনি কারো প্রাণ নিতেও পারে। এমন দৃষ্টান্ত বিরলও নয়। কুকুর ও মানুষের ভালোবাসার অনন্য এক বন্ধন দেখা গেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এলাকায়।

 

ভালোবাসা ছাড়া কুকুর ও প্রভুর মধ্যে দেওয়া-নেওয়ার আর কোনো সম্পর্ক নেই। যাঁকে প্রভু হিসেবে দেখা যায় তিনি নিজে এক ভবঘুরে। চতুষ্পদী এ প্রাণীদের দেওয়ার মতো খাবারও তিনি জোগাড় করতে পারেন না। কিন্তু তাতে কী? বন্ধুত্ব তো আছে, কুকুরগুলো তাতেই খুশি।

 

ভবঘুরে এই বন্ধুটি হলেন পিয়াস।

এ ছাড়া যুবকটির আর কোনো পরিচয় জানা যায় না। তাঁর সঙ্গে জুটেছে বেওয়ারিশ ৩০টি কুকুর। সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে এদের ঠাঁই হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে। সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাটিতে বসে আছেন পিয়াস। আর কুকুরগুলো তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে আছে। পিয়াস কুকুরের মুখে ঠোঁট লাগিয়ে আদর করছেন, মাঝেমধ্যে কুকুরগুলোর সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠছেন। এভাবেই কুকুরগুলোর সঙ্গে চলছে তাঁর খুনসুটি। পিয়াস ঘরে থাকলে ওরাও ঘরে থাকে। তিনি বাইরে বের হলে ওরাও তাঁর পিছু নেয়। অবশ্য খাবার সংগ্রহের প্রয়োজনে অনেক সময় ওদের ঘরে আটকে রেখে বাইরে বের হন পিয়াস।

 

শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রায়হান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে তাঁর কার্যালয় এলাকায় পিয়াস নামের এই যুবকের আবির্ভাব ঘটে। পিয়াস নাম ছাড়া কোনো কিছুই বলতে পারেন না তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছে বেওয়ারিশ ৩০টি কুকুর। কুকুরগুলোর চলাফেরায় মনে হয় পিয়াস ওদের প্রভু। এসব কুকুরকে সাধ্যমতো সেবাযত্ন করেন পিয়াস।

 

ডা. রায়হান বলছিলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁর দপ্তরের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে পিয়াস ও কুকুরগুলোর থাকার ব্যবস্থা করে দেন তিনি। শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিদিন পিয়াস ও কুকুরের খাবারের জন্য সামান্য পরিমাণ টাকাও দেন তিনি। পিয়াসও সারা দিন বাইরে ঘুরে, চেয়ে-চিন্তে টাকা আনেন। সেই টাকায় খাবার কিনে ঘরে ফিরে নিজে খান এবং কুকুরগুলোকেও খাওয়ান।

 

এ বিষয়ে কলামিস্ট রেজাউল হক মিন্টু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা নতুন নয়। আদিম যুগ থেকে মানুষ যখন বন্য পশুকে পোষ মানিয়েছে, তখন থেকেই এ সম্পর্কের সূচনা। তবে মানুষের মতো কৌশলী নয় বলেই ভালোবাসার প্রতিদানে পোষা প্রাণীর

 

নিবেদন বা আত্মত্যাগের কাহিনিগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ