ফেঞ্চুগঞ্জে কলু পীরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ
- Update Time : ০৬:১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ অক্টোবর ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কলু মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষনের মৌখিক অভিযোগের পর থেকে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কলু মিয়া ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাদেদেউলি গ্রামের মৃত মজম্মিল আলী পুত্র এবং এলাকায় কলু মিয়া কলুপীর হিসাবে পরিচিত। কলুপীরের শীষ্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কলু পীরের ইমেজ নষ্ট করার জন্য একটিমহল ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে।
জানা যায়, দীর্ঘ চারদশক ধরে কলু মিয়া ওরফে কলুপীর পূর্ব বাদেদেউলিস্থ বসতবাড়িতে বসেই বিভিন্ন এলাকা থেকে সেচ্ছায় আগত সমস্যা জর্জরিত নারী পুরুষের সমস্যার প্রতিকারে তেলপড়া, পানিপড়াসহ তাবিজ, কবচ দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি একনারী কলু পীরের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষনের মৌখিক অভিযোগ করলে এলাকা জুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
কলুপীরের ভক্তরা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ৯ অক্টোবর মঙ্গঁলবার দুপুরে প্রতিবাদ সভা করেছে। মিনহাজ উদ্দিনের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন কুদ্দুছ মিয়ার । সভায় বক্তব্য রাখেন-মছব্বির আলী, রুহুল আমীন,গৌছ মিয়া, কালা মিয়া, মলিক মিয়া, মুকিব আলী, সাইফুদ্দিন, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, আছকির আলী। বক্তারা কলুপীরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সরেজমিনে মঙ্গঁলবার সকালে পূর্ব বাদেদেউলি গ্রামের কলুপীরের আস্তানা ঘুরে দেখা যায়, লোহার রেলিং বেষ্টিত উচ্চ পালংকের আসনে বসে আছেন কলুপীর। নিদ্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে বসে আছেন সমস্যা জর্জরিত নারী পুরুষরা। কথা হয় গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ থেকে আগত ফরিদা বেগমের সাথে তিনি বলেন,দীর্ঘ বিশ বছর ধরে পীরের বাড়িতে আসা যাওয়া করছি। পীরের মাঝে কোন খারাপ আচরণ দেখিনি। তিনি(পীর) দুর থেকে সমস্যা জেনে প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের আজিমা খানম বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে এখানে আসি। কোন নারী পুরুষকে স্পর্শ করেন না কলুপীর দুর থেকে তিনি ফুঁ দেন।
কলুপীরের স্ত্রী খয়রুন বিবি বলেন, আমি এবং আমার স্বামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাদের মান সম্মান নষ্ট করার জন্য এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। বাড়িতে ছেলে মেয়েদের নিয়ে একত্রে বসবাস করি।
এ ব্যাপারে কলু মিয়া ওরফে কলুপীর বলেন, ওই নারী আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাকে আমি কখনো দেখিনি কিংবা তার নাম শুনিনি। তিনি আমার বাড়িতে কখনো আসেননি।
এ বিষয়ে ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী লেইছ চৌধুরী বলেন, কলুপীর একজন ভাল মানুষ। একজন বৃদ্ধ ভাল মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে শুধু পীরের ইমেজ নষ্ট করার জন্য। হয়তো অন্য কোন পীরের টাকা খেয়ে ওই নারী এমন অভিযোগ করেছে।
এ ব্যপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) খালেদ হাসান চৌধুরী বলেন, কলুপীরের বিরুদ্ধে কেউ ধর্ষনের লিখিত কোন অভিযোগ করেনি। এক নারী মৌখিকভাবে বলেছিলেন কয়েকমাস পূর্বে তিনি ধর্ষনের শিকার হয়েছেন । তবে তিনি লিখিত অভিযোগ করেননি।






















