সিলেটে চিকিৎসায় প্রতারণা: হারবাল, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার নামে ভয়াবহ ধোঁকাবাজি
- Update Time : ০৬:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জাবেদ এমরান :: সিলেটে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন হারবাল ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি, হাকিম ও কবিরাজ পুরাতন, জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসক সেজে দীর্ঘদিন থেকেই সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে আসছেন। চমকপদক বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে ভেষজ ওষুধের নামে নকল ও ভেজাল ওষুধ দিয়ে সহজসরল মানুষকে আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এক রোগ সারাতে গিয়ে ভুক্তভোগীরা অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট নগরীর রাস্তার মোড়ে মোড়ে হারবাল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। পৌরসভা অথবা সিটিকর্পোরেশনের শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও চিকিৎসা প্রদানে ওইসব প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই বৈধ কোনো অনুমতিপত্র। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহ, পনেরোদিনের সময় বেঁধে সব ধরনের রোগ বিশেষ করে জটিল, কঠিন ও যৌনরোগের চিকিৎসায় গ্যারান্টি দেওয়া হয়। সাধারণ জনগণও প্রতারিত হচ্ছে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে হারবাল চিকিৎসা নিয়ে। সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে রয়েছে কলিকাতা হারবাল, ইন্ডিয়ান হারবাল, মডার্ন হারবাল, মঘা শাস্ত্রীয় ঔষধালয়, হারবাল কেয়ারসহ নামে বেনামে শতাধিক হারবাল ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে চলছে হারবালের নামে প্রতারণা ব্যবসা। বাসে, ট্রেনে, ট্রলারে, চায়ের দোকানে ও নগরীর দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে বিজ্ঞাপনের রঙিন চমকপদক পোষ্টার, স্টিকার। চলাচলের পথে রিকসা, সিএনজিতে ছুঁড়ে মারা হয় কু-রুচিপূর্ণ শব্দে তৈরি ভিজিটিং কার্ড ও লিফলেট। সিলেট নগরীসহ বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুদৃশ্য সাইন বোর্ড ও আধুনিক চেম্বার বানিয়ে ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হারবাল চিকিৎসা সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। চ্যালেঞ্জ দিয়ে গ্যারান্টিসহকারে দেয়া হয় সর্ব রোগের ঔষধ। এমন প্রতারনার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে গ্রামের সহজসরল মানুষ। বর্তমানে দেশে মোট ২৯৭টি ইউনানী এবং ১৯২টি আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ওষুধের মান যথাযথ নয় বলে জানা গেছে। লতাপাতা সমৃদ্ধ ঔষধের ফার্মেসী খোলে বসা কবিরাজি চিকিৎসকদের সরকার স্বীকৃত সার্টিফিকেট কিংবা বৈধ কোনো অনুমতিপত্র না থাকলেও তারা ভিজিটিং কার্ডে নামের আগে ও পিছনে লম্বা পদ-পদবী লিখছেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যাায়, গাছগাছড়া, লতাপাতা ও ফলমূল দিয়ে তৈরি ভেজাল ওষুধ বানিয়ে হারবাল ও আয়ুর্বেদিক ওষুধের সুনামকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অসাধু হেকিম ও কবিরাজ চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করে যাচ্ছেন। অনুমোদন ছাড়াই অনেকে ভেজাল ঔষুধ তৈরি করে দোকান বা বিভিন্ন সড়কের গলিতে, কেউ আবার শহরে বাসা নিয়ে চেম্বার বসিয়ে বিপদগ্রস্থ মানুষদের ধোঁকা দিচ্ছেন। দ্রæত ফল দেখাতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হাঁপানির ওষুধে উচ্চ মাত্রার স্টেরয়েড, মোটা হওয়ার ওষুধে পেরিকটিন। যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধে সিলেন্ডা, সাইট্রেট, ভায়াগ্রা, সেনেগ্রা। ফর্সা হওয়ার ক্রিমে স্যালিসাইলিক এসিড। দাঁত পরিষ্কারে হাইড্রোক্লরিক এসিড মেশানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভেষজ ওষুধ সংক্রামক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু এই ওষুধের নামে নিম্নমানের, নকল ও ভেজাল ওষুধ রোগীদের জীবন বিপন্ন করে তুলছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হিসাবে দেশের ওষুধের বাজারের ২৫ শতাংশ ভেষজ ওষুধের নিয়ন্ত্রণে। দেশে আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও হারবাল ওষুধ উৎপাদনকারী অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আছে ৫শ’র উপরে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, এগুলোর বাইরে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান আছে কয়েক হাজার। হাঁপানি, চর্ম ও যৌন রোগ, বাত-ব্যথা, রং ফরসা করা ও মোটা হওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ ভেষজ ওষুধ সেবন করেন। আর এসব সুযোগ নিচ্ছে তথাকথিত হারবাল চিকিৎসাকেন্দ্র। ভুয়া কবিরাজ, পল্লী চিকিৎকের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়ে ভোক্তভূগী রোগিদের রক্ষার্থে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন সিলেটের সচেতন নাগরিক মহল।
এ বিষয়ে সিলেট ড্রাগনিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ড্রাগ সুপারেন্টেন্ড শফিকুল ইসলাম জানান, কয়েকমাস আগে শহরতলীর তেমুখীতে অবস্থিত এক হারবাল ভুয়া চিকিৎককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সাথে ছয় মাসের জেল দেয়া হয়। দক্ষিণ সুরমায় আরেক হারবাল ব্যবসায়িকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদÐ দেয়া হয়। কথা হয় সিলেটের সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়ের সাথে। তিনি বলেন, এদের একটারো নেই সরকারি কোন অনুমোদন। জনসচেতনতা বাড়লে ওইসব ভুয়া চিকিৎসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। অভিযানে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় সরকার কঠোর আইন প্রণয়ন করছে বলে তিনি জানান।






















