০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের প্রিপেইড কার্ড সংগ্রহে গ্রাহকদের ভোগান্তি

  • Update Time : ০৪:০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ অক্টোবর ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইমরান আহমদ :: সিলেটে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ৮০০ গ্রহকদের বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার দেওয়া হয়েছে। সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতায় গ্রাহকদের এ মিটার দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের সব মিটারকেই প্রিপেইডের আওতায় আনার কাজ চলছে। আগামী দিনগুলোতে প্রিপেইডের ব্যবহার আরো বাড়বে।

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে গ্রাহকদের সুবিধা যেমন আছে তেমনি অসুবিধাও রয়েছে। সব চেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে প্রিপেইড কার্ড সংগ্রহ করা।

বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতায় প্রায় ৬০ হাজার ৮০০ গ্রহকদের প্রিপেইড মিটার দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের সব মিটারকেই প্রিপেইডের আওতায় আনার কাজ চলছে। বিল পরিশোধের জন্য ৮টি ব্যাংক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া পিডিবি-২ এর শাহজালাল উপশহরের ১টি ভেন্ডিং স্টেশন বিল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রিপেইড মিটারের কার্ড সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। একজন গ্রাহককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বিল পরিশোধ করতে হয়। এখানেও বিভিন্ন ব্যাংক ঘুরে বিল জমা দিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারাও জানান, ব্যাংকে প্রিপেইড বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের মতো ঝামেলার কাজ আর দ্বিতীয়টি নেই। এছাড়া ব্যাংকগুলো ৫০০ টাকার নিচে কোনো টাকা জমা নেন না। অতচ ২০০ টাকার রিচর্জ কার্ড দেওয়া হয় বিদ্যুৎ অফিসে। ব্যাংকগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গ্রহকদের কার্ড দেয়। অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিস সকাল সাড়ে ৯টায় খোলা হয়। অফিসে ৬টি বুথ থাকলেও ২টি বুথে কার্যক্রম চলে। বাকি ৪টি লোকবলের জন্য বন্ধ আছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গ্রাহক আব্দুর রহমান বলেন, ভেন্ডিং স্টেশন স্বল্পতায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পূর্বে ব্যাংক অথবা মোবাইলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সুযোগ ছিলো। এতে বিদ্যুৎ অফিসে যাওয়ার কোন প্রয়োজন হতো না। কিন্তু প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর থেকে কার্ড নিয়ে ব্যাংক বা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে কার্ড আনতে হয়। এতে সময়ের যেমন অপচয় হয়, তেমনই অর্থ ব্যয়ও হয়।

গ্রাহক আবুল কাশেম বলেন, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার জন্য রিকশায় যেতে ২০-২৫ টাকা ব্যয় হয়। ভেন্ডিং স্টেশন পর্যাপ্ত নেই। কয়েকটি ভেন্ডিং স্টেশন বাড়ালে ভোগান্তি কমবে।

টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, প্রি-পেমেন্ট মিটার ব্যবহারে খরচ বেড়েছে। রিচার্জ করাসহ বিভিন্ন স্তরের কার্যক্রমে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এর জন্য পর্যাপ্ত ভেন্ডিং স্টেশন স্থাপন করা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমদ বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতায় প্রায় ৬০ হাজার ৮০০ গ্রহকদের প্রিপেইড মিটার দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের সব মিটারকেই প্রিপেইডের আওতায় আনার কাজ চলছে। বিল পরিশোধের জন্য ৮টি ব্যাংক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া পিডিবি’র শাহজালাল উপশহরের ১টি ভেন্ডিং স্টেশন বিল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রহক কম থাকলে ভেন্ডিং স্টেশনের কয়েকটি বুথ বন্ধ রাখা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিদ্যুতের প্রিপেইড কার্ড সংগ্রহে গ্রাহকদের ভোগান্তি

Update Time : ০৪:০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ অক্টোবর ২০১৮

ইমরান আহমদ :: সিলেটে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ৮০০ গ্রহকদের বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার দেওয়া হয়েছে। সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতায় গ্রাহকদের এ মিটার দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের সব মিটারকেই প্রিপেইডের আওতায় আনার কাজ চলছে। আগামী দিনগুলোতে প্রিপেইডের ব্যবহার আরো বাড়বে।

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে গ্রাহকদের সুবিধা যেমন আছে তেমনি অসুবিধাও রয়েছে। সব চেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে প্রিপেইড কার্ড সংগ্রহ করা।

বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতায় প্রায় ৬০ হাজার ৮০০ গ্রহকদের প্রিপেইড মিটার দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের সব মিটারকেই প্রিপেইডের আওতায় আনার কাজ চলছে। বিল পরিশোধের জন্য ৮টি ব্যাংক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া পিডিবি-২ এর শাহজালাল উপশহরের ১টি ভেন্ডিং স্টেশন বিল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রিপেইড মিটারের কার্ড সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। একজন গ্রাহককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বিল পরিশোধ করতে হয়। এখানেও বিভিন্ন ব্যাংক ঘুরে বিল জমা দিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারাও জানান, ব্যাংকে প্রিপেইড বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের মতো ঝামেলার কাজ আর দ্বিতীয়টি নেই। এছাড়া ব্যাংকগুলো ৫০০ টাকার নিচে কোনো টাকা জমা নেন না। অতচ ২০০ টাকার রিচর্জ কার্ড দেওয়া হয় বিদ্যুৎ অফিসে। ব্যাংকগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গ্রহকদের কার্ড দেয়। অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিস সকাল সাড়ে ৯টায় খোলা হয়। অফিসে ৬টি বুথ থাকলেও ২টি বুথে কার্যক্রম চলে। বাকি ৪টি লোকবলের জন্য বন্ধ আছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গ্রাহক আব্দুর রহমান বলেন, ভেন্ডিং স্টেশন স্বল্পতায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পূর্বে ব্যাংক অথবা মোবাইলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সুযোগ ছিলো। এতে বিদ্যুৎ অফিসে যাওয়ার কোন প্রয়োজন হতো না। কিন্তু প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর থেকে কার্ড নিয়ে ব্যাংক বা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে কার্ড আনতে হয়। এতে সময়ের যেমন অপচয় হয়, তেমনই অর্থ ব্যয়ও হয়।

গ্রাহক আবুল কাশেম বলেন, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার জন্য রিকশায় যেতে ২০-২৫ টাকা ব্যয় হয়। ভেন্ডিং স্টেশন পর্যাপ্ত নেই। কয়েকটি ভেন্ডিং স্টেশন বাড়ালে ভোগান্তি কমবে।

টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, প্রি-পেমেন্ট মিটার ব্যবহারে খরচ বেড়েছে। রিচার্জ করাসহ বিভিন্ন স্তরের কার্যক্রমে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এর জন্য পর্যাপ্ত ভেন্ডিং স্টেশন স্থাপন করা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমদ বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতায় প্রায় ৬০ হাজার ৮০০ গ্রহকদের প্রিপেইড মিটার দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের সব মিটারকেই প্রিপেইডের আওতায় আনার কাজ চলছে। বিল পরিশোধের জন্য ৮টি ব্যাংক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া পিডিবি’র শাহজালাল উপশহরের ১টি ভেন্ডিং স্টেশন বিল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রহক কম থাকলে ভেন্ডিং স্টেশনের কয়েকটি বুথ বন্ধ রাখা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ