১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোলাপগঞ্জে ৩টি বসতঘর হেলে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

  • Update Time : ০২:১৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আজিজ খান :: সিলেটের গোলাপগঞ্জের পল্লীতে ভবনের পাশে গভীর গর্ত করে পুকুর বানিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে মাটি উত্তোলন করা ও ৩টি ভবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে পিআইও ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে। বুধবার ঘটনাস্থল উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিনের দক্ষিণ চন্দরপুর এলাকার হলিমপুর গ্রামে এ পরির্শণে যান তিনি। আজ পরিদর্শণে যাবেন ইউএনও। এদিকে তিনটি ভবন হেলে পড়ার পর বসবাসকারী প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক অন্যত্র বসবাস করছেন।
উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের হলিমপুর দক্ষিণ লামারচন্দর পুর গ্রামে অপরিকল্পিত ভাবে ববনের পাশ ঘেষে বিশাল গর্ত করে পুকুর বানিয়ে পনি শুকিয়ে নেয় পার্শবর্তী কয়েকজন লোক। এতে তিনটি পাকা ভবন হেলে পড়েছে পুকুরে। এর মধ্যে ভবনের বড় এশটি অংশ একেবারে ভেঙ্গে গিয়ে রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। ভবন হেলে পড়ার পর ভবনে বসবাসকারী প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক অন্যত্র বসবাস করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বিষয়টি অবগত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বুধবার সরেজমিন পরিদর্শন করতে এলাকায় যান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঘঁনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বুধবার বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বুধবার বিকেলে জানান, ঘঁনাটি অবগত হওয়ার পর আমি পিআইও’কে পাঠিয়েছি। কাল (আজ বৃহস্পতিবার) আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শণে যাবো।

এলাকাবাসী জানান, ওই গ্রামের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে আনছার আলী, তরমুজ আলী ও আছদ্দর আলীর ভাতিজা জামাল উদ্দিনসহ তিনটি পরিবারের প্রায় ৪০ জন লোক ঘটনার পর অন্যত্র বসবাস করছেন। জানা যায়, আনছার আলী এ তিনটি পরিবার কয়েক যুগ ধরে ওই বাড়িতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইয়াকুব আলী, মাছুম, ময়নুল হক, খায়রুল হক ও মতছিনগংবৃন্দ প্রতি বছর ওই পরিত্যক্ত পুকুর অহেতুক গভীর খনন করেন এবং প্রায়ই পুকুটি শুকিয়ে মাছ ধরেন। গত বছর ইয়াকুব আলী, মাছুম, ময়নুল হক, খায়রুল হক ও মতছিন গংরা অপরিকল্পিত ভাবে আনছার আলীগংদের ভবন ঘেষে পুকুরটি খনন করতে থাকেন।

এতে বাঁধা প্রদান করেন আনছার আলী ও জামাল উদ্দিন এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা কারো তোয়াক্কা না করে অহেতুক ওই পুকুরের সংস্কারের নামে ভবন ঘেষে মাটি উত্তোলন ও বর্ষা মওসুমে সেচের মাধ্যমে পানি শুকিয়ে থাকেন। এতে করে প্রতিবছরই আনছার আলী ও জামাল উদ্দিন গংরা জীবনকে বাজি রেখে হুমকির মধ্যে বসবাস করতে থাকেন তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে। তাদের ওই বসত ঘর ব্যতিত অন্য কোন সম্বল নেই। গত বৃহস্পতিবার ইয়াকুব আলীগং একদিকে বর্ষন হচ্ছে অন্যদিকে তিনি মেশিন লাগিয়ে পানি সেচ করছেন।

এক পর্যায়ে পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে পাশবর্তী আনছার আলীগংদের ৩টি বসত ঘরের প্রায় ১০/১২টি রুম মাটিতে দেবে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ে ওই ভবন গুলি। ভবনের চারদিক ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ওই বসত ঘরে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ভূক্তভোগীরা। ওই ৩টি ঘর বসবাসের অনুপযোগী ও হুমকির সম্মুখীন হওয়ায় ওই সব ঘরের প্রায় ৪০জন সদস্য আত্মীয়ের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে ওই বসতঘর গুলি হুমকির মুখে রয়েছে। এ ঘরগুলিতে বসবাস করলেই প্রাণ নাশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা স্থায়ী ভাবে নিরসনের উদ্যোগ না নিলে যে কোন মুহুর্তে ওই বসত ঘরে প্রাণ নাশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভূক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ ব্যাপারে বুধবারীবাজার ইউপির চেয়ারম্যান মস্তাক উদ্দিন কামালের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন তবে সাময়ীক অসুবিধা থাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি।

তবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই করার নেই বলে জানান। এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি তিনি লোক মারফতে জানতে পেরেছেন তিনি শিঘ্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। লোক মারফত জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকায় তিনি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেননি। আজ তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

গোলাপগঞ্জে ৩টি বসতঘর হেলে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

Update Time : ০২:১৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আজিজ খান :: সিলেটের গোলাপগঞ্জের পল্লীতে ভবনের পাশে গভীর গর্ত করে পুকুর বানিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে মাটি উত্তোলন করা ও ৩টি ভবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে পিআইও ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে। বুধবার ঘটনাস্থল উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিনের দক্ষিণ চন্দরপুর এলাকার হলিমপুর গ্রামে এ পরির্শণে যান তিনি। আজ পরিদর্শণে যাবেন ইউএনও। এদিকে তিনটি ভবন হেলে পড়ার পর বসবাসকারী প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক অন্যত্র বসবাস করছেন।
উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের হলিমপুর দক্ষিণ লামারচন্দর পুর গ্রামে অপরিকল্পিত ভাবে ববনের পাশ ঘেষে বিশাল গর্ত করে পুকুর বানিয়ে পনি শুকিয়ে নেয় পার্শবর্তী কয়েকজন লোক। এতে তিনটি পাকা ভবন হেলে পড়েছে পুকুরে। এর মধ্যে ভবনের বড় এশটি অংশ একেবারে ভেঙ্গে গিয়ে রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। ভবন হেলে পড়ার পর ভবনে বসবাসকারী প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক অন্যত্র বসবাস করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বিষয়টি অবগত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বুধবার সরেজমিন পরিদর্শন করতে এলাকায় যান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঘঁনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বুধবার বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বুধবার বিকেলে জানান, ঘঁনাটি অবগত হওয়ার পর আমি পিআইও’কে পাঠিয়েছি। কাল (আজ বৃহস্পতিবার) আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শণে যাবো।

এলাকাবাসী জানান, ওই গ্রামের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে আনছার আলী, তরমুজ আলী ও আছদ্দর আলীর ভাতিজা জামাল উদ্দিনসহ তিনটি পরিবারের প্রায় ৪০ জন লোক ঘটনার পর অন্যত্র বসবাস করছেন। জানা যায়, আনছার আলী এ তিনটি পরিবার কয়েক যুগ ধরে ওই বাড়িতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইয়াকুব আলী, মাছুম, ময়নুল হক, খায়রুল হক ও মতছিনগংবৃন্দ প্রতি বছর ওই পরিত্যক্ত পুকুর অহেতুক গভীর খনন করেন এবং প্রায়ই পুকুটি শুকিয়ে মাছ ধরেন। গত বছর ইয়াকুব আলী, মাছুম, ময়নুল হক, খায়রুল হক ও মতছিন গংরা অপরিকল্পিত ভাবে আনছার আলীগংদের ভবন ঘেষে পুকুরটি খনন করতে থাকেন।

এতে বাঁধা প্রদান করেন আনছার আলী ও জামাল উদ্দিন এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা কারো তোয়াক্কা না করে অহেতুক ওই পুকুরের সংস্কারের নামে ভবন ঘেষে মাটি উত্তোলন ও বর্ষা মওসুমে সেচের মাধ্যমে পানি শুকিয়ে থাকেন। এতে করে প্রতিবছরই আনছার আলী ও জামাল উদ্দিন গংরা জীবনকে বাজি রেখে হুমকির মধ্যে বসবাস করতে থাকেন তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে। তাদের ওই বসত ঘর ব্যতিত অন্য কোন সম্বল নেই। গত বৃহস্পতিবার ইয়াকুব আলীগং একদিকে বর্ষন হচ্ছে অন্যদিকে তিনি মেশিন লাগিয়ে পানি সেচ করছেন।

এক পর্যায়ে পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে পাশবর্তী আনছার আলীগংদের ৩টি বসত ঘরের প্রায় ১০/১২টি রুম মাটিতে দেবে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ে ওই ভবন গুলি। ভবনের চারদিক ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ওই বসত ঘরে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ভূক্তভোগীরা। ওই ৩টি ঘর বসবাসের অনুপযোগী ও হুমকির সম্মুখীন হওয়ায় ওই সব ঘরের প্রায় ৪০জন সদস্য আত্মীয়ের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে ওই বসতঘর গুলি হুমকির মুখে রয়েছে। এ ঘরগুলিতে বসবাস করলেই প্রাণ নাশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা স্থায়ী ভাবে নিরসনের উদ্যোগ না নিলে যে কোন মুহুর্তে ওই বসত ঘরে প্রাণ নাশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভূক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ ব্যাপারে বুধবারীবাজার ইউপির চেয়ারম্যান মস্তাক উদ্দিন কামালের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন তবে সাময়ীক অসুবিধা থাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি।

তবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই করার নেই বলে জানান। এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি তিনি লোক মারফতে জানতে পেরেছেন তিনি শিঘ্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। লোক মারফত জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকায় তিনি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেননি। আজ তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ