০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পার্টির সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

  • Update Time : ০৫:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ আগস্ট ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ১১ অাগস্ট শনিবার সকালে কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ছয়টি শর্তে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান স্বাক্ষর করার পর এ সমঝোতা চুক্তি ঘোষণা দেয়া হয়। সমঝোতার ছয়টি শর্ত হচ্ছে- ১. পবিত্র কুরআন সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না। ২.সংবিধানে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করা হবে। ৩. হযরত মুহাম্মদ সা. সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। ৪. নবী রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা এবং কুৎসা রটনা দণ্ডনীয় অপরাধ। ৫. ঘোষিত কওমী সনদের মান জাতীয় সংসদে পাশ করা হবে এবং জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে ইসলাম বিরোধী ধারা বাতিল করা হবে। ৬. সকল ধর্মের ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখা হবে।

 

 

নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, আজকের সমঝোতার দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং আমার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ সমঝোতার মাধ্যমে আমার শক্তি অর্জিত হলো। এখন থেকে আমাদের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এ সংগঠনের আগ্রহী প্রার্থীদের তালিকা গ্রহণ করে একটি সমন্বিত প্রার্থী তালিকা প্রণয়ন করবো। এ সমঝোতার নীতিমালা হলো আমরা একত্রে নির্বাচন করবো এবং একত্রে সরকার গঠন করবো। তবে শরীকদের পৃথক পৃথক নির্বাচনী ইশতেহার থাকতে পারে, আবার সমঝোতায় একক ইশতেহারও থাকতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আসাতে জাতীয় পার্টির জোট শক্তি শালী হলো এবং ক্ষমতায় যাওয়ার শক্তি অর্জিত হয়েছে। তাই এদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হলো। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমাদের সাথে এসেছে এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তিনি বলেন এদেশ এবং বিশ্বে ইসলাম ধ্বংসের পথে। মুসলমান মুসলমানের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে মুসলিম দেশগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে মুসলমানদের সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য। তাই মুসলিম বিশ্বকে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে হবে আমাদেরকেই।

 

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান বলেছেন, দেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামীতে এদেশে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হবে। আমরা এবং জাতীয় পার্টি উভয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলাানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।

 

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার এমপি, সম্মিলিতি জোটের আহবায়ক আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মতিন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট রেজাউল হক ভূইয়া, এচ.এম ফয়সাল চিশতী, আবু হোসেন বাবলা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কুরবান আলী, মাওলানা আব্দুল আজীজ, অফিস ও বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, মাওলানা রুহুল আমীন খান, ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম রহমত আলী।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জাতীয় পার্টির সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

Update Time : ০৫:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ আগস্ট ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ১১ অাগস্ট শনিবার সকালে কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ছয়টি শর্তে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান স্বাক্ষর করার পর এ সমঝোতা চুক্তি ঘোষণা দেয়া হয়। সমঝোতার ছয়টি শর্ত হচ্ছে- ১. পবিত্র কুরআন সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না। ২.সংবিধানে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করা হবে। ৩. হযরত মুহাম্মদ সা. সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। ৪. নবী রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা এবং কুৎসা রটনা দণ্ডনীয় অপরাধ। ৫. ঘোষিত কওমী সনদের মান জাতীয় সংসদে পাশ করা হবে এবং জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে ইসলাম বিরোধী ধারা বাতিল করা হবে। ৬. সকল ধর্মের ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখা হবে।

 

 

নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, আজকের সমঝোতার দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং আমার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ সমঝোতার মাধ্যমে আমার শক্তি অর্জিত হলো। এখন থেকে আমাদের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এ সংগঠনের আগ্রহী প্রার্থীদের তালিকা গ্রহণ করে একটি সমন্বিত প্রার্থী তালিকা প্রণয়ন করবো। এ সমঝোতার নীতিমালা হলো আমরা একত্রে নির্বাচন করবো এবং একত্রে সরকার গঠন করবো। তবে শরীকদের পৃথক পৃথক নির্বাচনী ইশতেহার থাকতে পারে, আবার সমঝোতায় একক ইশতেহারও থাকতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আসাতে জাতীয় পার্টির জোট শক্তি শালী হলো এবং ক্ষমতায় যাওয়ার শক্তি অর্জিত হয়েছে। তাই এদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হলো। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমাদের সাথে এসেছে এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তিনি বলেন এদেশ এবং বিশ্বে ইসলাম ধ্বংসের পথে। মুসলমান মুসলমানের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে মুসলিম দেশগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে মুসলমানদের সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য। তাই মুসলিম বিশ্বকে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে হবে আমাদেরকেই।

 

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান বলেছেন, দেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামীতে এদেশে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হবে। আমরা এবং জাতীয় পার্টি উভয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলাানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।

 

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার এমপি, সম্মিলিতি জোটের আহবায়ক আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মতিন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট রেজাউল হক ভূইয়া, এচ.এম ফয়সাল চিশতী, আবু হোসেন বাবলা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কুরবান আলী, মাওলানা আব্দুল আজীজ, অফিস ও বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, মাওলানা রুহুল আমীন খান, ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম রহমত আলী।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ