০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাগ্যের কাছে হারলো রাশিয়া

  • Update Time : ০৩:০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুলাই ২০১৮
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলে রাশিয়া ভাগ্যের কাছে হেরেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, শনিবার রাতে সুচির ফিস্ট  অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বসেছিল নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চের পসরা। চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানীতেই ছিল স্বাগতিক রাশিয়া। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও অপ্রত্যাশিতভাবে দুর্দান্ত খেলে সবাইকে চমকে দিয়েছে রাশিয়া। কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে রুশ ফুটবল। টিকিটাকা ফুটবলে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। কোয়ার্টারেও বলতে গেলে তারা হারেনি, জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে টাইব্রেকারে। টাইব্রেকার নামের ভাগ্য পরীক্ষায় থেমেছে রুশদের স্বপ্নযাত্রা। আমিনুল বলেন, স্বাগতিক রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ক্রোয়েশিয়া। দুই দলই একই ঘরানার ফুটবল খেলে। ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে ছিল অন্য জায়গায়। তাদের খেলোয়াড়রা বেশির ভাগই ইউরোপের বড় বড় দলে খেলেন। টেকনিক্যালি তারা রাশিয়ার চেয়ে বেটার। ক্রোয়েশিয়ার বর্তমান মিডফিল্ড বিশ্বসেরা। লুকা মডরিক, ইভান রাকিটিচ, মারজুকিচরা তাদের তারকা খ্যাতির প্রমাণ দিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপে। সূক্ষ্ম এ ফাঁরাকটিই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। অন্যদিকে রাশিয়া এগিয়েছিল হোম অ্যাডভানটেজে। তারা সে অ্যাডভানটেজ পুরোপুরি নিয়েছে এবং বারবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরেছে। রাশিয়ার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গ্লবিনের কথা আলাদা করেই বলতে হয়। এ আসরের অন্যতম সেরা নৈপুণ্য দেখিয়েছে গ্লবিন। মিডফিল্ডার দেনিস চেরিশেভের কথাও মনে রাখতে হবে। নিজের সময়ে এশিয়ার অন্যতম সেরা গোলরক্ষক আমিনুল বলেন, টাইব্রেকার একটি ভাগ্যের পরীক্ষা। টাইব্রেকারে সেই অর্থে আর ফেভারিট থাকে না। এখানে গোলরক্ষক কিছুটা চাপমুক্ত থাকে। গোল রক্ষা করতে পারলে সুনাম, না পারলেও ক্ষতিবৃদ্ধি নেই। কিন্তু যারা পেনাল্টি শটগুলো নেন তাদের মাথার ওপর চেপে বসে চাপের পাহাড়। সে চাপ নিয়ে ভালো শট করতে পারেনি রাশিয়ার খেলোয়াড়রা। তবে পুরো ম্যাচটি ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতামুখর ও উপভোগ্য। আমিনুল বলেন, রাশিয়ার এই স্কোয়াডকে ‘নায়কের দল’ আখ্যা দিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিন। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে রাশিয়ার বিরোধী দলের নেতা অ্যালেক্সি নাভালানিও গর্বের সুরে বলেছেন, ‘এমন দলকে নিয়ে পুরো দেশ গর্ব করতে পারে।’ এতেই বোঝা যায়, রাশানদের স্বপ্নকে তারা কত উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছিল।
ইংলিশ ফুটবলারদের গতির কাছেই সুইডিশরা হেরে গেছেন বলে মনে করেন আমিনুল। তিনি বলেন, ইংল্যান্ড যোগ্যতর দল হিসেবে জয় পেয়েছে। তাদের এ জয় অনুমিতই ছিল। এ আসরে ইংল্যান্ড দিন দিন ফেভারিট হয়ে উঠেছে এবং স্বপ্ন দেখাচ্ছে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার। সুইডেন চলতি আসরে তেমন ফেভারিট দল ছিল না। তারপরও তারা ভালো খেলে কোয়ার্টার পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। কিন্তু কোয়ার্টারে তারা ইংলিশ ফুটবলারদের গতির সঙ্গে পেরে উঠেনি। ইংলিশ ফুটবলাররা সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন। তারা সুইডিস আক্রমণভাগকে ন্যূনতম স্পেস দেয়নি। ফ্রি কিক কিংবা কর্নারে এই ইংল্যান্ড কতটুকু ভয়ংকর তা দিনদিন প্রমাণ রাখছে তারা। এ বিশ্বকাপে সেটফিস থেকে গোল করার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড সবার চেয়ে এগিয়ে। সেই সঙ্গে বলকে জাল ছুঁইয়ে দিতে মাথার ব্যবহারেও। হ্যারি কেইন-ডেলে আলীদের নৈপুণ্য বৃটিশদের দিচ্ছে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সুখস্মৃতির রেশ। ১৯৯৬ ইউরো টুর্নামেন্টে সাউথগেটদের সৌভাগ্য কামনা করে যে ‘ইটস কামিং হোম’ গানটি বেঁধেছিল লাইটনিংস সিডস ব্যান্ড ২২ বছর পর সেই গানের সার্থকতা প্রমাণের পথে হাঁটছেন কেইনরা। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, বিশ্বকাপে এবার অল ইউরোপিয়ান সেমিফাইনাল দেখবে বিশ্ব। স্বাভাবিকভাবে ফাইনালেও মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুইটি দেশ। আমার মনে হয়, ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। আর সেটা যদি হয়, কাগজে-কলমে আধুনিক ফুটবলের জনক বৃটিশদের দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্নটা পূরণ হতে পারে।
অনুলিখন: কাফি কামাল

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ভাগ্যের কাছে হারলো রাশিয়া

Update Time : ০৩:০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুলাই ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলে রাশিয়া ভাগ্যের কাছে হেরেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, শনিবার রাতে সুচির ফিস্ট  অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বসেছিল নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চের পসরা। চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানীতেই ছিল স্বাগতিক রাশিয়া। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও অপ্রত্যাশিতভাবে দুর্দান্ত খেলে সবাইকে চমকে দিয়েছে রাশিয়া। কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে রুশ ফুটবল। টিকিটাকা ফুটবলে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। কোয়ার্টারেও বলতে গেলে তারা হারেনি, জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে টাইব্রেকারে। টাইব্রেকার নামের ভাগ্য পরীক্ষায় থেমেছে রুশদের স্বপ্নযাত্রা। আমিনুল বলেন, স্বাগতিক রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ক্রোয়েশিয়া। দুই দলই একই ঘরানার ফুটবল খেলে। ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে ছিল অন্য জায়গায়। তাদের খেলোয়াড়রা বেশির ভাগই ইউরোপের বড় বড় দলে খেলেন। টেকনিক্যালি তারা রাশিয়ার চেয়ে বেটার। ক্রোয়েশিয়ার বর্তমান মিডফিল্ড বিশ্বসেরা। লুকা মডরিক, ইভান রাকিটিচ, মারজুকিচরা তাদের তারকা খ্যাতির প্রমাণ দিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপে। সূক্ষ্ম এ ফাঁরাকটিই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। অন্যদিকে রাশিয়া এগিয়েছিল হোম অ্যাডভানটেজে। তারা সে অ্যাডভানটেজ পুরোপুরি নিয়েছে এবং বারবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরেছে। রাশিয়ার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গ্লবিনের কথা আলাদা করেই বলতে হয়। এ আসরের অন্যতম সেরা নৈপুণ্য দেখিয়েছে গ্লবিন। মিডফিল্ডার দেনিস চেরিশেভের কথাও মনে রাখতে হবে। নিজের সময়ে এশিয়ার অন্যতম সেরা গোলরক্ষক আমিনুল বলেন, টাইব্রেকার একটি ভাগ্যের পরীক্ষা। টাইব্রেকারে সেই অর্থে আর ফেভারিট থাকে না। এখানে গোলরক্ষক কিছুটা চাপমুক্ত থাকে। গোল রক্ষা করতে পারলে সুনাম, না পারলেও ক্ষতিবৃদ্ধি নেই। কিন্তু যারা পেনাল্টি শটগুলো নেন তাদের মাথার ওপর চেপে বসে চাপের পাহাড়। সে চাপ নিয়ে ভালো শট করতে পারেনি রাশিয়ার খেলোয়াড়রা। তবে পুরো ম্যাচটি ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতামুখর ও উপভোগ্য। আমিনুল বলেন, রাশিয়ার এই স্কোয়াডকে ‘নায়কের দল’ আখ্যা দিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিন। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে রাশিয়ার বিরোধী দলের নেতা অ্যালেক্সি নাভালানিও গর্বের সুরে বলেছেন, ‘এমন দলকে নিয়ে পুরো দেশ গর্ব করতে পারে।’ এতেই বোঝা যায়, রাশানদের স্বপ্নকে তারা কত উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছিল।
ইংলিশ ফুটবলারদের গতির কাছেই সুইডিশরা হেরে গেছেন বলে মনে করেন আমিনুল। তিনি বলেন, ইংল্যান্ড যোগ্যতর দল হিসেবে জয় পেয়েছে। তাদের এ জয় অনুমিতই ছিল। এ আসরে ইংল্যান্ড দিন দিন ফেভারিট হয়ে উঠেছে এবং স্বপ্ন দেখাচ্ছে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার। সুইডেন চলতি আসরে তেমন ফেভারিট দল ছিল না। তারপরও তারা ভালো খেলে কোয়ার্টার পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। কিন্তু কোয়ার্টারে তারা ইংলিশ ফুটবলারদের গতির সঙ্গে পেরে উঠেনি। ইংলিশ ফুটবলাররা সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন। তারা সুইডিস আক্রমণভাগকে ন্যূনতম স্পেস দেয়নি। ফ্রি কিক কিংবা কর্নারে এই ইংল্যান্ড কতটুকু ভয়ংকর তা দিনদিন প্রমাণ রাখছে তারা। এ বিশ্বকাপে সেটফিস থেকে গোল করার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড সবার চেয়ে এগিয়ে। সেই সঙ্গে বলকে জাল ছুঁইয়ে দিতে মাথার ব্যবহারেও। হ্যারি কেইন-ডেলে আলীদের নৈপুণ্য বৃটিশদের দিচ্ছে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সুখস্মৃতির রেশ। ১৯৯৬ ইউরো টুর্নামেন্টে সাউথগেটদের সৌভাগ্য কামনা করে যে ‘ইটস কামিং হোম’ গানটি বেঁধেছিল লাইটনিংস সিডস ব্যান্ড ২২ বছর পর সেই গানের সার্থকতা প্রমাণের পথে হাঁটছেন কেইনরা। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, বিশ্বকাপে এবার অল ইউরোপিয়ান সেমিফাইনাল দেখবে বিশ্ব। স্বাভাবিকভাবে ফাইনালেও মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুইটি দেশ। আমার মনে হয়, ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। আর সেটা যদি হয়, কাগজে-কলমে আধুনিক ফুটবলের জনক বৃটিশদের দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্নটা পূরণ হতে পারে।
অনুলিখন: কাফি কামাল

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ