‘কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন’
- Update Time : ০৪:২৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুলাই ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর পৈশাচিক হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে স্পষ্ঠ হয়েছে যে কোটা সংস্কার নিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আজ রোববার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। রিজভী আহমেদ বলেন, গতকাল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনের সময় বেছে বেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমরা ইতোপূর্বে বলেছিলাম-শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবী মেনে নেয়াটা ছিল প্রধানমন্ত্রীর তামাশা। সমগ্র জাতি এখন সেই রঙ-তামাশার দৃশ্য অবলোকন করছে। মূলত প্রধানমন্ত্রী সেদিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছেন। ছাত্রলীগের মন শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রঙে রাঙ্গানো। এই সময়ের ছাত্রলীগ প্রকৃত কোনো ছাত্র সংগঠন নয়, এটি প্রধানমন্ত্রীর ভাড়াটিয়া বাহিনী। এদের মধ্যে নেই জ্ঞানের আলো, শিক্ষার আদর্শ, সহমর্মিতা ও সহিষ্ণুতা। প্রতিবাদের আওয়াজকে গুঁড়িয়ে দিতেই গুন্ডামীর চেতনায় এদেরকে তৈরী করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনকে বাকশালী খাঁচায় বন্দী করার জন্যই বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রলীগকে তৈরী করা হয়েছে আতঙ্কের অপর নাম হিসেবে। শিক্ষাঙ্গনের গণতন্ত্রবিরোধী বিপজ্জনক শক্তি হচ্ছে ছাত্রলীগ। বর্তমানে খুন, জখম, হাঙ্গামা, হল দখল, সীট বাণিজ্য, শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার প্রতীকে পরিণত হয়েছে বর্তমান ছাত্রলীগ। আর সেজন্যই পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগও নেমে পড়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্ষতবিক্ষত করতে। গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ ও চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় রেখে তার শারীরিক অবস্থাকে এক অমানবিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে বর্তমান সরকার। গতকাল দেশনেত্রীর স্বজনরা তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা দেখে তারা বেদনাহত ও ব্যথিত হয়েছেন। ইতোপূর্বে দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত এমনকি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার সুচিকিৎসা’র জন্য যে পরামর্শ দিয়েছিলেন সেটির বিন্দুবিসর্গও পালন করা হয়নি। বরং সুচিকিৎসার দাবী করাটাও যেন দেশনেত্রীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার একটা মওকা পেয়ে গেছে দেশনেত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে তাঁর অসুস্থতাকে চরম অবনতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। তার ঘাড়ে ও বাম হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত, আর কোমর হয়ে বাম পায়ের তলা পর্যন্ত প্রচন্ড ব্যথায় তিনি অস্থির হয়ে আছেন। অস্ত্রোপচারকৃত দু’টি চোখই ধুলাকীর্ণ স্যাঁতসেতে পরিবেশে দিনকে দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেনÑ যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।



























