গাজীপুরের নির্বাচন বিএনপির প্রত্যাখ্যান- ফখরুল ইসলাম আলমগীর
- Update Time : ০২:৪৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: গাজীপুরের নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি করেছে বিএনপি। বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, গাজীপুরে নির্বাচনের নামে শুধু একটি তামাশা হয়েছে। ভোট ডাকাতির নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করে তা প্রয়োগ করেছে। আমরা গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা এই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছি। জনগণকে এই ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, খুলনায় নতুন কৌশলে ভোট ডাকাতি করে তারই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরে এই নির্বাচন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সরকার গাজীপুরের আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নির্লজ্জভাবে একের পর এক নির্বাচনে ভোটডাকাতি করে সকল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করছে। খুলনায় নতুন কৌশলে ভোট ডাকাতি করে তারই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাজীপুরের নির্বাচনে আর এক কলঙ্কময় অধ্যায় সংযোজন করলো। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে স্বৈরাচার এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সমাহিত করছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীন প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হতেই ধারাবাহিকভাবে প্রায় প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নজীরবিহীন ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে এবং প্রমাণ করেছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের ফলে আওয়ামী সরকারের অধীনে নির্বাচন কখনই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই গণগ্রেপ্তার, সাদা পোশাকের পুলিশ দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, ভাঙচুর, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকতে না দেয়া, নির্বাচনের আগের রাত হতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে নৌকায় সীল মেরে ব্যালট বাক্সবোঝাই করা, নির্বাচনের দিন এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের প্রার্থী ও দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে ক্রমাগত অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশন কোনো কিছুই আমলে নেয়নি। বিশেষ করে গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ও নির্যাতনের বিষয়ে বারবার অভিযোগ করেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন তাদের নিজেদের আইন কখনই প্রয়োগ করেনি। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সরকার গাজীপুরে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা রাষ্ট্রের সব যন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির জাতীয় ঐক্যের মধ্যদিয়ে গণবিরোধী স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠবে এবং ভোট ডাকাত গণবিরোধী এই সরকারকে পরাজিত করে নিরপক্ষে সরকারের অধীনে যোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগের রাতেই তারা অনেক ভোট দিয়ে দিয়েছে। এটা ভোটের পারসেনটেইজ দেখলে বোঝা যায়, ভোটের টার্ন আউটটা কত আর টোটালটা কত? তার থেকেই বোঝা যায় আগের রাতে ভোট দিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা দিনের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এই সরকার গণতন্ত্রের বিশ্বাস করে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের এজেন্টেদের কেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি। তাদের অনেককে বাসা থেকেই বের হতে দেয়নি। অনেককে পথে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। যারা কেন্দ্রে যেতে পেরেছিলেন তাদের বের করে দেয়া হয়েছে। এসব দৃশ্য গণমাধ্যমের কর্মীরা দেখেছেন। এভাবে ষড়যন্ত্র করে গাজীপুরের নির্বাচনের ফলাফল সরকার, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন এক হয়ে কাজ করেছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে সরকার একটি নির্বাচনী প্রকল্প করেছে, তার অংশ হিসেবে খুলনায় যা ঘটিয়েছিল, গাজীপুরেও তারা একই কাজ করেছে। নীল নকশার অংশ হিসেবে পুলিশের একটি অংশ যারা দলীয় পুলিশ, নির্বাচন কমিশন সকলে মিলে একের পর এক নির্বাচনকে কব্জা করছে তারা। গণতন্ত্র ফিরে পেতে হলে এই নির্বাচনী প্রকল্পকে ভেঙে দিতে হবে। ভোট কারচুপির এ রকম ঘটনার পরও রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘আন্দোলনের অংশ’ হিসেবে অংশ নেয়ার ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকারের নিলর্জ্জ গণবিরোধী চরিত্র উন্মোচন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ নিচ্ছি। আসন্ন বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি একই কারণে। এই জনবিচ্ছিন্ন সরকাররের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন, নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা ও পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হচ্ছে এই নির্বাচনগুলোর মধ্যদিয়ে। তিনি বলেন, আমরা জনগণের ভোটাধিকার মানবাধিকার সংরক্ষণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মুক্ত গণমাধ্যম ও সুশাসনের জন্য দীর্ঘকাল সংগ্রাম করছি। সরকারের নির্যাতন দমননীতি খুন, গুম, মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার এমন কি মিথ্যা মামলায় গণতন্ত্রের জন্য যিনি সারা রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম করেছেন, বেআইনিভাবে সেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখে বাংলাদেশকে একটি স্বীকৃত স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিও জানান মির্জা আলমগীর। একই সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকার নীল নকশা’র গল্প সাজিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। অবিলম্বে তার মুক্তির দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন।



























