সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: ধামাচাপার চেষ্ট
- Update Time : ০৬:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ মে ২০১৮
- / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে চাচাতো ভাই কর্তৃক ১০ বছরের শিশুকন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিশুকন্যাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষিতার বাবা-মা’কে হুমকি দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে ধর্ষকের পরিবার। ঘটনার ৪দিন অতিবাহিত হলেও এব্যাপারে কিছুই জানে না থানা পুলিশ। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁওয়ে এ নির্মম ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১৭ই মে রাতে ওই শিশুটি বাথরুমে যায়। তার চাচাতো ভাই মো. আব্দুল্লাহ এ সময় তাকে একা পেয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষক আব্দুল্লাহ (১৭) পালিয়ে যায়। সে পারুয়া দাখিল মাদরাসার ছাত্র ও একই এলাকার নোয়াগাঁওয়ে আব্দুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় লোকজন ও ধর্ষকের পরিবারের সদস্যরা রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রথমে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষিতার বাবা ও মাকে না জানিয়ে গোপনে ধর্ষকের মা ও ভাই আব্দুর রউফ ওই শিশুকন্যাকে সিলেট নিয়ে আসেন। গাছ থেকে পরে অসুস্থ হয়েছে বলে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আসক ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগীয় সভাপতি রকিব আল মাহমুদ মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জকে অবগত করেন। পুলিশের সহযোগিতায় ওই হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ওই শিশুকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি বিভাগে ভর্তি করেন। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়াতে শিশুটিকে ওসিসি বিভাগ থেকে তাকে গাইনি ওয়ার্ডে নেয়া হয়। সেখানে ওই শিশুর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়। রোববার গাইনি ওয়ার্ড থেকে ওই শিশুকে ফের ওসিসিতে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরে ওই শিশুকন্যাটি।
আসক ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগীয় সভাপতি রকিব আল মাহমুদ দেশদর্পণকে জানান, শিশুকন্যার শারীরিক অবস্থান খুবই সংকটাপন্ন। ধর্ষণের ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।
ওসিসির কর্তব্যরত নার্স দেশদর্পণকে জানান, ধর্ষণের শিকার হওয়ায় ওই শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাকে নির্মমভাবে যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। ওসিসিতে ওই শিশুর সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ ওই শিশুর চাচাতো ভাই। এ কারণে পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কোম্পানীগঞ্জ থানা ওসি (তদন্ত) দিলিপ কান্ত নাথ দেশদর্পণকে বলেন, এরকম কোন খবর আমাদের থানায় নেই। ওসিসি থেকেও কোনধরণের কাগজপত্র আমরা পাইনি। খোজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























