০৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৫ ছাত্রীকে শোকজ, আতঙ্কে অন্যরা

  • Update Time : ০৩:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ মে ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ২৫ ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এ কারণে ওই ছাত্রীদের শোকজ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের হল কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নোটিশের এক কপি ছাত্রীদের বাড়িতেও পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে অভিযুক্তদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। ফলে নতুন করে ওই হলের শিক্ষার্থীদের

মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হয়রানির আশঙ্কা করছেন অনেকে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে আপনি কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, অসত্য রটনা ও গুজব ছড়িয়েছেন যে, উক্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফফাত জাহান এশা অন্য এক আবাসিক শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তারের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে এবং তাকে মারধর করেছে। আপনি অন্যান্য আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছেন ও তার আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আপনার এ ধরনের পূর্বপরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও প্রচারণা হলের ছাত্রীদের ভীষণভাবে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত করেছে। তা ছাড়া আপনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সংঘবদ্ধ হয়ে ইফফাত জাহান এশাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন এবং জোরপূর্বক ইফফাত জাহান এশার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়েছেন এবং তার বস্ত্রহরণ করেছেন।

নোটিশে আরও বলা হয়, উক্ত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে আপনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কর্তৃক এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত কার্যকলাপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ভীষণভাবে ক্ষুণœ করেছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আইনের সুস্পষ্ট পরিপন্থী।

নোটিশ প্রাপ্তির দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তর না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্তি হয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কি শাস্তি হবে তা নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী বলেন, ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত না থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার শোকজ করে আমাদের হয়রানি করছে। এশা সেদিন রগ কাটেনি ঠিক আছে, কিন্তু সে নিয়মিতই ছাত্রীদের নির্যাতন করত। যার কারণে নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা ওইদিন সুযোগ পেয়ে তার প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এশার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বারবার হয়রানি করছে।

ছাত্রীদের নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা হাসান আল মামুন বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে বাধা দেওয়ার কারণে সেদিন দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। সেখানে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেটি আরও বেড়েছে। এখন এসব নোটিশ দিয়ে কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়। কারণ তাতে ঝামেলা আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। কারো আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে কেবল তাদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

২৫ ছাত্রীকে শোকজ, আতঙ্কে অন্যরা

Update Time : ০৩:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ মে ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ২৫ ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এ কারণে ওই ছাত্রীদের শোকজ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের হল কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নোটিশের এক কপি ছাত্রীদের বাড়িতেও পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে অভিযুক্তদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। ফলে নতুন করে ওই হলের শিক্ষার্থীদের

মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হয়রানির আশঙ্কা করছেন অনেকে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে আপনি কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, অসত্য রটনা ও গুজব ছড়িয়েছেন যে, উক্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফফাত জাহান এশা অন্য এক আবাসিক শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তারের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে এবং তাকে মারধর করেছে। আপনি অন্যান্য আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছেন ও তার আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আপনার এ ধরনের পূর্বপরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও প্রচারণা হলের ছাত্রীদের ভীষণভাবে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত করেছে। তা ছাড়া আপনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সংঘবদ্ধ হয়ে ইফফাত জাহান এশাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন এবং জোরপূর্বক ইফফাত জাহান এশার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়েছেন এবং তার বস্ত্রহরণ করেছেন।

নোটিশে আরও বলা হয়, উক্ত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে আপনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কর্তৃক এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত কার্যকলাপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ভীষণভাবে ক্ষুণœ করেছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আইনের সুস্পষ্ট পরিপন্থী।

নোটিশ প্রাপ্তির দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তর না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্তি হয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কি শাস্তি হবে তা নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী বলেন, ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত না থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার শোকজ করে আমাদের হয়রানি করছে। এশা সেদিন রগ কাটেনি ঠিক আছে, কিন্তু সে নিয়মিতই ছাত্রীদের নির্যাতন করত। যার কারণে নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা ওইদিন সুযোগ পেয়ে তার প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এশার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বারবার হয়রানি করছে।

ছাত্রীদের নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা হাসান আল মামুন বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে বাধা দেওয়ার কারণে সেদিন দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। সেখানে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেটি আরও বেড়েছে। এখন এসব নোটিশ দিয়ে কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়। কারণ তাতে ঝামেলা আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। কারো আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে কেবল তাদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ