০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে নারী-পুরুষ

  • Update Time : ১২:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৮
  • / ৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বশান্তি ও নারীর ক্ষমতায়নকে মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড় করিয়ে ভবিষ্যতে দারিদ্র্য, বৈষম্যহীন ও সংঘাতমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চাই। আমাদের দর্শন হবে মানবিক উন্নয়নে নারী-পুরুষ হাতে হাত ধরে কাজ করবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে লন্ডনে রানি এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টার ২-এ কমনওয়েলথ ওমেন্স ফোরামের একটি প্ল্যানারি সেশনে মূলবক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 
কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডের আমন্ত্রণে কমনওয়েলথ ওমেন্স ফোরাম আয়োজিত ‘ক্ষমতায়নে শিক্ষা : কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোয় নারীর জন্য গুণগত মানের প্রাথমিক শিক্ষা ও বাস্তবভিত্তিক মাধ্যমিক শিক্ষা এবং সমতা আনয়ন’ শীর্ষক প্ল্যানারি সেশনে মূলবক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল থেকে থেকে শুরু হয়েছে কমনওয়েলথের সরকারপ্রধানদের ২৫তম সভা। ‘টুয়ার্ডস এ কমন ফিউচার’ প্রতিপাদ্যের সভার শুরুতেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসদের মতো ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য দেন। ‘এডুকেট টু এম্পাওয়ার’ অধিবেশনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া জিলার্ড উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রীও কথা বলেন।
২০ মিনিটের বক্তব্যে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং তার সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। নারীশিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি উপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও গ্রামীণ নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নারীশিক্ষা ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ফলে পারিবারিক নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা বহুলাংশে কমেছে। নারীশিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাল্যবিয়ে কমাতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

 

লিঙ্গ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় জায়গায় থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের হিসাবে, ১৪৪টি দেশের মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অবস্থান ৪৭তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। আর বাংলাদেশের সংসদই বিশ্বের একমাত্র সংসদ যেখানে স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা নারী।

 
বাংলাদেশে সশস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীর কাজ করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিমান চালনা, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাষ্ট্রদূতের মতো উচ্চ পদগুলোয় বাংলাদেশের নারীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অংশ নেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মানবিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে নারী-পুরুষ

Update Time : ১২:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বশান্তি ও নারীর ক্ষমতায়নকে মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড় করিয়ে ভবিষ্যতে দারিদ্র্য, বৈষম্যহীন ও সংঘাতমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চাই। আমাদের দর্শন হবে মানবিক উন্নয়নে নারী-পুরুষ হাতে হাত ধরে কাজ করবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে লন্ডনে রানি এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টার ২-এ কমনওয়েলথ ওমেন্স ফোরামের একটি প্ল্যানারি সেশনে মূলবক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 
কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডের আমন্ত্রণে কমনওয়েলথ ওমেন্স ফোরাম আয়োজিত ‘ক্ষমতায়নে শিক্ষা : কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোয় নারীর জন্য গুণগত মানের প্রাথমিক শিক্ষা ও বাস্তবভিত্তিক মাধ্যমিক শিক্ষা এবং সমতা আনয়ন’ শীর্ষক প্ল্যানারি সেশনে মূলবক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল থেকে থেকে শুরু হয়েছে কমনওয়েলথের সরকারপ্রধানদের ২৫তম সভা। ‘টুয়ার্ডস এ কমন ফিউচার’ প্রতিপাদ্যের সভার শুরুতেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসদের মতো ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য দেন। ‘এডুকেট টু এম্পাওয়ার’ অধিবেশনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া জিলার্ড উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রীও কথা বলেন।
২০ মিনিটের বক্তব্যে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং তার সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। নারীশিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি উপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও গ্রামীণ নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নারীশিক্ষা ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ফলে পারিবারিক নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা বহুলাংশে কমেছে। নারীশিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাল্যবিয়ে কমাতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

 

লিঙ্গ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় জায়গায় থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের হিসাবে, ১৪৪টি দেশের মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অবস্থান ৪৭তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। আর বাংলাদেশের সংসদই বিশ্বের একমাত্র সংসদ যেখানে স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা নারী।

 
বাংলাদেশে সশস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীর কাজ করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিমান চালনা, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাষ্ট্রদূতের মতো উচ্চ পদগুলোয় বাংলাদেশের নারীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অংশ নেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ