০৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম

  • Update Time : ০৩:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার আর্থিক শর্ত কঠোর হচ্ছে। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর থেকে শিক্ষার্থী ভিসার (স্টুডেন্ট ভিসা) আবেদনকারীদের যুক্তরাজ্যে থাকা-খাওয়ার খরচ মেটাতে আগের চেয়ে বেশি অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হবে। লন্ডন ও লন্ডনের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যই বাড়ছে এই আর্থিক সংস্থান বা মেইনটেন্যান্স ফান্ডের পরিমাণ। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস) শিক্ষার্থী ভিসার আওতায় আবেদনকারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়মে লন্ডনে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বছরে অতিরিক্ত ৩৬৯ পাউন্ড ও লন্ডনের বাইরে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২৮৮ পাউন্ড দেখাতে হবে। ১ পাউন্ড = ১৬৬.৭১ টাকা (শুক্রবার, ৩০ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী)

লন্ডন ও লন্ডনের বাইরের শিক্ষার্থীদের কত অর্থ দেখাতে হবে?

বর্তমানে লন্ডনে পড়তে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের কোর্সের প্রতি মাসের জন্য ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড করে দেখাতে হয়। সর্বোচ্চ নয় মাসের জন্য এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। তবে ৩০ নভেম্বর থেকে মাসিক এই অঙ্ক বেড়ে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড হবে। ফলে নয় মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে। অর্থাৎ আগের তুলনায় বাড়তি ৩৬৯ পাউন্ডের সংস্থান রাখতে হবে। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বর্তমানে প্রতি মাসের জন্য ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড দেখাতে হয়। নতুন নিয়মে তা বেড়ে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড হবে। নয় মাসের জন্য সর্বোচ্চ অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ডে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২৮৮ পাউন্ড দেখাতে হবে।

টিউশন ফি কি এই অর্থের বাইরে?

হ্যাঁ। জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির অতিরিক্ত। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের একদিকে কোর্সের ফি পরিশোধের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে থাকা-খাওয়ার খরচ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও দেখাতে হবে। অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান মরগান স্মিথের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি ও ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জও আলাদা খরচ। ফলে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার মোট ব্যয় হিসাব করার সময় এসব খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে। ৩০ নভেম্বর বা এর পর যেসব আবেদন জমা দেওয়া হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে নতুন নির্ধারিত অঙ্ক অনুযায়ী অর্থ থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে।

কীভাবে অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হবে?

শিক্ষার্থীদের এক শিক্ষাবর্ষের টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর মতো অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হবে। ভিসার আবেদন করার আগে টানা অন্তত ২৮ দিন ওই অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা থাকতে হবে। এই ২৮ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের আগের ৩১ দিনের মধ্যে হতে হবে। অর্থ শিক্ষার্থীর নিজের ব্যাংক হিসাবে থাকতে পারে। চাইলে মা-বাবার ব্যাংক হিসাবের অর্থও দেখানো যাবে। এ ছাড়া শিক্ষাঋণ বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার (ফিন্যান্সিয়াল স্পনসরশিপ) প্রমাণ দিয়েও এ শর্ত পূরণ করা সম্ভব। তবে যেসব শিক্ষার্থী বৈধ অভিবাসন অনুমতি নিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার তারিখে অন্তত এক বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, সাধারণত তাঁদের এই আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয় না। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ ও ব্যাংক হিসাবে অর্থ রাখার সময়সীমা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম

Update Time : ০৩:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার আর্থিক শর্ত কঠোর হচ্ছে। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর থেকে শিক্ষার্থী ভিসার (স্টুডেন্ট ভিসা) আবেদনকারীদের যুক্তরাজ্যে থাকা-খাওয়ার খরচ মেটাতে আগের চেয়ে বেশি অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হবে। লন্ডন ও লন্ডনের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যই বাড়ছে এই আর্থিক সংস্থান বা মেইনটেন্যান্স ফান্ডের পরিমাণ। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস) শিক্ষার্থী ভিসার আওতায় আবেদনকারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়মে লন্ডনে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বছরে অতিরিক্ত ৩৬৯ পাউন্ড ও লন্ডনের বাইরে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২৮৮ পাউন্ড দেখাতে হবে। ১ পাউন্ড = ১৬৬.৭১ টাকা (শুক্রবার, ৩০ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী)

লন্ডন ও লন্ডনের বাইরের শিক্ষার্থীদের কত অর্থ দেখাতে হবে?

বর্তমানে লন্ডনে পড়তে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের কোর্সের প্রতি মাসের জন্য ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড করে দেখাতে হয়। সর্বোচ্চ নয় মাসের জন্য এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। তবে ৩০ নভেম্বর থেকে মাসিক এই অঙ্ক বেড়ে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড হবে। ফলে নয় মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে। অর্থাৎ আগের তুলনায় বাড়তি ৩৬৯ পাউন্ডের সংস্থান রাখতে হবে। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বর্তমানে প্রতি মাসের জন্য ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড দেখাতে হয়। নতুন নিয়মে তা বেড়ে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড হবে। নয় মাসের জন্য সর্বোচ্চ অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ডে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২৮৮ পাউন্ড দেখাতে হবে।

টিউশন ফি কি এই অর্থের বাইরে?

হ্যাঁ। জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির অতিরিক্ত। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের একদিকে কোর্সের ফি পরিশোধের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে থাকা-খাওয়ার খরচ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও দেখাতে হবে। অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান মরগান স্মিথের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি ও ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জও আলাদা খরচ। ফলে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার মোট ব্যয় হিসাব করার সময় এসব খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে। ৩০ নভেম্বর বা এর পর যেসব আবেদন জমা দেওয়া হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে নতুন নির্ধারিত অঙ্ক অনুযায়ী অর্থ থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে।

কীভাবে অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হবে?

শিক্ষার্থীদের এক শিক্ষাবর্ষের টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর মতো অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হবে। ভিসার আবেদন করার আগে টানা অন্তত ২৮ দিন ওই অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা থাকতে হবে। এই ২৮ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের আগের ৩১ দিনের মধ্যে হতে হবে। অর্থ শিক্ষার্থীর নিজের ব্যাংক হিসাবে থাকতে পারে। চাইলে মা-বাবার ব্যাংক হিসাবের অর্থও দেখানো যাবে। এ ছাড়া শিক্ষাঋণ বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার (ফিন্যান্সিয়াল স্পনসরশিপ) প্রমাণ দিয়েও এ শর্ত পূরণ করা সম্ভব। তবে যেসব শিক্ষার্থী বৈধ অভিবাসন অনুমতি নিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার তারিখে অন্তত এক বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, সাধারণত তাঁদের এই আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয় না। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ ও ব্যাংক হিসাবে অর্থ রাখার সময়সীমা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ