অসুস্থ বাবার খোঁজ-খবর নেন না তাশরীফ
- Update Time : ১২:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
দেশে কিছু একটা ঘটলেই মাইক্রোফোনে প্রায়ই তিনি ঝড় তোলেন। ন্যায়পরায়ণতায় জ্ঞানে অহরহ দেন সবক। অথচ সেই তিনি অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ দেন না। রাখেন না কোনো খোঁজ-খবর। ইসলামী বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ নিজেই গণমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তাশরীফের বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি নিজে অসুস্থ, অথচ ছেলের কাছে টাকা চাইলে দেয় না। কোনো খোঁজখবর রাখে না। কত জায়গায় কত টাকা ব্যয় করে। মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘পড়াইয়া তারে আজকে মাওলানা বানাইছি, হাফেজ বানাইছি। সে অস্বীকার যায়, আমি বলে তারে পড়াইছি না। এরপরে তার আরেকটা কথা, সে ছোট সময় তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেছিল।পরে মানুষের কাছে ভিক্ষা কইরা কইরা, টাকা চাইয়া চাইয়া; আমি তো টাকা অল্প টাকা পাই, ইমামতি করি, তো টাকাটা চলে না। পরে মাইনষের কাছ থেকে চাইয়া চাইয়া, অনেক কষ্ট কইরা, তারে অনেক দিন পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, মির্জাপুর হাসপাতালে আমি চিকিৎসা কইরা অনেক কষ্ট কইরা তারে আল্লাহ মুক্তি করছে, ভালো হইছে।’ নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন অসুস্থ ছিলাম, তারে কইছি, আমারে কিছু টাকা দে। পরে কিছু টাকা না দিয়া কয়, আমি জমি কিনমু। আমি টাকা দিতে পারতাম না, কষ্ট করে তোরে লেখাপড়া করলাম, লালনপালন করলাম, তুই টাকা দিতে পারতি না?’
মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা করানোর কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমি আমার এক মিডিয়ার মাধ্যমে একজন আমারে কইছে, মানুষের দ্বারস্থ হন, বেশি টাকা-পয়সা দিব। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে দ্বারস্থ হইছি। কিছু টাকা-পয়সা দিছেও। দেওয়ার পরে আমি চিকিৎসা করছি। কিন্তু চিকিৎসা করার পরেও আমার পুরাপুরি এটা ভালো হইছে না। আমি এহনো চিকিৎসাধীন আছি, চিকিৎসা করব।’
‘যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হইছে, পর হইলাম আমি। সে আজকে আমার খোঁজখবর লয় না, আমারে সে দেহে না, আমারে টাকা-পয়সা দেয় না। আমি কষ্টের ভিতরে আছি,’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই নিজের করুণ পরিণতির কথা তুলে ধরেন ইসলামী বক্তা তাশরীফের বাবা।
ছেলের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘তার অজস্র টাকা আছে, তার বন্ধুর অভাব নাই। আগে কি তার বন্ধু ছিল? আমি তারে কষ্ট করে পড়াইলাম, তারে কষ্ট করে পাললাম। সে আমারে তো কোনো দিন কিছু করে না।’
তাশরীফের পরামর্শে নিজের ইমামতির চাকরি ছাড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এরপরে কিছুদিন আগে আমি এই বাজার মসজিদে ইমামতি করি। এহন আইছে, আমি চেয়ারম্যান দাঁড়ামু, তুমি দোয়া করে আমারে মাফ করে দিও। আমি কইলাম, ঠিক আছে, ছেলে হিসেবে মাফ চাইছোস, মাফ করে দিলাম। মাফ করে দেওয়ার পরে কয়, ঠিক আছে, তাইলে তুমি চাকরি ছাইড়া দাও, তোমারে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দিমু। আমি কইলাম, ঠিক আছে, চাকরি ছেড়ে দিলাম। তার কথা অনুযায়ী চাকরি ছাইড়ে দিছি। পরে আমারে এক টাকাও দেয় না।’
তিনি বলেন, ‘তার লগে পিএস আছে, ওবায়দুল্লাহ। তারে কই, কিরে, হে তো টাকা দেয় না? ফোন দিলে ফোন ধরে না। ১০০ ফোন দেই, ফোন যত দেই, ফোন রিসিভ করে না।’
ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার কষ্ট প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি বাবা, সে সন্তান, তারে আমি ফোন দেই, রিসিভ করে না। পরে ওবায়দুল্লাহরে দিছি। ওবায়দুল্লাহ কয়, মাসে কিছু সমস্যা, পরে দিব। পরে ফোন দিতে দিতে বিরক্তি। ফোন ধরে না। টাকা-পয়সা লাগব না, আল্লাহ চালাইবো।’
কোরবানির ঈদের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘পরে হে কুরবানি আইছে, কইছে, আমি একটা গরু কুরবানি দিমু। তাইলে কি করাম? তাইলে এলাকায় কুরবানি দে, এলাকার মাইনষে কিছু গোশত দে, আমিও কিছু নিমু।’
তিনি বলেন, ‘পরে কয়, আমার তো বিভিন্ন বন্ধুবান্ধব আছে। এরা অনেকেই কুরবানি দিতে পারে না। তাগরে টাকা-পয়সা দেওয়া লাগব, গোশত দেওয়া লাগব। আমি কইলাম, সমস্যা নাই, তোর বন্ধুবান্ধব কুরবানি দিতে পারে না, তাগরে গোশত দে। আমারে এক টুকরা গোশত দিল না।’
তবে বাবার এসব অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, প্রায়ই বিতর্কিত মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করেন হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। সর্বশেষ সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপালের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেন।
টঙ্গীর ‘ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে এবং তাকে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
এ প্রসঙ্গে মাদ্রাসাশিক্ষকের পক্ষ নিয়ে তাশরীফ নিজের ফেসবুক পেজে লিখেন, ‘নাবালক ছোট বাচ্চাকে চুমু দেওয়া ১০০ বার জায়েজ।’




























