স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই ইসির
- Update Time : ০৮:২৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
- / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আলোচনা করছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শক, আনসার ও ভিডিপির প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করে ইসি। আর এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে আসন্ন এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেয়নি ইসি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ও প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঠিক যে নির্বাচন (জাতীয় নির্বাচন) করেছি, যেভাবে করেছি; স্থানীয় নির্বাচন তার চেয়ে খারাপ হবে না; বরং আমরা চাইবো তারচেয়ে আরও ভালো করতে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনও নিশ্চিত করে বলা যাবে না বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘এটা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আমাদের কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতে হচ্ছে। তবে তেমন সময় লাগবে না। আমাদের তরফ থেকে আমরা কাজ করে ফেলেছি এবং মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছি। এটা হয়ে গেলে আমাদের মোটামুটিভাবে আগের কিছু কাজের জন্য প্রকিউরমেন্টও আছে। আবার কিছু নির্বাচন করার জন্য আইনে বাধ্যবাধকতাও আছে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি।’ সিইসি আরও বলেন, ‘সরকার ছাড়া তো চলতে পারবো না। আমাদের পুলিশ লাগবে, বিজিবি লাগবে। এরা সবাই তো সরকারের লোক। শুধু আমার নির্বাচন কমিশনের একার প্রস্তুতি নয়। এই সমস্ত বাহিনী যারা নির্বাচনে কাজ করবে, তাদেরও প্রস্তুতি দরকার।’ সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কী কথা হয়েছে, জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমরা তার (আইজিপি) কাছে তাদের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চেয়েছি, সারা দেশের অবস্থা জানতে চেয়েছি এবং তিনি কতসংখ্যক পুলিশ দিতে পারবেন বা পারবেন না—এসব বিষয় জানতে চেয়েছি। তাকে কিছু পরামর্শও দিয়েছি। তাদের সহযোগিতা লাগবে। বিশেষ করে পুলিশের একটি মনিটরিং সিস্টেম আছে, সেটি আমরা চেয়েছি। নির্বাচনের সময় মনিটরিংয়ের কাজে সেটি ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও আমরা দেখতে চাই।‘
সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই ইসির
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আজকে দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বৈঠক শেষে তার কাছে বৈঠকে আলোচ্য বিষয়ে নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যে হবে, ইন-অ্যাডভান্স নির্বাচন কমিশন একটা ইনস্ট্রাকশন দিলেন যে তার জন্য একটা প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ যা করা দরকার, তা আপনারা শুরু করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘দ্য সিইসি গেভ আস আ আর্লি হেডস আপ, যাতে করে আমরা আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি। আমরা যেন প্রস্তুতি নিতে পারি।’ এসময় প্রায় ২০ মিনিট ধরে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বিজিবি প্রধান বলেন, ‘সেনাবাহিনী হয়তো এবার সম্পৃক্ত নাও হতে পারে। তো এই জন্য এবার বিজিবির ওপর একটা বড় দায়িত্ব থাকতে পারে। ভালো ইলেকশন আমরা করেছি, ডিউটি করেছি।’ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, ‘এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যেন সুন্দরভাবে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে করতে পারি, সেই ব্যাপারে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আলোচনা হয়েছে।’ এদিকে সিইসির সঙ্গে বৈঠকের পর দুই কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন বিজিবি প্রধান আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি প্রধানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই, আলোচনা হবে না কেন। আমরা তো বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েই আলোচনা করি। আজ হোক, কাল হোক, তারা তো অংশগ্রহণ করবেই। তাদেরও মানসিক প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। ওটা নিয়েই তারা জিজ্ঞেস করেছে, কবে নাগাদ নির্বাচন হতে পারে। আমরা বলেছি, শিগগির জানাবো।’ এসময় সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আপাতত আমরা প্ল্যান করছি না।’ এরপরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে কিনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘থাকবে না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সেসময় বৈঠক শেষে আইজিপি বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কিছু আলোচনা করেছি। সেখানে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় সেল গঠন, বিভিন্ন জেলা- উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে। আমরা গিগগির সেটা দিয়ে দিবো। এর পরেরদিন ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদও সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে বৈঠকেও নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা হয়।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পাশাপাশি, পাঁচ জেলায় ১৭টি আসনে মোতায়েন করা হয় ৫ হাজার নৌবাহিনীর সদস্য। এছাড়া বিমান বাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার জন, বিজিবির ১ হাজার ২১০ প্লাটুন বা ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এছাড়া দেশজুড়ে পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন সদস্য এবং র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ জন র্যাবের সদস্য এবং আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন সদস্য মোতায়েন হয়েছিল।




























