০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে একাই তিনজনকে খুন করেছে বাবুল: পুলিশ কমিশনার

  • Update Time : ০২:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটের রায়নগরে একই পরিবারের দম্পতিসহ তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল একাই এই তিনটি খুনের কথা স্বীকার করেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। পুলিশ কমিশনার জানান, প্রযুক্তির সহায়তা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ টিমের মাধ্যমে বিকেল ৩টার দিকে ঘাতক বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে সে একে একে তিনজনকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, নিহত গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে গত ১৫-২০ দিন আগে ঘাতক বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবুল পেশায় একজন কসাই এবং মাঝেমধ্যে রংমিস্ত্রির কাজ করে। ওই বাড়িতে আগে কাজ করার সুবাদে সবার সাথেই তার পরিচয় ছিল। বুধবার সকালে সে মূলত একটি ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ বা শারীরিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে ওই বাসায় গিয়েছিল।

কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, সকালে বাবুল বাসায় গিয়ে নক করলে গৃহপরিচারিকা তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে নেয়। এরপর একটি রুমে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবুল তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে উপর্যুপরি আঘাত করে। তাহমিনার চিৎকার শুনে বাসার মালিকের স্ত্রী সুরাইয়া এগিয়ে এলে বাবুল তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে। সবশেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয় এবং তাকেও কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতক। কমিশনার আরও জানান, তিনটি খুন করার পর ঘাতক বাবুল বারান্দা দিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের বিশেষ টিম প্রযুক্তির সহায়তায় তার গতিবিধি শনাক্ত করে এবং বিকেলেই রায়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য মিতালি ১১১ নম্বর বাসার পাশের ঝোপঝাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেটে একাই তিনজনকে খুন করেছে বাবুল: পুলিশ কমিশনার

Update Time : ০২:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটের রায়নগরে একই পরিবারের দম্পতিসহ তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল একাই এই তিনটি খুনের কথা স্বীকার করেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। পুলিশ কমিশনার জানান, প্রযুক্তির সহায়তা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ টিমের মাধ্যমে বিকেল ৩টার দিকে ঘাতক বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে সে একে একে তিনজনকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, নিহত গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে গত ১৫-২০ দিন আগে ঘাতক বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবুল পেশায় একজন কসাই এবং মাঝেমধ্যে রংমিস্ত্রির কাজ করে। ওই বাড়িতে আগে কাজ করার সুবাদে সবার সাথেই তার পরিচয় ছিল। বুধবার সকালে সে মূলত একটি ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ বা শারীরিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে ওই বাসায় গিয়েছিল।

কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, সকালে বাবুল বাসায় গিয়ে নক করলে গৃহপরিচারিকা তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে নেয়। এরপর একটি রুমে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবুল তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে উপর্যুপরি আঘাত করে। তাহমিনার চিৎকার শুনে বাসার মালিকের স্ত্রী সুরাইয়া এগিয়ে এলে বাবুল তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে। সবশেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয় এবং তাকেও কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতক। কমিশনার আরও জানান, তিনটি খুন করার পর ঘাতক বাবুল বারান্দা দিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের বিশেষ টিম প্রযুক্তির সহায়তায় তার গতিবিধি শনাক্ত করে এবং বিকেলেই রায়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য মিতালি ১১১ নম্বর বাসার পাশের ঝোপঝাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ