০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

  • Update Time : ০২:২৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / ৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এবং পরে একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি মিছিলের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজারে মিছিল করেন। এতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হানসহ জেলা নেতারা অংশ নেন। মিছিল শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের অনুসারী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

অন্যদিকে, মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রদলের দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন।

হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। আহতদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি।’

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হামলা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা কাজ করছেন।’ তবে হামলা ও সংঘর্ষের বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

Update Time : ০২:২৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এবং পরে একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি মিছিলের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজারে মিছিল করেন। এতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হানসহ জেলা নেতারা অংশ নেন। মিছিল শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের অনুসারী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

অন্যদিকে, মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রদলের দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন।

হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। আহতদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি।’

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হামলা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা কাজ করছেন।’ তবে হামলা ও সংঘর্ষের বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ