০৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউকে ছেঁড়া টাকা ধরিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?

  • Update Time : ০৬:১২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

প্রশ্ন

এক প্রশ্নকারী বলেন, কেউ যদি আমাকে ছেঁড়া টাকা দেয়, আমি না দেখে নিয়ে নিই, এবং সেটা যদি আমি কোনো কৌশলে অন্য কাউকে দিই, তাহলে কি ধোঁকা দেওয়া হবে? কারণ স্বাভাবিকভাবে দিলে তো সে নেবে না। সেই অবস্থায় আমার কী করা দরকার?

উত্তর 

ঢাকা বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেন, কোনো কৌশলে বা লুকিয়ে অন্য কাউকে সেই ছেঁড়া টাকা ধরিয়ে দেওয়া স্পষ্ট ধোঁকা ও প্রতারণা, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي

‘যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১০২)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও ইরশাদ করেছেন—

لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ بَاعَ مِنْ أَخِيهِ بَيْعًا فِيهِ عَيْبٌ إِلَّا بَيَّنَهُ لَهُ

‘কোনো মুসলিমের জন্য ত্রুটিযুক্ত কোনো জিনিস তার অপর মুসলিম ভাইয়ের কাছে স্পষ্ট করে না জানিয়ে বিক্রি করা বা দেওয়া বৈধ নয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৪৬)

ইসলামি শরিয়তের নীতি হলো, কোনো পণ্যে বা টাকায় যদি ত্রুটি থাকে, তবে তা প্রকাশ করে দেওয়া আবশ্যক। আপনি নিজেই বলেছেন, স্বাভাবিকভাবে দিলে তো সে নেবে না। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, অপর ব্যক্তি অনিচ্ছুক, আর আপনি তার অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে বা কৌশল খাটিয়ে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।

আপনাকে যিনি না জানিয়ে ছেঁড়া টাকাটি দিয়েছেন, তিনি অন্যায় করেছেন। কিন্তু তার অন্যায়ের ক্ষতি অন্য একজন নিরপরাধ মানুষের ঘাড়ে কৌশলে চাপিয়ে দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।

ছেঁড়া টাকা নিয়ে আপনার করণীয় হলো—

১. ব্যাংক থেকে পরিবর্তন করে নেওয়া

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বা যেকোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের) সুস্পষ্ট আইন অনুযায়ী, যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় ছেঁড়া-ফাটা বা জোড়াতালি দেওয়া নোট জমা দিয়ে সমমূল্যের নতুন বা ভালো নোট বদলে নেওয়া যায়। নোটটির বেশিরভাগ অংশ অক্ষত থাকলে ব্যাংক কোনো চার্জ ছাড়াই তা পরিবর্তন করে দেয়। আপনি নিকটস্থ যেকোনো ব্যাংকে গিয়ে এটি সহজেই বদলে নিতে পারেন।

২. আগের ব্যক্তির কাছে ফেরত দেওয়া

টাকাটি কার কাছ থেকে পেয়েছেন, তা যদি সুনির্দিষ্টভাবে মনে থাকে, তবে তার কাছে গিয়ে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলে ভালো টাকা চেয়ে নিতে পারেন।

৩. স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া

আপনি যদি কোনো সাধারণ মানুষকে দিতেই চান, তবে লুকিয়ে না দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিন—ভাই, নোটটি কিছুটা ছেঁড়া, আপনি কি এটা নেবেন? তিনি যদি নিজ ইচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করতে রাজি হন, তবেই কেবল তাকে দেওয়া জায়েজ হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

কাউকে ছেঁড়া টাকা ধরিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?

Update Time : ০৬:১২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশ্ন

এক প্রশ্নকারী বলেন, কেউ যদি আমাকে ছেঁড়া টাকা দেয়, আমি না দেখে নিয়ে নিই, এবং সেটা যদি আমি কোনো কৌশলে অন্য কাউকে দিই, তাহলে কি ধোঁকা দেওয়া হবে? কারণ স্বাভাবিকভাবে দিলে তো সে নেবে না। সেই অবস্থায় আমার কী করা দরকার?

উত্তর 

ঢাকা বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেন, কোনো কৌশলে বা লুকিয়ে অন্য কাউকে সেই ছেঁড়া টাকা ধরিয়ে দেওয়া স্পষ্ট ধোঁকা ও প্রতারণা, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي

‘যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১০২)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও ইরশাদ করেছেন—

لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ بَاعَ مِنْ أَخِيهِ بَيْعًا فِيهِ عَيْبٌ إِلَّا بَيَّنَهُ لَهُ

‘কোনো মুসলিমের জন্য ত্রুটিযুক্ত কোনো জিনিস তার অপর মুসলিম ভাইয়ের কাছে স্পষ্ট করে না জানিয়ে বিক্রি করা বা দেওয়া বৈধ নয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৪৬)

ইসলামি শরিয়তের নীতি হলো, কোনো পণ্যে বা টাকায় যদি ত্রুটি থাকে, তবে তা প্রকাশ করে দেওয়া আবশ্যক। আপনি নিজেই বলেছেন, স্বাভাবিকভাবে দিলে তো সে নেবে না। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, অপর ব্যক্তি অনিচ্ছুক, আর আপনি তার অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে বা কৌশল খাটিয়ে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।

আপনাকে যিনি না জানিয়ে ছেঁড়া টাকাটি দিয়েছেন, তিনি অন্যায় করেছেন। কিন্তু তার অন্যায়ের ক্ষতি অন্য একজন নিরপরাধ মানুষের ঘাড়ে কৌশলে চাপিয়ে দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।

ছেঁড়া টাকা নিয়ে আপনার করণীয় হলো—

১. ব্যাংক থেকে পরিবর্তন করে নেওয়া

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বা যেকোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের) সুস্পষ্ট আইন অনুযায়ী, যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় ছেঁড়া-ফাটা বা জোড়াতালি দেওয়া নোট জমা দিয়ে সমমূল্যের নতুন বা ভালো নোট বদলে নেওয়া যায়। নোটটির বেশিরভাগ অংশ অক্ষত থাকলে ব্যাংক কোনো চার্জ ছাড়াই তা পরিবর্তন করে দেয়। আপনি নিকটস্থ যেকোনো ব্যাংকে গিয়ে এটি সহজেই বদলে নিতে পারেন।

২. আগের ব্যক্তির কাছে ফেরত দেওয়া

টাকাটি কার কাছ থেকে পেয়েছেন, তা যদি সুনির্দিষ্টভাবে মনে থাকে, তবে তার কাছে গিয়ে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলে ভালো টাকা চেয়ে নিতে পারেন।

৩. স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া

আপনি যদি কোনো সাধারণ মানুষকে দিতেই চান, তবে লুকিয়ে না দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিন—ভাই, নোটটি কিছুটা ছেঁড়া, আপনি কি এটা নেবেন? তিনি যদি নিজ ইচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করতে রাজি হন, তবেই কেবল তাকে দেওয়া জায়েজ হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ