০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলুম করে কেউ চিরস্থায়ী হতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না: মুফতি আলী হাসান উসামা

  • Update Time : ০২:১৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: ইসলামিক স্কলার মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, বাতিলের সঙ্গে আপস নয়, সততা, নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রশ্নে আপসহীন থাকতে হবে। তিনি ইসলামের শাশ্বত আদর্শ, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১০টায় সিলেটের ওসমানীনগর ইসলামিক একাডেমি দাখিল মাদরাসায় মাসব্যাপী ‘সীরাত ফেস্ট’ এর পুরস্কার বিতরণ ও বার্ষিক সিরাত মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

হযরত মাওলানা আলী হাসান উসামা বলেন, শহীদ মানে মহান রবের কাছে নিজের প্রাণ বিক্রি করে দেওয়া। একজন মানুষ যখন নিজের জীবন আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে, তখন নামাজ, রোজা ও ইসলামের অন্যান্য ইবাদত তার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। জীবনে যত জুলুম-নির্যাতন ও বিপদই আসুক, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রেখে ঈমানের সঙ্গে তা মোকাবিলা করতে হবে।

জুলুমের পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন, মজলুম ব্যক্তি মুসলমান না হলেও তার ওপর জুলুম করা ইসলামে সমর্থিত নয়। জুলুমের পরিণতি ভয়াবহ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা অন্যায়-অত্যাচারের মাধ্যমে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, তাদের কেউই চিরস্থায়ী হতে পারেনি। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জালিমের পরিণতি পতন। তাই ভবিষ্যতেও যারা জুলুমের পথ বেছে নেবে, তাদের পরিণতিও শুভ হবে না।

রমজানের শেষ দশকের এতেকাফ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতেকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত। কোনো ব্যক্তি শুধু টাকা-পয়সা বা সামাজিক চাপের কারণে ইতিকাফে বসলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। তবে কাউকে কোনো ধরনের ইঙ্গিত বা প্ররোচনা ছাড়াই কেউ স্বেচ্ছায় খাবার, হাদিয়া বা সহযোগিতা করলে সেটি ভিন্ন বিষয়। এতেকাফের মূল উদ্দেশ হওয়া উচিত একান্তভাবে আল্লাহর ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও তাঁর নৈকট্য অর্জন।

কোরআনের শাশ্বততা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোরআন কখনো পুরোনো হওয়ার নয়। এটি কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য হেদায়েতের কিতাব। পৃথিবীর শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাই মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশনা।

রাজনীতি ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে মাওলানা আলী হাসান উসামা বলেন, ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির চেয়ে নীতি, আদর্শ ও ন্যায়বিচারকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর দাওয়াত থেকে সরিয়ে নিতে মক্কার কাফিররা নারী, সম্পদ, নেতৃত্ব ও নানা প্রলোভনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) সত্যের দাওয়াত থেকে একচুলও সরে যাননি। তাই সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে বাতিলের সঙ্গে আপস না করে ঈমানি দৃঢ়তা বজায় রাখতে হবে।

রাজনীতিতে দ্বৈতনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারদলীয় কেউ অপরাধ করলে তার অপরাধকে আড়াল করা হবে, আর বিরোধী দলের কেউ একই অপরাধ করলে তাকে আইনি শাস্তি, সামাজিকভাবে সাইবার বুলিং করা হবে এ ধরনের দ্বৈতনীতি ইসলামসম্মত ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশে এত মুসলমান থাকা সত্ত্বেও ইসলামের আদর্শ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা কেন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আগে ব্যক্তির চরিত্র, আমল, নৈতিকতা ও তাকওয়ার সংশোধন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মাসব্যাপী সিরাত ফেস্টে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও পাগড়ি বিতরণ করা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জুলুম করে কেউ চিরস্থায়ী হতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না: মুফতি আলী হাসান উসামা

Update Time : ০২:১৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: ইসলামিক স্কলার মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, বাতিলের সঙ্গে আপস নয়, সততা, নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রশ্নে আপসহীন থাকতে হবে। তিনি ইসলামের শাশ্বত আদর্শ, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১০টায় সিলেটের ওসমানীনগর ইসলামিক একাডেমি দাখিল মাদরাসায় মাসব্যাপী ‘সীরাত ফেস্ট’ এর পুরস্কার বিতরণ ও বার্ষিক সিরাত মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

হযরত মাওলানা আলী হাসান উসামা বলেন, শহীদ মানে মহান রবের কাছে নিজের প্রাণ বিক্রি করে দেওয়া। একজন মানুষ যখন নিজের জীবন আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে, তখন নামাজ, রোজা ও ইসলামের অন্যান্য ইবাদত তার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। জীবনে যত জুলুম-নির্যাতন ও বিপদই আসুক, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রেখে ঈমানের সঙ্গে তা মোকাবিলা করতে হবে।

জুলুমের পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন, মজলুম ব্যক্তি মুসলমান না হলেও তার ওপর জুলুম করা ইসলামে সমর্থিত নয়। জুলুমের পরিণতি ভয়াবহ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা অন্যায়-অত্যাচারের মাধ্যমে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, তাদের কেউই চিরস্থায়ী হতে পারেনি। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জালিমের পরিণতি পতন। তাই ভবিষ্যতেও যারা জুলুমের পথ বেছে নেবে, তাদের পরিণতিও শুভ হবে না।

রমজানের শেষ দশকের এতেকাফ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতেকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত। কোনো ব্যক্তি শুধু টাকা-পয়সা বা সামাজিক চাপের কারণে ইতিকাফে বসলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। তবে কাউকে কোনো ধরনের ইঙ্গিত বা প্ররোচনা ছাড়াই কেউ স্বেচ্ছায় খাবার, হাদিয়া বা সহযোগিতা করলে সেটি ভিন্ন বিষয়। এতেকাফের মূল উদ্দেশ হওয়া উচিত একান্তভাবে আল্লাহর ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও তাঁর নৈকট্য অর্জন।

কোরআনের শাশ্বততা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোরআন কখনো পুরোনো হওয়ার নয়। এটি কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য হেদায়েতের কিতাব। পৃথিবীর শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাই মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশনা।

রাজনীতি ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে মাওলানা আলী হাসান উসামা বলেন, ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির চেয়ে নীতি, আদর্শ ও ন্যায়বিচারকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর দাওয়াত থেকে সরিয়ে নিতে মক্কার কাফিররা নারী, সম্পদ, নেতৃত্ব ও নানা প্রলোভনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) সত্যের দাওয়াত থেকে একচুলও সরে যাননি। তাই সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে বাতিলের সঙ্গে আপস না করে ঈমানি দৃঢ়তা বজায় রাখতে হবে।

রাজনীতিতে দ্বৈতনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারদলীয় কেউ অপরাধ করলে তার অপরাধকে আড়াল করা হবে, আর বিরোধী দলের কেউ একই অপরাধ করলে তাকে আইনি শাস্তি, সামাজিকভাবে সাইবার বুলিং করা হবে এ ধরনের দ্বৈতনীতি ইসলামসম্মত ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশে এত মুসলমান থাকা সত্ত্বেও ইসলামের আদর্শ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা কেন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আগে ব্যক্তির চরিত্র, আমল, নৈতিকতা ও তাকওয়ার সংশোধন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মাসব্যাপী সিরাত ফেস্টে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও পাগড়ি বিতরণ করা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ