০৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চারটি বদস্বভাব, আসুন বর্জন করি : শাহ মমশাদ আহমদ

  • Update Time : ০৪:১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ মার্চ ২০২২
  • / ৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

পূন্যময় রজনী শবেবরাত সমাগত। সাহীহ হাদিসের আলোকে প্রমাণিত এরাতে আল্লাহ পাক মুশরেক ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষনকারী ব্যতিত সকল মুসলমানদের ক্ষমা করে দিবেন। আমাদের মধ্যে বিরাজমান চারটি বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী স্বভাবের উল্লেখ করছি আসুন, মিলিয়ে দেখি নিজের মধ্যে এমন কুস্বভাব আছে কিনা? যদি থাকে, নিরসনের চেষ্টা করি।

 

১= প্রায় মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকেন যাদের দেখলেই মন খারাপ হয়ে যায়। কথা বলতে ইচ্ছা করেনা।রাগ রাগ ভাব হয়।
চিন্তা করে দেখুন, এমন কোন ব্যক্তি আছেন কিনা? যাকে দেখলেই আপনার বিরক্তি লাগে অথচ সে আপনার কোন ক্ষতি করেনি।আপনাকে কষ্ট ও দেয়নি। এদের নিয়ে আপনি কখনো কি ভেবেছেন? আপনার উচিত এধরণের ভাইদের নিয়ে ভাবা। মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলা শুরু করা। এতে সাদাকার সওয়াব পাবেন।অযথা বিদ্বেষের গুনাহ থেকে মুক্তি পাবেন। কিছুদিন পর দেখবেন ওনারা আপনার প্রিয় মানুষ গেছেন। বিগত দিনের মন্দ ধারণার কারণে অবশ্যই অনুশোচনায় ভুগবেন। আর দেরি নয়,মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলা শুরু করুন।

 

২=বন্ধুদের মধ্যে মানঅভিমান থাকা স্বাভাবিক। খুজে দেখুন, আপনার এমন বন্ধু আছে কিনা? যার সাথে দীর্ঘদিন যাবত কথা বলা বন্ধ। কথা বলতে লজ্জা লাগছে। এখনই, সালাম দিয়ে ম্যাসেজ দিন। আর যদি এমন বন্ধু থাকে যার সাথে কি নিয়ে বাতচিত বন্ধ স্মরণ নেই,তাকে লিখুন, বন্ধু! তোমার সাথে কি নিয়ে আমার বিবাদ স্মরণ আছে কি? দেখবেন, অভিমানী বিদ্বেষ বিদায় নিবে।

 

২=আপনি হয়তো জানেননা? বন্ধুদের অহরহ কষ্ট দিয়ে থাকেন।বন্ধুরা আপনার ব্যক্তিত্বের কারণে কিছু বলতে পারেনা। প্রথমত, আপনার কথা ওরা মন দিয়ে শুনে।অথচ আপনি তাদের কথা মন দিয়ে শুনেননা। তাদের মনের কথা পূর্ন করার পুর্বেই কথা কেটে দেন।কথা পূর্ন না করতে পারা একটি নীরব মনের ব্যাথা।একবার ভাবুন। জীবনের একটি গল্প শুরু করলেন, বন্ধুরা শুনতে চাইলোনা, আপনার কেমন লাগে?

 

৩=দ্বিতীয়ত আপনি বন্ধুদের নিয়ে খোশগল্প করেন, আড্ডায় বসেন।অথচ আপনি বন্ধুদের মধ্যে যাকে বেশি ভালোবাসেন, শুধু তার দিকে তাকিয়ে কথা বলেন।

 

ক্লাসে জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, আপনি যদি ক্লাসের মেধাবী ছাত্রদের দিকে নজর দিয়ে কথা বলেন, এতে এতে অন্যরা মনে কষ্ট পায়। বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। আপনি কথা বলার সময় উপস্থিত সকলের দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করুন। আল্লাহ আমাদের মানুষের মনোকষ্ট দেয়া থেকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ। হিংসা-বিদ্বেষ এবং বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী স্বভাব থেকে পানাহ চাই। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

চারটি বদস্বভাব, আসুন বর্জন করি : শাহ মমশাদ আহমদ

Update Time : ০৪:১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ মার্চ ২০২২

পূন্যময় রজনী শবেবরাত সমাগত। সাহীহ হাদিসের আলোকে প্রমাণিত এরাতে আল্লাহ পাক মুশরেক ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষনকারী ব্যতিত সকল মুসলমানদের ক্ষমা করে দিবেন। আমাদের মধ্যে বিরাজমান চারটি বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী স্বভাবের উল্লেখ করছি আসুন, মিলিয়ে দেখি নিজের মধ্যে এমন কুস্বভাব আছে কিনা? যদি থাকে, নিরসনের চেষ্টা করি।

 

১= প্রায় মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকেন যাদের দেখলেই মন খারাপ হয়ে যায়। কথা বলতে ইচ্ছা করেনা।রাগ রাগ ভাব হয়।
চিন্তা করে দেখুন, এমন কোন ব্যক্তি আছেন কিনা? যাকে দেখলেই আপনার বিরক্তি লাগে অথচ সে আপনার কোন ক্ষতি করেনি।আপনাকে কষ্ট ও দেয়নি। এদের নিয়ে আপনি কখনো কি ভেবেছেন? আপনার উচিত এধরণের ভাইদের নিয়ে ভাবা। মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলা শুরু করা। এতে সাদাকার সওয়াব পাবেন।অযথা বিদ্বেষের গুনাহ থেকে মুক্তি পাবেন। কিছুদিন পর দেখবেন ওনারা আপনার প্রিয় মানুষ গেছেন। বিগত দিনের মন্দ ধারণার কারণে অবশ্যই অনুশোচনায় ভুগবেন। আর দেরি নয়,মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলা শুরু করুন।

 

২=বন্ধুদের মধ্যে মানঅভিমান থাকা স্বাভাবিক। খুজে দেখুন, আপনার এমন বন্ধু আছে কিনা? যার সাথে দীর্ঘদিন যাবত কথা বলা বন্ধ। কথা বলতে লজ্জা লাগছে। এখনই, সালাম দিয়ে ম্যাসেজ দিন। আর যদি এমন বন্ধু থাকে যার সাথে কি নিয়ে বাতচিত বন্ধ স্মরণ নেই,তাকে লিখুন, বন্ধু! তোমার সাথে কি নিয়ে আমার বিবাদ স্মরণ আছে কি? দেখবেন, অভিমানী বিদ্বেষ বিদায় নিবে।

 

২=আপনি হয়তো জানেননা? বন্ধুদের অহরহ কষ্ট দিয়ে থাকেন।বন্ধুরা আপনার ব্যক্তিত্বের কারণে কিছু বলতে পারেনা। প্রথমত, আপনার কথা ওরা মন দিয়ে শুনে।অথচ আপনি তাদের কথা মন দিয়ে শুনেননা। তাদের মনের কথা পূর্ন করার পুর্বেই কথা কেটে দেন।কথা পূর্ন না করতে পারা একটি নীরব মনের ব্যাথা।একবার ভাবুন। জীবনের একটি গল্প শুরু করলেন, বন্ধুরা শুনতে চাইলোনা, আপনার কেমন লাগে?

 

৩=দ্বিতীয়ত আপনি বন্ধুদের নিয়ে খোশগল্প করেন, আড্ডায় বসেন।অথচ আপনি বন্ধুদের মধ্যে যাকে বেশি ভালোবাসেন, শুধু তার দিকে তাকিয়ে কথা বলেন।

 

ক্লাসে জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, আপনি যদি ক্লাসের মেধাবী ছাত্রদের দিকে নজর দিয়ে কথা বলেন, এতে এতে অন্যরা মনে কষ্ট পায়। বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। আপনি কথা বলার সময় উপস্থিত সকলের দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করুন। আল্লাহ আমাদের মানুষের মনোকষ্ট দেয়া থেকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ। হিংসা-বিদ্বেষ এবং বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী স্বভাব থেকে পানাহ চাই। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ