কওমী অঙ্গনের শিক্ষকরা ছাত্রদের সম্পদ মনে করেন : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ০২:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
কওমী অঙ্গনের প্রত্যেক শিক্ষক নিজ ছাত্রদের সম্পদ মনে করেন। নিজে ও ছাত্রদের দুনিয়া-আখেরাতের সম্পদ মনে করি।দেশ জাতিও ইসলামের সেবায় প্রিয় ছাত্রদের কর্ম দেখলে মনে শিহরণ জাগে।
গতকাল স্নেহের মাওলানা মুফতি শফিকুল ইসলাম রচিত “নিভৃতচারী বীর’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জামেয়ার শিক্ষা সচিব হযরত মাওলানা মুফতি শফিকুর রহমানের দাঃ বাঃ এর সাথে অংশ গ্রহণ করি। নবীগঞ্জের পুরানগাও জামেয়া শহীদীয়ার হল রুমে অনুষ্ঠিত সভাটি মুলত ছিল, প্রবীণ ও তরুণ আলেমদের মিলন মেলা। হবিগঞ্জের অনেক বর্ষীয়ান আলেমদের নয়নভড়ে দেখার সুযোগ হয়। বিদগ্ধ আলেমদের মধ্যে নিজকে মক্তবের ছাত্র মনে হচ্ছিল, সংগত কারণে মঞ্চে বসতে হয়, নিজকে বেমানান মনে হচ্ছিল। পিছনের সারিতে একটি চেয়ারে জড়োসড়ো হয়ে বসে তন্ময় মনে মুরব্বিদের কথা শুনি। “নিভৃতচারী বীর” গ্রন্থটি তিন দশক পুর্বে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া বরেন্য নিভৃতচারী আলেম, ইমামবাড়ি মাদরাসার দীর্ঘ চল্লিশ বছরের মুহতামিম হযরত মাওলানা আব্দুস শাহীদ রঃ এর জীবন নিয়ে রচিত। তিনি ছিলেন শায়খুল ইসলাম মাদানী রহঃ এর শাগরেদ। আজীবন নীরবভাবে ইসলামের খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। তাঁর মহীরুহ জীবনের মুক্তা কুড়িয়ে মলাটবদ্ধ করার অসাধারণ কাজটি সম্পাদন করেছেন প্রিয় শফিকুল ইসলাম। চমৎকার বর্ননা ধারা,তথ্য সুত্র উল্লেখ, এবং শব্দশৈলিতা বইটির আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশালাকার গ্রন্থটি এক নিমিষে শেষ করার মত। বইটির প্রকাশক মরহুম আব্দুশ শহীদ রহঃ এর সাহেবজাদা হিফজুর রহমান চৌধুরী মক্কী। অনুভূতি প্রকাশকালে পিতার স্মরণে তিনি কথা বলতে পারছিলেননা। বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে নিজ পিতার চেতনা রক্ষায় অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, আমাদের প্রিয় উপস্থাপক স্নেহের মাওলানা মীম সুফিয়ান।আলেমদের অনেকেই উপস্থাপনা ভঙ্গি ও শব্দ উচ্চারনে বিমোহিত হয়ে পরিচয় জানতে চাচ্ছিলেন। শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা আব্দুস সাত্তার রহঃ এর সন্তান পরিচয় শুনে সকলেই ছিলেন আনন্দিত। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দানকালে জামেয়া মাদানিয়ার ফাজেল উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা আব্দাল হুসেন খান প্রিন্সিপাল রহ এর স্মৃতিচারণ করেন। এসময় শোকাবহ আবহের সৃষ্টি হয়। মুফতি শফিকুর রহমান সাহেব বইটির উপর তাৎপর্যপুর্ন আলোকপাত করেন। নিজ রুহানি সন্তানের কর্মে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। দু’একটা কথা বলার সুযোগ হয়। বক্তব্যের পর কয়েকজন আলেম অনেক আগ থেকেই আমার নাম শুনে আসছেন বলে মোবারকবাদ জানান। উস্তাদে মুহতারাম হযরত প্রিন্সিপাল রহ ও হযরত মাওলানা নেজাম উদ্দিন রহ এর স্মৃতি চারণ করে একজন বর্ষিয়ান আলেম আমাকে জড়িয়ে কেঁদে ফেলেন। নিজে ও অশ্রুসংরণ করতে পারিনি। আমাদের সফরের সাথী ছিলেন, সিলেট দারুল আযহার মাদরাসার পরিচালক, লেখক, সংগঠক মাওলানা মঞ্জুরে মাওলা, এবং উপশহরস্থ আইডিয়াল মাদরাসার পরিচালক, প্রতিভাধর চিন্তাশীল আলেম মাওলানা জাকারিয়া হাসান। প্রানবন্ত প্রিয় মানুষদের সাথে সফরটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। আসার পথে জামেয়া খাদিজাতুল কুবরা মাদরাসায় কিছু সময় অবস্থান করি। সুন্দর পরিবেশের দাওরা হাদীস পর্যন্ত মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জামেয়ার ফাজেল প্রিয় মুফতি মাওলানা আবু ইউসুফ। নবীগঞ্জ শহরে আমাদের আরেক প্রিয় ছাত্র মাওলানা ফয়সাল আহমদ প্রতিষ্ঠিত দারুল আবরার মাদরাসায় ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়।মাশাল্লাহ,। ছাত্রদের পড়ার মান ও সার্বিক সৃজনশীলতা আশাব্যঞ্জক। আল্লাহ প্রিয় ছাত্রদের দিনী কার্যক্রম কবুল করুন। বর্ষীয়ান আলেমদের হায়াতে বারাকাত দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।





























