০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘নব্বই দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো

  • Update Time : ০১:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুললেই এখন চোখে পড়ে বন্ধুদের নব্বই দশকের চেনা-অচেনা সব রূপ। কারো পরনে সেই সময়ের পোশাক, কারো পেছনে পুরোনো ঢাকার আমেজ, আবার কেউ বনে গেছেন পুরোনো সিনেমার নায়ক-নায়িকা! আর এই জাদু দেখাতে কোনো স্টুডিও বা ক্যামেরার দরকার হচ্ছে না; একটি মাত্র এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) অ্যাপে নিজের ছবি দিলেই কেল্লাফতে! মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই বদলে যাচ্ছে চেহারা, চুলের ছাঁট আর পেছনের পরিবেশ। বিনোদনের জন্য এই ট্রেন্ড দারুণ হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বড় প্রশ্ন—আমরা কি নিজেদের অজান্তেই সব ব্যক্তিগত তথ্য এআইয়ের হাতে তুলে দিচ্ছি? এআই প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার মানে শুধু নিজের চেহারাই নয়, বরং ছবির পেছনের ঘরবাড়ি, অফিসের আইডি কার্ড, কিংবা মেটাডেটায় থাকা লোকেশনের তথ্যও তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়া। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু মানুষের মুখের গঠন তো আর বদলানো যায় না! তাই কোনো অপরিচিত অ্যাপে হুড়মুড় করে ছবি আপলোড করার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা খুব দরকার।

ছবি দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:

মেয়াদ ও নিয়মকানুন: অ্যাপটি আপনার ছবি কতদিন জমা রাখবে, কাজ শেষে মুছে ফেলবে কি না, কিংবা আপনার ছবি দিয়ে তাদের এআই মডেলকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেবে কি না—সেসব শর্ত আগেই দেখে নিন। অপ্রয়োজনীয় অনুমতি এড়িয়ে চলুন: একটি ছবি এডিট করতে গিয়ে পুরো ফোনের গ্যালারি, লোকেশন, ক্যামেরা বা কন্টাক্টসের পারমিশন (‘Allow All Photos’) দেওয়ার কোনো দরকার নেই। শুধু যে ছবিটি এডিট করবেন, সেটুকুরই অ্যাকসেস দিন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও গোপন নথি নয়: জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ব্যাংক কার্ডের মতো সংবেদনশীল কোনো কাগজপত্রের ছবি ভুলেও এআই টুলে দেবেন না। ছবি মুছলেই কি সব শেষ?: অ্যাপ থেকে ছবি বা অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিলেই তথ্য যে তাদের সার্ভার থেকে পুরোপুরি মুছে যায়, তা কিন্তু নাও হতে পারে। অনেক সময় তাদের ব্যাকআপ সার্ভারে তথ্য থেকে যায়।

আজকের রেট্রো লুক, কালকের ‘ডিপফেক’?

আপনার ছবি আর কণ্ঠের নমুনা যদি সহজে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, তবে অসৎ উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল বা বিভ্রান্তিকর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে ফেলা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে তাই বলে কি এআই ব্যবহার একেবারেই বন্ধ করে দেবেন? একদমই নয়! এআই আমাদের ফটো এডিটিংয়ের কাজকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি কম সময়ে সৃজনশীল ভাবনার চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে। শুধু খেয়াল রাখুন—আজকের এই চমৎকার রেট্রো লুক কালকেই পুরোনো হয়ে যাবে, কিন্তু অনলাইনে একবার যে তথ্যটা চলে গেল, তা কিন্তু এত সহজে মুছবে না। তাই ট্রেন্ডে মেতে উঠুন, তবে নিজের তথ্যের লাগামটা থাকুক নিজের হাতেই!

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

‘নব্বই দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো

Update Time : ০১:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুললেই এখন চোখে পড়ে বন্ধুদের নব্বই দশকের চেনা-অচেনা সব রূপ। কারো পরনে সেই সময়ের পোশাক, কারো পেছনে পুরোনো ঢাকার আমেজ, আবার কেউ বনে গেছেন পুরোনো সিনেমার নায়ক-নায়িকা! আর এই জাদু দেখাতে কোনো স্টুডিও বা ক্যামেরার দরকার হচ্ছে না; একটি মাত্র এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) অ্যাপে নিজের ছবি দিলেই কেল্লাফতে! মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই বদলে যাচ্ছে চেহারা, চুলের ছাঁট আর পেছনের পরিবেশ। বিনোদনের জন্য এই ট্রেন্ড দারুণ হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বড় প্রশ্ন—আমরা কি নিজেদের অজান্তেই সব ব্যক্তিগত তথ্য এআইয়ের হাতে তুলে দিচ্ছি? এআই প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার মানে শুধু নিজের চেহারাই নয়, বরং ছবির পেছনের ঘরবাড়ি, অফিসের আইডি কার্ড, কিংবা মেটাডেটায় থাকা লোকেশনের তথ্যও তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়া। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু মানুষের মুখের গঠন তো আর বদলানো যায় না! তাই কোনো অপরিচিত অ্যাপে হুড়মুড় করে ছবি আপলোড করার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা খুব দরকার।

ছবি দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:

মেয়াদ ও নিয়মকানুন: অ্যাপটি আপনার ছবি কতদিন জমা রাখবে, কাজ শেষে মুছে ফেলবে কি না, কিংবা আপনার ছবি দিয়ে তাদের এআই মডেলকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেবে কি না—সেসব শর্ত আগেই দেখে নিন। অপ্রয়োজনীয় অনুমতি এড়িয়ে চলুন: একটি ছবি এডিট করতে গিয়ে পুরো ফোনের গ্যালারি, লোকেশন, ক্যামেরা বা কন্টাক্টসের পারমিশন (‘Allow All Photos’) দেওয়ার কোনো দরকার নেই। শুধু যে ছবিটি এডিট করবেন, সেটুকুরই অ্যাকসেস দিন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও গোপন নথি নয়: জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ব্যাংক কার্ডের মতো সংবেদনশীল কোনো কাগজপত্রের ছবি ভুলেও এআই টুলে দেবেন না। ছবি মুছলেই কি সব শেষ?: অ্যাপ থেকে ছবি বা অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিলেই তথ্য যে তাদের সার্ভার থেকে পুরোপুরি মুছে যায়, তা কিন্তু নাও হতে পারে। অনেক সময় তাদের ব্যাকআপ সার্ভারে তথ্য থেকে যায়।

আজকের রেট্রো লুক, কালকের ‘ডিপফেক’?

আপনার ছবি আর কণ্ঠের নমুনা যদি সহজে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, তবে অসৎ উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল বা বিভ্রান্তিকর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে ফেলা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে তাই বলে কি এআই ব্যবহার একেবারেই বন্ধ করে দেবেন? একদমই নয়! এআই আমাদের ফটো এডিটিংয়ের কাজকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি কম সময়ে সৃজনশীল ভাবনার চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে। শুধু খেয়াল রাখুন—আজকের এই চমৎকার রেট্রো লুক কালকেই পুরোনো হয়ে যাবে, কিন্তু অনলাইনে একবার যে তথ্যটা চলে গেল, তা কিন্তু এত সহজে মুছবে না। তাই ট্রেন্ডে মেতে উঠুন, তবে নিজের তথ্যের লাগামটা থাকুক নিজের হাতেই!

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ