১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত- ৬

  • Update Time : ১২:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের নারী-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার খোজারগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল হকের বোন রেজিয়া খাতুনের বিয়ে হয় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে বাবার দেওয়া জায়গায় ঘর নির্মাণ করে খোজারগাঁও গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি রেজিয়া খাতুনের মেয়ে সুহেনা আক্তার, যিনি এক সন্তানের জননী, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেজিয়া খাতুন, তার ভাই আব্দুল হক ও আব্দুল মালেকের ওপর তাদের নিজ গোষ্ঠীর লোকজন বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। এর জের ধরে শনিবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে আব্দুল হক ও তার ভাগ্নে মোস্তাকিমের সঙ্গে আব্দুল্লাহ এবং তার সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়। স্থানীয় লোকজন তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও মাগরিবের নামাজের সময় উভয় পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সংঘর্ষে আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও একই পরিবারের আরেকটি নারী-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ২৮ মে আব্দুল হকের ভাতিজা বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী, দুই সন্তানের জননী তামান্না আক্তার, চাচাতো দেবর মালেক মিয়ার ছেলে ফয়ছলের সঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিকভাবে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব বিরোধ নিষ্পত্তির পরিবর্তে কিছু প্রভাবশালী স্থানীয় মাতব্বর ব্যক্তিস্বার্থে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। তাদের দাবি, টাকার বিনিময়ে বিরোধ মীমাংসা না করে উভয় পক্ষকে উসকে দেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত- ৬

Update Time : ১২:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের নারী-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার খোজারগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল হকের বোন রেজিয়া খাতুনের বিয়ে হয় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে বাবার দেওয়া জায়গায় ঘর নির্মাণ করে খোজারগাঁও গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি রেজিয়া খাতুনের মেয়ে সুহেনা আক্তার, যিনি এক সন্তানের জননী, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেজিয়া খাতুন, তার ভাই আব্দুল হক ও আব্দুল মালেকের ওপর তাদের নিজ গোষ্ঠীর লোকজন বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। এর জের ধরে শনিবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে আব্দুল হক ও তার ভাগ্নে মোস্তাকিমের সঙ্গে আব্দুল্লাহ এবং তার সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়। স্থানীয় লোকজন তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও মাগরিবের নামাজের সময় উভয় পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সংঘর্ষে আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও একই পরিবারের আরেকটি নারী-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ২৮ মে আব্দুল হকের ভাতিজা বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী, দুই সন্তানের জননী তামান্না আক্তার, চাচাতো দেবর মালেক মিয়ার ছেলে ফয়ছলের সঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিকভাবে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব বিরোধ নিষ্পত্তির পরিবর্তে কিছু প্রভাবশালী স্থানীয় মাতব্বর ব্যক্তিস্বার্থে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। তাদের দাবি, টাকার বিনিময়ে বিরোধ মীমাংসা না করে উভয় পক্ষকে উসকে দেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ