০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরমে হাঁসফাঁস সিলেটের জনজীবন

  • Update Time : ০৪:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: রোদের প্রখরতায় চোখ মেলে যোনো তাকানোই যাচ্ছে না। কপালের উপর হাত রেখেও সম্মুখপানে চলা প্রায়ই অসম্ভব। রোদের তেজে শরীরের পশম যেনো পুড়ে যাওয়ার উপক্রম। সকাল থেকেই প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরম। বাতাসের সাথে যেনো গরম তাপ বের হচ্ছে। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরজীবন। নাভিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে মানুষজনের মধ্যে। বাহিরে মনে হচ্ছে রোগের সাথে আগুনের ফুল্কি ঝরছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক ও দিনমজুররা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তীব্র গরমের কারণে কাজের গতি কমে গেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সিলেট অঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারের চেয়ে পারদ কিছুটা নামলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরম অনুভূত হয়েছে আরও তীব্রভাবে। ফলে দিনের শুরু থেকেই আবহাওয়া ছিল অস্বস্তিকর। এদিকে তীব্র রোদ-গরমে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন খোলা আকাশের নিচে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষেরা। নগরীর এক রিকশাচালক শাহীন মিয়া বলেন, সকালের দিকে কিছু যাত্রী পাওয়া গেলেও দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। মাথায় ভেজা গামছা বেঁধে কাজ করছি। গরমের কারণে যাত্রীও কম, আয়ও আগের তুলনায় কমে গেছে। একই দুর্ভোগের কথা জানান দিনমজুর নুরুল ইসলামও। তিনি বলেন, দুপুরের রোদে কাজ করা এখন খুবই কষ্টকর। মাথা ঝিমঝিম করে, শরীর দুর্বল লাগে। তারপরও পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ বন্ধ করার সুযোগ নেই। ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও। নগরী আম্বরখানা এলাকায় ফল বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষ কম বের হচ্ছে। ফলে বিক্রিও কমে গেছে। সারাদিন রোদের মধ্যে বসে থাকতে হচ্ছে, যা খুবই কষ্টের। অন্যদিকে গরমের এই দাপটে খেটে খাওয়া মানুষদের এই দুর্ভোগ থেকে সহসাই মুক্তি মিলছে না। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টি না নামা পর্যন্ত এই তীব্র গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অব্যাহত থাকতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মোঃ সজিব হোসাইন বলেন, শনিবার দুপুর ১২টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তিনি জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিলেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী হতে পারে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

গরমে হাঁসফাঁস সিলেটের জনজীবন

Update Time : ০৪:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: রোদের প্রখরতায় চোখ মেলে যোনো তাকানোই যাচ্ছে না। কপালের উপর হাত রেখেও সম্মুখপানে চলা প্রায়ই অসম্ভব। রোদের তেজে শরীরের পশম যেনো পুড়ে যাওয়ার উপক্রম। সকাল থেকেই প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরম। বাতাসের সাথে যেনো গরম তাপ বের হচ্ছে। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরজীবন। নাভিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে মানুষজনের মধ্যে। বাহিরে মনে হচ্ছে রোগের সাথে আগুনের ফুল্কি ঝরছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক ও দিনমজুররা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তীব্র গরমের কারণে কাজের গতি কমে গেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সিলেট অঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারের চেয়ে পারদ কিছুটা নামলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরম অনুভূত হয়েছে আরও তীব্রভাবে। ফলে দিনের শুরু থেকেই আবহাওয়া ছিল অস্বস্তিকর। এদিকে তীব্র রোদ-গরমে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন খোলা আকাশের নিচে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষেরা। নগরীর এক রিকশাচালক শাহীন মিয়া বলেন, সকালের দিকে কিছু যাত্রী পাওয়া গেলেও দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। মাথায় ভেজা গামছা বেঁধে কাজ করছি। গরমের কারণে যাত্রীও কম, আয়ও আগের তুলনায় কমে গেছে। একই দুর্ভোগের কথা জানান দিনমজুর নুরুল ইসলামও। তিনি বলেন, দুপুরের রোদে কাজ করা এখন খুবই কষ্টকর। মাথা ঝিমঝিম করে, শরীর দুর্বল লাগে। তারপরও পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ বন্ধ করার সুযোগ নেই। ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও। নগরী আম্বরখানা এলাকায় ফল বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষ কম বের হচ্ছে। ফলে বিক্রিও কমে গেছে। সারাদিন রোদের মধ্যে বসে থাকতে হচ্ছে, যা খুবই কষ্টের। অন্যদিকে গরমের এই দাপটে খেটে খাওয়া মানুষদের এই দুর্ভোগ থেকে সহসাই মুক্তি মিলছে না। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টি না নামা পর্যন্ত এই তীব্র গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অব্যাহত থাকতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মোঃ সজিব হোসাইন বলেন, শনিবার দুপুর ১২টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তিনি জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিলেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী হতে পারে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ