হবিগঞ্জ–৪ আসনে ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত’ ইস্যু
- Update Time : ০২:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- / ৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে উঠেছে। ২টি উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনের ভোটারদের মধ্যে এবার সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত’ প্রার্থী ইস্যু। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বহিরাগত প্রার্থীদের তুলনায় স্থানীয় ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থীদের প্রতিই বেশি আস্থা প্রকাশ করছেন সাধারণ ভোটাররা। প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার ভোটারের এই আসনে এবার আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত শিল্পপতি সৈয়দ মো. ফয়সল (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ডক্টর আহমদ আব্দুল কাদের এবং বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোটাররা এবার দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় ও এলাকায় উপস্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের মতে, নির্বাচনের পর অনেক সময় বহিরাগত প্রার্থীদের খুঁজে পাওয়া যায় না, যার ফলে স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভোগান্তি বাড়ে। জগদীশপুর ইউনিয়নের নারী ভোটার আয়েশা আক্তার বলেন, “আমরা শিল্প কারখানায় কাজ করি। আমাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় এমন একজনকে চাই, যাকে বিপদের সময় পাশে পাওয়া যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে ২৮টি চা-বাগানের লক্ষাধিক শ্রমিক এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা প্রধান ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করবেন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, “মাধবপুর-চুনারুঘাটের চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবার দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে পারে এমন প্রার্থীকে বেছে নেবে। বর্তমান আলোচনায় বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল অনেকটা এগিয়ে আছেন। কারণ তিনি দীর্ঘকাল ধরে এই জনপদের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁর কঠোর অবস্থান রয়েছে।
চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান ও শাহজাহানপুর ইউপি চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন চৌধুরী জানান, সৈয়দ মো. ফয়সল দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর ব্যক্তিগত অনুদান ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। অন্যদিকে, অন্য জেলা থেকে আসা প্রার্থীদের সঙ্গে এলাকার মানুষের সরাসরি কোনো আত্মিক সম্পর্ক নেই। আদাঐর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মীর খুর্শেদ আলী মনে করেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।
সব মিলিয়ে পাহাড়, চা-বাগান ও শিল্পাঞ্চল বেষ্টিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবার এক জনসম্পৃক্ত ও সাহসী প্রতিনিধি বেছে নিতে মুখিয়ে আছেন ভোটাররা, যেখানে এখন পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল।


























