১০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে প্রবাসীর ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা!

  • Update Time : ০৭:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ আগস্ট ২০১৭
  • / ৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট থেকে :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চীগাঁও ইউনিয়নের মিরগাঁও গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে আব্দুল নূর ও তার ভাই-বোনদের প্রায় ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছেন গ্রামের আক্তার হোসেন, ফারুক আলী, সায়েস্তা মিয়া, আবু তাহের নজিরসহ একটি গোষ্ঠী। দীর্ঘ ১৪ বছর পর দেশে এসে ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতায় প্রাণের ভয়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে আব্দুল নূরকে।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে শনিবার বেলা ২টায় সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন প্রবাসী আব্দুল নূর।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল নূর বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও যুক্তরাজ্যে মিনিস্ট্রি অব জাস্টিসের জুরি বোর্ডের সদস্য। ১৪ বছর পর গত জানুয়ারিতে আমি বাংলাদেশে এসে নিজ এলাকার কতিপয় ষড়যন্ত্রকারী, দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতায় প্রাণের ভয়ে ছেড়ে এসেছি গ্রামের বাড়িঘর। একটি অপচক্র আমাদের ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র করছে।’

অসহায়দের উপকার করার চেষ্টা করেন উল্লেখ করেন আব্দুল নূর বলেন, ‘দেশে আসার পর গ্রামের ৪টি অসহায় পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। গ্রামে কটন মিয়ার নাতির বিয়েতে ৫০ হাজার টাকা ও আবদুস সোবহানের মেয়ের চিকিৎসায় ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। এলাকার বেশকিছু মানুষকে ঘর নির্মাণ ও অর্থ সহায়তা দিয়েছি। আমার গ্রামে নতুন মসজিদ নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে আমি ৩০ লাখ টাকা দিয়েছি। এবার দেশে এসে দেখি, মসজিদের পশ্চিমে থাকা আমাদের প্রায় ৮ শতক জায়গা মসজিদে ঢুকানো হয়েছে। আমি গ্রামের পঞ্চায়েতের ব্যক্তিবর্গকে জিজ্ঞেস করি, আমাদের কাউকে না বলে মসজিদে কেন জায়গা ঢুকানো হলো। আমার এসব কথায় মসজিদের মুতাওয়াল্লি আক্তার, ফারুক, সায়েস্তা, আবু তাহেরসহ একটি গোষ্ঠী ক্ষিপ্ত হয়।’

প্রবাসী আব্দুল নূর বলেন, ‘এতো টাকা খরচ করে মসজিদ নির্মিত হলেও ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। সবাই আমাকে ২৫ লাখ টাকা দিয়ে মসজিদের আরেক তলা নির্মাণের খরচ দিতে অনুরোধ জানালে আমি প্রশ্ন তুলি, এতো টাকা ব্যয়ে মসজিদ নির্মাণের পর কেন ছাদ দিয়ে পানি পড়বে? নির্মাণ কাজ কি ঠিকমতো হয়নি? টাকা কি লুট করা হয়েছে? কোনো সদুত্তর মিলেনি। আমি নিজের তত্ত্বাবধানে মসজিদে আরেক তলা নির্মাণ করতে চাইলে তারা রাজি হয়নি। কারণ তাদের হাতে টাকা না দিলে লুটপাটের সুযোগ পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘মুতাওয়াল্লি আক্তার নানা খারাপ কাজে লিপ্ত। ফারুক আলীর বড় ভাই উস্তার আলীকে স্থানীয় ছোট খুরমার মখদ্দুছ আলী মেম্বার চুরিতে ধরলে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। ফারুকের আরেক ভাই হারিছ আলী গ্রামে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করলে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয় ও কামালবাজার যুব ফোরাম তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। আবু তাহির নজির কয়েকজন লোকসহ বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করলে আমি ভয়ে তাদেরকে ৬০ হাজার টাকার চেক দেই।’

আব্দুল নূর আরো বলেন, ‘গত ২৪ মে ইমামের মাধ্যমে খবর পাই মসজিদের বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা। আমি পিডিবিতে ফোনে বিদ্যুৎ লাইন ঠিক করার অনুরোধ জানালে লাইনম্যান পাঠানো হয়। সে ভুল করে অন্য জায়গায় গিয়ে আমাকে ফোন করলে সঠিক ঠিকানা দেই। পরদিন সে এসে লাইন ঠিক করে দেয়। ২৪ মে রাতে ফারুক, সায়েস্তার নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা হয়। তারা আমার চাচা হাবিবুর রহমানের ঘর ডাকাতি করে নগদ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা, ৪ ভরি র্স্বণ ও মালামাল লুট করে। পরদিন ভোরে আমি সিলেট শহরে আসি। দুপুরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলি। ডাকাতির ঘটনায় রাত ৮টার দিকে বিশ্বনাথ থানায় গেলে তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলাম মামলা নেননি। আমার থানায় মামলা করতে যাওয়ার বিষয়টি গ্রামের লোকদের জানান ওসি। পরদিন আবু তাহের, সায়েস্তা ও ফারুকের নেতৃত্বে গ্রামের কতিপয় লোক বিশ্বনাথে আমাকে নাস্তিক উল্লেখ করে মানববন্ধন করে। আমি খবর পেয়ে সেদিন রাতেই সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করি। আমি নিজেকে নাস্তিক নই দাবি করে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষদের উসকে দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলা। ফারুক ও সায়েস্তার বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলাসহ (মামলা নং- জিআর-৬৮/১২, ৬৯/১২, ৭০/১২, ৭১/১২, ৭২/১২ ও ৭৩/১২) ৬টি মামলা রয়েছে।’

আব্দুল নূর জানান, গত ২৭ মে এএসপি কবির আহমদসহ পুলিশ তার গ্রামে গিয়ে তাকে নাস্তিক বলার সাপেক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কিনা তা জানতে চায়। কিন্তু কেউ প্রমাণ দিতে না পারায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচী না দেয়ার নির্দেশ দিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অপচক্রটি আমাদেরকে মসজিদে যেতে বাঁধা দেয় ও বাড়ি থেকে বেরোলে মারধর করে। ফারুকের নেতৃত্বে আমার ভাগ্নে রেদওয়ানকে মারধর করা হয়। প্রাণের ভয়ে গত জুনে আমরা বাড়ি ছেড়ে শহরে বাসায় এসে ওঠি। কয়েকদিন পর ফারুক ও সায়েস্তার নেতৃত্বে আমাদের বাড়ির গেইটের তিনটি তালা ভেঙে বারান্দায় থাকা জিনিসপত্র লুট করা হয়। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানালে তিনি বিশ্বনাথের ওসিকে ঘটনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। ওসি ঘটনাস্থলে দারোগো রাজীবকে পাঠালে রহস্যজনক কারণে তিনি তালা ভাঙা হয়নি বলে প্রতিবেদন দেন। এরপর আমি মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের মেম্বার মকব্বির আলীকে ঘটনাস্থলে পাঠালে তিনি তালা ভাঙা দেখতে পেয়ে তালা কিনে গেইটে লাগান।’

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল নূর বলেন, ‘গত ২৯ জুন আক্তার হোসেন বাদী হয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন। আমি নাকি ২৫ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় জোরপূর্বক মসজিদের চাবি নিয়ে আসি এবং এতে মসজিদে চার ওয়াক্ত নামাজ হয়নি। অথচ সেদিন আমি বাড়িতেই ছিলাম না। ভোরে সিলেট শহরে এসেছিলাম এবং ওই সময়ে সিলেট ইসলামী ব্যাংকে ছিলাম। আমার ফোনের জিপিএস ট্র্যাক করা হলে এর সত্যতা জানা যাবে। এছাড়া আমি একা গ্রামের এতো লোকের সামনে কি করে মসজিদের চাবি কেড়ে নিতে পারি?’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গ্রামে আমাদের প্রায় ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। স্থানীয় একটি অপচক্র এতে মদদ দিচ্ছে। আমি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে আক্তার, সায়েস্তা, ফারুকদের আসামি করে মানহানি মামলা করেছি। আমি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করবো। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির সাথে দেখা করার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন। কিন্তু দেশে এসে প্রবাসীরা হেনস্থার শিকার হলে ভবিষ্যতে তারা দেশবিমুখ হতে পারেন। এতে আমাদের দেশই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিশ্বনাথে প্রবাসীর ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা!

Update Time : ০৭:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ আগস্ট ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট থেকে :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চীগাঁও ইউনিয়নের মিরগাঁও গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে আব্দুল নূর ও তার ভাই-বোনদের প্রায় ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছেন গ্রামের আক্তার হোসেন, ফারুক আলী, সায়েস্তা মিয়া, আবু তাহের নজিরসহ একটি গোষ্ঠী। দীর্ঘ ১৪ বছর পর দেশে এসে ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতায় প্রাণের ভয়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে আব্দুল নূরকে।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে শনিবার বেলা ২টায় সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন প্রবাসী আব্দুল নূর।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল নূর বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও যুক্তরাজ্যে মিনিস্ট্রি অব জাস্টিসের জুরি বোর্ডের সদস্য। ১৪ বছর পর গত জানুয়ারিতে আমি বাংলাদেশে এসে নিজ এলাকার কতিপয় ষড়যন্ত্রকারী, দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতায় প্রাণের ভয়ে ছেড়ে এসেছি গ্রামের বাড়িঘর। একটি অপচক্র আমাদের ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র করছে।’

অসহায়দের উপকার করার চেষ্টা করেন উল্লেখ করেন আব্দুল নূর বলেন, ‘দেশে আসার পর গ্রামের ৪টি অসহায় পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। গ্রামে কটন মিয়ার নাতির বিয়েতে ৫০ হাজার টাকা ও আবদুস সোবহানের মেয়ের চিকিৎসায় ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। এলাকার বেশকিছু মানুষকে ঘর নির্মাণ ও অর্থ সহায়তা দিয়েছি। আমার গ্রামে নতুন মসজিদ নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে আমি ৩০ লাখ টাকা দিয়েছি। এবার দেশে এসে দেখি, মসজিদের পশ্চিমে থাকা আমাদের প্রায় ৮ শতক জায়গা মসজিদে ঢুকানো হয়েছে। আমি গ্রামের পঞ্চায়েতের ব্যক্তিবর্গকে জিজ্ঞেস করি, আমাদের কাউকে না বলে মসজিদে কেন জায়গা ঢুকানো হলো। আমার এসব কথায় মসজিদের মুতাওয়াল্লি আক্তার, ফারুক, সায়েস্তা, আবু তাহেরসহ একটি গোষ্ঠী ক্ষিপ্ত হয়।’

প্রবাসী আব্দুল নূর বলেন, ‘এতো টাকা খরচ করে মসজিদ নির্মিত হলেও ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। সবাই আমাকে ২৫ লাখ টাকা দিয়ে মসজিদের আরেক তলা নির্মাণের খরচ দিতে অনুরোধ জানালে আমি প্রশ্ন তুলি, এতো টাকা ব্যয়ে মসজিদ নির্মাণের পর কেন ছাদ দিয়ে পানি পড়বে? নির্মাণ কাজ কি ঠিকমতো হয়নি? টাকা কি লুট করা হয়েছে? কোনো সদুত্তর মিলেনি। আমি নিজের তত্ত্বাবধানে মসজিদে আরেক তলা নির্মাণ করতে চাইলে তারা রাজি হয়নি। কারণ তাদের হাতে টাকা না দিলে লুটপাটের সুযোগ পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘মুতাওয়াল্লি আক্তার নানা খারাপ কাজে লিপ্ত। ফারুক আলীর বড় ভাই উস্তার আলীকে স্থানীয় ছোট খুরমার মখদ্দুছ আলী মেম্বার চুরিতে ধরলে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। ফারুকের আরেক ভাই হারিছ আলী গ্রামে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করলে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয় ও কামালবাজার যুব ফোরাম তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। আবু তাহির নজির কয়েকজন লোকসহ বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করলে আমি ভয়ে তাদেরকে ৬০ হাজার টাকার চেক দেই।’

আব্দুল নূর আরো বলেন, ‘গত ২৪ মে ইমামের মাধ্যমে খবর পাই মসজিদের বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা। আমি পিডিবিতে ফোনে বিদ্যুৎ লাইন ঠিক করার অনুরোধ জানালে লাইনম্যান পাঠানো হয়। সে ভুল করে অন্য জায়গায় গিয়ে আমাকে ফোন করলে সঠিক ঠিকানা দেই। পরদিন সে এসে লাইন ঠিক করে দেয়। ২৪ মে রাতে ফারুক, সায়েস্তার নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা হয়। তারা আমার চাচা হাবিবুর রহমানের ঘর ডাকাতি করে নগদ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা, ৪ ভরি র্স্বণ ও মালামাল লুট করে। পরদিন ভোরে আমি সিলেট শহরে আসি। দুপুরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলি। ডাকাতির ঘটনায় রাত ৮টার দিকে বিশ্বনাথ থানায় গেলে তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলাম মামলা নেননি। আমার থানায় মামলা করতে যাওয়ার বিষয়টি গ্রামের লোকদের জানান ওসি। পরদিন আবু তাহের, সায়েস্তা ও ফারুকের নেতৃত্বে গ্রামের কতিপয় লোক বিশ্বনাথে আমাকে নাস্তিক উল্লেখ করে মানববন্ধন করে। আমি খবর পেয়ে সেদিন রাতেই সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করি। আমি নিজেকে নাস্তিক নই দাবি করে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষদের উসকে দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলা। ফারুক ও সায়েস্তার বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলাসহ (মামলা নং- জিআর-৬৮/১২, ৬৯/১২, ৭০/১২, ৭১/১২, ৭২/১২ ও ৭৩/১২) ৬টি মামলা রয়েছে।’

আব্দুল নূর জানান, গত ২৭ মে এএসপি কবির আহমদসহ পুলিশ তার গ্রামে গিয়ে তাকে নাস্তিক বলার সাপেক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কিনা তা জানতে চায়। কিন্তু কেউ প্রমাণ দিতে না পারায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচী না দেয়ার নির্দেশ দিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অপচক্রটি আমাদেরকে মসজিদে যেতে বাঁধা দেয় ও বাড়ি থেকে বেরোলে মারধর করে। ফারুকের নেতৃত্বে আমার ভাগ্নে রেদওয়ানকে মারধর করা হয়। প্রাণের ভয়ে গত জুনে আমরা বাড়ি ছেড়ে শহরে বাসায় এসে ওঠি। কয়েকদিন পর ফারুক ও সায়েস্তার নেতৃত্বে আমাদের বাড়ির গেইটের তিনটি তালা ভেঙে বারান্দায় থাকা জিনিসপত্র লুট করা হয়। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানালে তিনি বিশ্বনাথের ওসিকে ঘটনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। ওসি ঘটনাস্থলে দারোগো রাজীবকে পাঠালে রহস্যজনক কারণে তিনি তালা ভাঙা হয়নি বলে প্রতিবেদন দেন। এরপর আমি মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের মেম্বার মকব্বির আলীকে ঘটনাস্থলে পাঠালে তিনি তালা ভাঙা দেখতে পেয়ে তালা কিনে গেইটে লাগান।’

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল নূর বলেন, ‘গত ২৯ জুন আক্তার হোসেন বাদী হয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন। আমি নাকি ২৫ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় জোরপূর্বক মসজিদের চাবি নিয়ে আসি এবং এতে মসজিদে চার ওয়াক্ত নামাজ হয়নি। অথচ সেদিন আমি বাড়িতেই ছিলাম না। ভোরে সিলেট শহরে এসেছিলাম এবং ওই সময়ে সিলেট ইসলামী ব্যাংকে ছিলাম। আমার ফোনের জিপিএস ট্র্যাক করা হলে এর সত্যতা জানা যাবে। এছাড়া আমি একা গ্রামের এতো লোকের সামনে কি করে মসজিদের চাবি কেড়ে নিতে পারি?’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গ্রামে আমাদের প্রায় ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। স্থানীয় একটি অপচক্র এতে মদদ দিচ্ছে। আমি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে আক্তার, সায়েস্তা, ফারুকদের আসামি করে মানহানি মামলা করেছি। আমি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করবো। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির সাথে দেখা করার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন। কিন্তু দেশে এসে প্রবাসীরা হেনস্থার শিকার হলে ভবিষ্যতে তারা দেশবিমুখ হতে পারেন। এতে আমাদের দেশই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ