১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বাসায় স্বামী-স্ত্রী’র ঝুলন্ত মরদেহ, একটি চিরকুট উদ্ধার

  • Update Time : ০৩:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ নভেম্বর ২০২২
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকা থেকে স্বামী-স্ত্রী’র ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১১ টায় পাঠাটুলার পল্লবী আ/ এলাকার সি ২৫ নম্বর বাসা থেকে রিপন তালুকদার (৩০) ও তার স্ত্রী শিপা দাসের (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ দম্পতি ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। রিপন তালুকদারের গ্রামের বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলার রাজাবাজে।তিনি ওই গ্রামের রুকুনি তালুকদারের ছেলে।নগরীর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। আর তার স্ত্রী শিপা দাস রাজাবাজ গ্রামের নির্ণয় দাসের মেয়ে। তাদের দুই বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। তার নাম ঋত্বিক তালুকদার। তাদের প্রতিবেশী শিল্পী সরকার বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে তারা এই বাসায় ভাড়া থাকতেন। কখনো ঝগড়া বিবাদ শুনিনি। সকাল ৯ টার দিকে বন্ধ ঘরে শিশুটির কান্না শুনতে পান। বাহির থেকে তারা অনেক ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে জানানো হয়। পুলিশ আসার আগেই প্রতিবেশিরা ঘরের টিন কেটে মেয়ে শিশুকে উদ্ধার করেন। এসময় শিশুটি তার মায়ের পা ধরে কান্না করছিল।পরে বিষয়টি থানাকে অবহিত করলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার ( ডিসি উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ( উত্তর) গৌতম দেব, জালালাবাদ থানার এসি মিজান, জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান, ওসি (তদন্ত) খালেদ মামুনসহ পুলিশ সদস্যরা তৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘরের জানালা খুলে দুই কক্ষে স্বামী-স্ত্রী দুই জনের মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ।

 

প্রতিবেশীরা জানান, আমরা কখনও তাদের ঝগড়া ফ্যাসাদ শুনতে পাইনি। এরপরও তারা দুজনের গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেন না। নিহত শিপা দাসের ভাই নিবারণ দাস অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এরপর ভগ্নিপতি রিপন আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছেন। নিহত রিপনের জেটাতো ভাই অনুকূল তালুকতার বলেন, রিপন একটি বিস্কুট কোম্পানির পরিবেশকের অধীনে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু কী কারণে তারা গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তা তিনি বলতে পারছেন না। এদিকে বাসার ভেতর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটে লেখা ছিল-আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছি, তোমরা আমার সন্তানকে খেয়াল রেখো।তবে চিরকুটটি কার লেখা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, আমরা বিষয়টি দিয়ে দেখছি। তবে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যাই মনে হচ্ছে। বন্ধ ঘর থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেটে বাসায় স্বামী-স্ত্রী’র ঝুলন্ত মরদেহ, একটি চিরকুট উদ্ধার

Update Time : ০৩:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ নভেম্বর ২০২২

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকা থেকে স্বামী-স্ত্রী’র ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১১ টায় পাঠাটুলার পল্লবী আ/ এলাকার সি ২৫ নম্বর বাসা থেকে রিপন তালুকদার (৩০) ও তার স্ত্রী শিপা দাসের (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ দম্পতি ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। রিপন তালুকদারের গ্রামের বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলার রাজাবাজে।তিনি ওই গ্রামের রুকুনি তালুকদারের ছেলে।নগরীর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। আর তার স্ত্রী শিপা দাস রাজাবাজ গ্রামের নির্ণয় দাসের মেয়ে। তাদের দুই বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। তার নাম ঋত্বিক তালুকদার। তাদের প্রতিবেশী শিল্পী সরকার বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে তারা এই বাসায় ভাড়া থাকতেন। কখনো ঝগড়া বিবাদ শুনিনি। সকাল ৯ টার দিকে বন্ধ ঘরে শিশুটির কান্না শুনতে পান। বাহির থেকে তারা অনেক ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে জানানো হয়। পুলিশ আসার আগেই প্রতিবেশিরা ঘরের টিন কেটে মেয়ে শিশুকে উদ্ধার করেন। এসময় শিশুটি তার মায়ের পা ধরে কান্না করছিল।পরে বিষয়টি থানাকে অবহিত করলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার ( ডিসি উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ( উত্তর) গৌতম দেব, জালালাবাদ থানার এসি মিজান, জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান, ওসি (তদন্ত) খালেদ মামুনসহ পুলিশ সদস্যরা তৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘরের জানালা খুলে দুই কক্ষে স্বামী-স্ত্রী দুই জনের মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ।

 

প্রতিবেশীরা জানান, আমরা কখনও তাদের ঝগড়া ফ্যাসাদ শুনতে পাইনি। এরপরও তারা দুজনের গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেন না। নিহত শিপা দাসের ভাই নিবারণ দাস অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এরপর ভগ্নিপতি রিপন আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছেন। নিহত রিপনের জেটাতো ভাই অনুকূল তালুকতার বলেন, রিপন একটি বিস্কুট কোম্পানির পরিবেশকের অধীনে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু কী কারণে তারা গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তা তিনি বলতে পারছেন না। এদিকে বাসার ভেতর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটে লেখা ছিল-আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছি, তোমরা আমার সন্তানকে খেয়াল রেখো।তবে চিরকুটটি কার লেখা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, আমরা বিষয়টি দিয়ে দেখছি। তবে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যাই মনে হচ্ছে। বন্ধ ঘর থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ