ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে ধর্ষণ: মামা আটক
- Update Time : ০৮:৫২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর চা বাগানে চিকিৎসা সেবার নাম করে ফাঁদে ফেলে চা শ্রমিক কন্যা কিশোরীকে ধর্ষণ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মামাসহ অজ্ঞাত কবিরাজবেশী প্রতারককে আসামী করে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কিশোরীর মামা পঞ্চম বাউরীকে আটক করে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গত ৫ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় চাতলাপুর চা বাগানের প্লান্টেশন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটলে পরদিন ভোরে কিশোরীকে উদ্ধারের পর মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদানের কারণে কিশোরীর বাবা মতিলাল বাউরী বাদী হয়ে গত ১১ জুলাই মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় দুইজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার উপ পরিদর্শক মো: জহিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এ প্রতিনিধিকে বলেন, ঘটনার পর জরুরী ভিত্তিতে কিশোরীর চিকিৎসা সেবায় তার পরিবার সদস্যরা ব্যস্ত থাকায় মামলাটি করতে বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
মামলার কারণে সরেজমিন চাতলাপুর চা বাগানে তদন্তকালে চা শ্রমিকরা ও বাদী কিশোরীর বাবা মতিলাল বাউরী অভিযোগ করেন, মামা পঞ্চম বাউরীর সাথে কবিরাজবেশী প্রতারকের সম্পর্ক ছিল। তার কারণেই প্রতারকের কথা বিশ্বাস করে কিশোরীকে চা বাগানের নির্জন স্থানে যেতে দেওয়া হয়েছিল।
তাছাড়া থানায় জিজ্ঞাসাবাদকালে কিশোরীর মামার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওযা যায়। তাই মঙ্গলবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামাকে কুলাউড়া থানায় নিয়ে প্রথমে আটক করে পরে গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে মৌলভীবাজার কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
অন্যদিকে মামার মুঠোফান ও প্রতারকের মুঠোফোন ট্রেকিং করে মূল প্রতারক ধর্ষণকারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য চাতলাপুর চা বাগানের বাউরী টিলার শ্রমিক মতিলাল বাউরী ও নারী শ্রমিক শিবানী বাউরীর ১৩ বছর বয়সের মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানান রোগে ভোগছিল।
দরিদ্র পরিবার তার চিকিৎসায় তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কিশোরীর মামা পঞ্চম বাউরীর মাধ্যমে ভূঁয়া এক কবিরাজের ফাঁদে পড়ে তার কথামত চিকিৎসা সেবা নিতে তার সাথে একা চা বাগানের প্লান্টেশন এলাকায় যেতে দেওয়া হয়েছিল। সে রাতে চা বাগান এলাকা থেকে আহত অবস্থায় মামাকে উদ্ধার করা হলেও পরদিন ভোরে কিশোরীকে পার্শ্ববর্তী শমশেরনগর চা বাগানের প্লান্টেশন এলাকা থেকে গুরুতরভাবে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। কবিরাজবেশী প্রতারক রাতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর চা বাগানে ফেলে পালিয়েছিল।
মামলার বাদী নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা, চাতলাপুর চা বাগানের বাউরী টিলার শ্রমিক মতিলাল বাউরীর বলেন, তারও সন্দেহ শ্যালক পঞ্চম বাউরী এ ঘটনার সাতে জড়িত আছে। তাই তাকেও আমালায় আসামী করা হয়েছে।



















