০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৫ গোলে দল জেতায় বরখাস্ত কোচ!

  • Update Time : ০৩:২১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: ফুটবল খেলার মূল লক্ষ্য—যত বেশি সম্ভব গোল করে ম্যাচ জেতা। যেকোনো কোচের কাজ হলো, তাঁর ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে গোল আদায় করা। সে অনুযায়ী ২৫-০ ব্যবধানের জয় মানে সফলতম এক কোচ। কিন্তু দলকে এমন দুর্দান্ত প্রতাপে জেতানোয় উল্টো চাকরি খুঁইয়েছেন এক কোচ। কারণ? এতে প্রতিপক্ষকে অসম্মান করা হয়েছে!

এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে স্পেনে। ভ্যালেন্সিয়ার ১১ থেকে ১১ বছরের কিশোর ফুটবলে সেরানোস সিডি ২৫-০ গোলে হারিয়েছে বেনিক্যালাপ ক্লাবকে। লিগে এটাই ছিল দুই দলের শেষ ম্যাচ। পুরো টুর্নামেন্টে দুই শর বেশি গোল খাওয়া বেনিক্যালাপ যে এ ম্যাচও হারবে এটা জানাই ছিল। তবে এত বড় ব্যবধানের হার আশা করেনি কেউ। প্রথমার্ধেই ১৫ গোলে এগিয়ে যাওয়া সেরানোস দ্বিতীয়ার্ধে দেয় আরও ১০ গোল। এমনকি দলের গোলরক্ষকও করেছেন দুই গোল!
এমন দাপুটে জয়ের পরই কোচকে বরখাস্ত করেছে সেরানোস। এ ব্যাপারে ক্লাবের মুখপাত্র পাবলো আলসেইদ জানিয়েছেন, ‘আমরা সব সময় প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখাতে চাই। এমন ফলের পর আমরা ভেবেছি, কোচের সরে দাঁড়ানো উচিত। পরিস্থিতিটা ঠিকভাবে তিনি সামলাতে পারেননি। আমরা এখানে প্রাথমিক স্কুলের ছেলেদের নিয়ে কথা বলছি। আমরা গোলের চেয়ে মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দিই।’
লিগে চতুর্থ অবস্থানে থাকায় শিরোপা জেতার সুযোগও ছিল না সেরানোসের কাছে। তাই এত গোল করার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না আলসেইদ, ‘গোল নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল, কারণ দিন শেষে একটি ১১ বছরের ছেলের জন্য ২৫ গোল খাওয়া খুব কষ্টের ব্যাপার। আপনি দলকে গোলের আগে ১৫-১৬ পাস দেওয়ার জন্য বলতে পারতেন বা ওদের দুর্বল পায়ে গোল করতে বলতে পারতেন।’
কোচের আইনজীবী অবশ্য তাঁর মক্কেলের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। কোচ নাকি উল্টো তাঁর খেলোয়াড়দের এত গোল করতে মানা করেছিলেন, ‘তিনি কখনোই খেলোয়াড়দের গোল বাড়াতে বলেননি। উল্টো তাদের এত তাঁদের চাপিয়ে খেলতে মানা করেছেন। কিন্তু বেনিক্যালাপ বারবার আক্রমণে উঠে জায়গা করে দিচ্ছিল।’
স্পেনে বয়স ভিত্তিক লিগগুলোতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে গোল কম করার জন্য বলা হয়। শিশুরা যেন ফুটবল খেলা চালিয়ে যায়, এ জন্য ব্যবধান বাড়াতে নিরুৎসাহিত করা হয় সব দলকে। এমনকি ১০ গোলের পর আর না গোনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবু মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি, আর সে কারণেই চাকরি খোয়ালেন এ কোচ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

২৫ গোলে দল জেতায় বরখাস্ত কোচ!

Update Time : ০৩:২১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: ফুটবল খেলার মূল লক্ষ্য—যত বেশি সম্ভব গোল করে ম্যাচ জেতা। যেকোনো কোচের কাজ হলো, তাঁর ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে গোল আদায় করা। সে অনুযায়ী ২৫-০ ব্যবধানের জয় মানে সফলতম এক কোচ। কিন্তু দলকে এমন দুর্দান্ত প্রতাপে জেতানোয় উল্টো চাকরি খুঁইয়েছেন এক কোচ। কারণ? এতে প্রতিপক্ষকে অসম্মান করা হয়েছে!

এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে স্পেনে। ভ্যালেন্সিয়ার ১১ থেকে ১১ বছরের কিশোর ফুটবলে সেরানোস সিডি ২৫-০ গোলে হারিয়েছে বেনিক্যালাপ ক্লাবকে। লিগে এটাই ছিল দুই দলের শেষ ম্যাচ। পুরো টুর্নামেন্টে দুই শর বেশি গোল খাওয়া বেনিক্যালাপ যে এ ম্যাচও হারবে এটা জানাই ছিল। তবে এত বড় ব্যবধানের হার আশা করেনি কেউ। প্রথমার্ধেই ১৫ গোলে এগিয়ে যাওয়া সেরানোস দ্বিতীয়ার্ধে দেয় আরও ১০ গোল। এমনকি দলের গোলরক্ষকও করেছেন দুই গোল!
এমন দাপুটে জয়ের পরই কোচকে বরখাস্ত করেছে সেরানোস। এ ব্যাপারে ক্লাবের মুখপাত্র পাবলো আলসেইদ জানিয়েছেন, ‘আমরা সব সময় প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখাতে চাই। এমন ফলের পর আমরা ভেবেছি, কোচের সরে দাঁড়ানো উচিত। পরিস্থিতিটা ঠিকভাবে তিনি সামলাতে পারেননি। আমরা এখানে প্রাথমিক স্কুলের ছেলেদের নিয়ে কথা বলছি। আমরা গোলের চেয়ে মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দিই।’
লিগে চতুর্থ অবস্থানে থাকায় শিরোপা জেতার সুযোগও ছিল না সেরানোসের কাছে। তাই এত গোল করার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না আলসেইদ, ‘গোল নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল, কারণ দিন শেষে একটি ১১ বছরের ছেলের জন্য ২৫ গোল খাওয়া খুব কষ্টের ব্যাপার। আপনি দলকে গোলের আগে ১৫-১৬ পাস দেওয়ার জন্য বলতে পারতেন বা ওদের দুর্বল পায়ে গোল করতে বলতে পারতেন।’
কোচের আইনজীবী অবশ্য তাঁর মক্কেলের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। কোচ নাকি উল্টো তাঁর খেলোয়াড়দের এত গোল করতে মানা করেছিলেন, ‘তিনি কখনোই খেলোয়াড়দের গোল বাড়াতে বলেননি। উল্টো তাদের এত তাঁদের চাপিয়ে খেলতে মানা করেছেন। কিন্তু বেনিক্যালাপ বারবার আক্রমণে উঠে জায়গা করে দিচ্ছিল।’
স্পেনে বয়স ভিত্তিক লিগগুলোতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে গোল কম করার জন্য বলা হয়। শিশুরা যেন ফুটবল খেলা চালিয়ে যায়, এ জন্য ব্যবধান বাড়াতে নিরুৎসাহিত করা হয় সব দলকে। এমনকি ১০ গোলের পর আর না গোনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবু মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি, আর সে কারণেই চাকরি খোয়ালেন এ কোচ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ