১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরের কৃতিসন্তান হাফেয রাজু আমিন নিজেকে ‘আদর্শ মানুষ’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান

  • Update Time : ০৯:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি :: মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীম। মানবজাতীর চলার পথের গাইড লাইন। মুমিনদের আত্মার খোরাক। তেলাওয়াতে খুশি হয় মুমিনদের অন্তর। বাড়ে ঈমান। আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘যারা ইমানদার তারা যখন আল্লাহর নাম নেয়, নরম হয় তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে কুরআন পাঠ করা হয়, তাদের ঈমান সজিব হয়ে উঠে। তারা মাওলা প্রেমে আত্ননিবেদিত হয়।

পহেলা রোযা থেকে একাধারে ২৭ রোযা পর্যন্ত মসজিদে মসজিদে হাফেযে কুরআনদের কন্ঠে ধ্বণীত হয় খোদার বাণী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। দৈনিক সিলেটের পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হাফেয রাজু আমিনের সাথে কথা বলে লিখছেন তার অনুভূতির কথা।

জগন্নাথপুর উপজেলার মক্রমপুর গ্রামের প্রয়াত প্রবিণ মুরব্বী মাস্টার আবদুল খালিক রাহ.’র ছেলে কামাল আহমদের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন রাজু আমিন।
হাফেয রাজু আমিন প্রথমে পাটলী দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে ইবতেদায়ি ২য়-৫ম বর্ষ (৫ম শ্রেণি) শেষ করে জামেয়া মাদানিয়া আংগুরা মুহাম্মদপুর মাদ্রাসায় হেফয বিভাগে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে হেফজ সম্পন্ন করেন।

তিনি কৃতীত্বের সাথে পড়ালেখা করেন সিলেটের জামেয়া মাদনিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর মাদ্রাসায়। আপন চাচা মাওলানা আফজল আহমদের নিবিড় তত্বাবধানে চলে হাফেয রাজু আমিনের হেফয বিভাগের পড়ালেখা। হাফেয রাজু আমিন তাঁর হাফেয হওয়ার কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, আরেক চাচা হাফেয বেলাল আহমদ’র কথা। যাকে তিনি হাফেয চাচা বলে ডাকেন। সেই হাফেয চাচার কন্ঠে কুরআনের তেলাওয়াত শুনে বাবা কামাল আহমদ তাকে হাফেযে কুরআন বানানোর স্বপ্ন বুনেন। স্বপ্নের চারাগাছে নিঃস্বার্থভাবে পানি ঢালতে থাকেন চাচা মাওলানা আফজল আহমদ। কথা হয় মাওলানা আফজল আহমদের সাথে। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আমার কোনো কৃতীত্ব নেই, এটা মহান আল্লাহ তাআলার ফজল। ভাতিজা রাজু আমিন মাত্র আঠারো মাসে পবিত্র কুরাআনের হেফয শেষ করে। হাফেয রাজু আমিন বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অশেষ কৃপায়, মা-বাবা, দাদা-দাদী এবং আত্মীয়স্বজনের নেক দোয়ার বদৌলতে আমি হাফেয হতে পেরেছি। আমি হাফেযে কুরআন হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি শ্রম দিয়েছেন আমার ছোটচাচা মাওলানা আফজাল আহমদ। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম আর শাসনাদরে গড়ে উঠেছিলাম।

মাদ্রাসার এনামী জলসা উপলক্ষে ইয়াদ (স্মরণশক্তি) যাচাই পরীক্ষায় তিনি ১ম স্থান অর্জনসহ বোর্ড পরিক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করেন। জামেয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা ও আযাদ দ্বীনি শিক্ষাবোর্ড থেকে সম্মাননা পাগড়ীও তিনি অর্জন করেন। নিজেকে দ্বীনের দাঈ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। কুরআনের খেদমতে নিজের জীবন বিসর্জন করতে চান। সর্বদা কুরআন চর্চায় সময় কাটাতে চান হাফেয রাজু আমিন।

বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর জামেয়া মাদানিয়া কাজীরবাজার মাদ্রাসায় মিশকাত শরীফে পরিক্ষা দিয়েছেন, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির একক ছাত্র সংগঠন আল ইসলাহ ছাত্র সংসদের জি.এস এর দায়িত্বও পালন করছেন। সৈয়দপুর আদর্শ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরিক্ষা দিয়েছেন গতবার । বাংলা সাহিত্যের উপর ভালো দক্ষতা এবং অর্জন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি একজন প্রযুক্তিবিদও।

হাফেয রাজু আমিন এ পর্যন্ত সাতবার তারাবির নামাযে ইমামতি করেছেন। জামেয়ার মসজিদে, সিলেট শহরতলীর মেজরটিলা, জগন্নাথপুর নিজ গ্রামের মসজিদেও তিনি তারাবির নামায পড়িয়েছেন।তিনি বলেন, তারাবীহ পড়ানোর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের মত নয়। একজন হাফেযে কুরআন ছাড়া এ অনুভূতি আর কেউই বুঝার নয়। গ্রামের মুসল্লিরা যখন প্রয়োজনাধিক সম্মান প্রদর্শন করেন, নিজের কাছেও নিজেকে অচেনা লাগে। তখন নিজেকে আরো সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলার প্রত্যয় জাগে। তখনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, নিজেকে পরিপূর্ণ একজন দ্বীনের দাঈ হিসেবে গড়ে তুলব।

অসুস্থতাজনিত কারণে শত ইচ্ছে থাকলেও পরিবারের সদস্যদের অমত থাকায় এ বছর তারাবী পড়ানো হয়নাই। খুব মনোকষ্ট হচ্ছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন,আল্লাহ যেন আমাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুরের কৃতিসন্তান হাফেয রাজু আমিন নিজেকে ‘আদর্শ মানুষ’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান

Update Time : ০৯:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি :: মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীম। মানবজাতীর চলার পথের গাইড লাইন। মুমিনদের আত্মার খোরাক। তেলাওয়াতে খুশি হয় মুমিনদের অন্তর। বাড়ে ঈমান। আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘যারা ইমানদার তারা যখন আল্লাহর নাম নেয়, নরম হয় তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে কুরআন পাঠ করা হয়, তাদের ঈমান সজিব হয়ে উঠে। তারা মাওলা প্রেমে আত্ননিবেদিত হয়।

পহেলা রোযা থেকে একাধারে ২৭ রোযা পর্যন্ত মসজিদে মসজিদে হাফেযে কুরআনদের কন্ঠে ধ্বণীত হয় খোদার বাণী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। দৈনিক সিলেটের পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হাফেয রাজু আমিনের সাথে কথা বলে লিখছেন তার অনুভূতির কথা।

জগন্নাথপুর উপজেলার মক্রমপুর গ্রামের প্রয়াত প্রবিণ মুরব্বী মাস্টার আবদুল খালিক রাহ.’র ছেলে কামাল আহমদের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন রাজু আমিন।
হাফেয রাজু আমিন প্রথমে পাটলী দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে ইবতেদায়ি ২য়-৫ম বর্ষ (৫ম শ্রেণি) শেষ করে জামেয়া মাদানিয়া আংগুরা মুহাম্মদপুর মাদ্রাসায় হেফয বিভাগে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে হেফজ সম্পন্ন করেন।

তিনি কৃতীত্বের সাথে পড়ালেখা করেন সিলেটের জামেয়া মাদনিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর মাদ্রাসায়। আপন চাচা মাওলানা আফজল আহমদের নিবিড় তত্বাবধানে চলে হাফেয রাজু আমিনের হেফয বিভাগের পড়ালেখা। হাফেয রাজু আমিন তাঁর হাফেয হওয়ার কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, আরেক চাচা হাফেয বেলাল আহমদ’র কথা। যাকে তিনি হাফেয চাচা বলে ডাকেন। সেই হাফেয চাচার কন্ঠে কুরআনের তেলাওয়াত শুনে বাবা কামাল আহমদ তাকে হাফেযে কুরআন বানানোর স্বপ্ন বুনেন। স্বপ্নের চারাগাছে নিঃস্বার্থভাবে পানি ঢালতে থাকেন চাচা মাওলানা আফজল আহমদ। কথা হয় মাওলানা আফজল আহমদের সাথে। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আমার কোনো কৃতীত্ব নেই, এটা মহান আল্লাহ তাআলার ফজল। ভাতিজা রাজু আমিন মাত্র আঠারো মাসে পবিত্র কুরাআনের হেফয শেষ করে। হাফেয রাজু আমিন বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অশেষ কৃপায়, মা-বাবা, দাদা-দাদী এবং আত্মীয়স্বজনের নেক দোয়ার বদৌলতে আমি হাফেয হতে পেরেছি। আমি হাফেযে কুরআন হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি শ্রম দিয়েছেন আমার ছোটচাচা মাওলানা আফজাল আহমদ। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম আর শাসনাদরে গড়ে উঠেছিলাম।

মাদ্রাসার এনামী জলসা উপলক্ষে ইয়াদ (স্মরণশক্তি) যাচাই পরীক্ষায় তিনি ১ম স্থান অর্জনসহ বোর্ড পরিক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করেন। জামেয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা ও আযাদ দ্বীনি শিক্ষাবোর্ড থেকে সম্মাননা পাগড়ীও তিনি অর্জন করেন। নিজেকে দ্বীনের দাঈ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। কুরআনের খেদমতে নিজের জীবন বিসর্জন করতে চান। সর্বদা কুরআন চর্চায় সময় কাটাতে চান হাফেয রাজু আমিন।

বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর জামেয়া মাদানিয়া কাজীরবাজার মাদ্রাসায় মিশকাত শরীফে পরিক্ষা দিয়েছেন, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির একক ছাত্র সংগঠন আল ইসলাহ ছাত্র সংসদের জি.এস এর দায়িত্বও পালন করছেন। সৈয়দপুর আদর্শ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরিক্ষা দিয়েছেন গতবার । বাংলা সাহিত্যের উপর ভালো দক্ষতা এবং অর্জন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি একজন প্রযুক্তিবিদও।

হাফেয রাজু আমিন এ পর্যন্ত সাতবার তারাবির নামাযে ইমামতি করেছেন। জামেয়ার মসজিদে, সিলেট শহরতলীর মেজরটিলা, জগন্নাথপুর নিজ গ্রামের মসজিদেও তিনি তারাবির নামায পড়িয়েছেন।তিনি বলেন, তারাবীহ পড়ানোর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের মত নয়। একজন হাফেযে কুরআন ছাড়া এ অনুভূতি আর কেউই বুঝার নয়। গ্রামের মুসল্লিরা যখন প্রয়োজনাধিক সম্মান প্রদর্শন করেন, নিজের কাছেও নিজেকে অচেনা লাগে। তখন নিজেকে আরো সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলার প্রত্যয় জাগে। তখনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, নিজেকে পরিপূর্ণ একজন দ্বীনের দাঈ হিসেবে গড়ে তুলব।

অসুস্থতাজনিত কারণে শত ইচ্ছে থাকলেও পরিবারের সদস্যদের অমত থাকায় এ বছর তারাবী পড়ানো হয়নাই। খুব মনোকষ্ট হচ্ছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন,আল্লাহ যেন আমাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ