০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ যখন বিএনপি হতে চায়!

  • Update Time : ০৯:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ধর্মকে রাজনীতির ইস্যু বানিয়ে যে দলটি বাংলাদেশে সবচেয়ে লাভবান হয়েছিল, তার নাম বিএনপি। একই পথের পথিক জাতীয় পার্টিও। তারা ধর্মকে ব্যবহার করেছিল ক্ষমতায় টিকে থাকতে। ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর ভোটের রাজনীতিতে তারা আর সুবিধা করতে পারেনি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতির ফল সব সময় বিএনপির ঘরেই গেছে। এ পরিস্থিতি পাল্টানোর কৌশল আওয়ামী লীগ নিতে শুরু করেছে বেশ আগেই। বিএনপির এই রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ স্পষ্টতই ভাগ বসাতে চায়। আওয়ামী লীগ যেন বিএনপি হওয়ার চেষ্টায় নেমেছে।
বিএনপির নিজের রাজনীতিতেই ধর্মের ব্যবহার ছিল এবং আছে। আর সহযোগী হিসেবে পেয়েছে জামায়াতকে। আওয়ামী লীগ যখন বিএনপির রাজনীতিতে ভাগ বসাতে চায়, তখন তারও তো সহযোগী লাগবে। শক্তি ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে হেফাজতে ইসলামই সম্ভবত তাদের প্রথম পছন্দ। এই সংগঠনটিকে সহযোগী হিসেবে পাওয়া বা ধরে রাখার নীতিই এখন আওয়ামী লীগের পথ। আওয়ামী লীগ যখন বিএনপি হতে চায়, তখন জাতীয় রাজনীতিতে ঐকমত্যের আবহাওয়া তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের ভাস্কর্য সরানো নিয়ে বলা যায় নব্বই-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বিস্তৃত জাতীয় ঐকমত্য দেখা গেল।
সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর দাবি উঠেছিল হেফাজতের তরফে। এই দাবি যে আওয়ামী লীগের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে, তা শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। ভাস্কর্যটি যে সরানো হবে, তা-ও অনুমান করা গিয়েছিল। সরকার যে হেফাজতের সঙ্গে আছে এবং সংগঠনটিকে গুরুত্ব দেয়, এটা বোঝাতে ভাস্কর্যটিকে সরানো জরুরি ছিল। এ জন্য হেফাজত ‘শুকরিয়া’ আদায় করেছে। সরকার ও সরকারপ্রধান হেফাজতের তরফে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা সবই পেয়েছেন। বিএনপির দিক থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কারণ, সরকারকে এ নিয়ে তারা কোনো ‘কৃতিত্ব’ দিতে চায় না। কিন্তু ধর্মীয় মূল্যবোধের বিবেচনায় এই অপসারণকে দলটি সঠিক বলেই মনে করে। জাতীয় পার্টির কাছে এই ভাস্কর্য অপসারণ ‘খারাপ কিছু নয়’। জামায়াত, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ বা ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মতো দলগুলোতে ভাস্কর্য সরানোর দাবিতে শুরু থেকেই সরব। এত বড় জাতীয় ঐক্য বাংলাদেশে আগে কে কবে দেখেছে!
কিন্তু আওয়ামী লীগের সমস্যা হচ্ছে, দলটি বিএনপির ধর্ম নিয়ে রাজনীতির সুফলে ভাগ বসাতে চায় ঠিকই কিন্তু এত দিন যাদের সঙ্গে চলে আসছে, তাদেরও একেবারে ফেলতে পারছে না। ভাস্কর্য অপসারণ নিয়ে বিভিন্ন বাম দল, সংস্কৃতিকর্মী বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবীদের বিরোধিতাকেও পাত্তা দিতে হচ্ছে। দলের কোনো কোনো অংশের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। সেই বিবেচনা থেকেই সম্ভবত শেষ পর্যন্ত ভাস্কর্যটির জায়গা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনে। এক রাতে ভাস্কর্য সরানো ও পরের রাতে কাছাকাছি জায়গায় তাকে পুনঃস্থাপনের কৌশল বা পরিকল্পনা যে যথেষ্ট ভেবেচিন্তে নেওয়া তা বোঝা যায়। ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনে হেফাজত নাখোশ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সরকারের তরফে ‘প্রাথমিক বিজয়’ তো তাদের উপহার দেওয়া গেছে!

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

আওয়ামী লীগ যখন বিএনপি হতে চায়!

Update Time : ০৯:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ধর্মকে রাজনীতির ইস্যু বানিয়ে যে দলটি বাংলাদেশে সবচেয়ে লাভবান হয়েছিল, তার নাম বিএনপি। একই পথের পথিক জাতীয় পার্টিও। তারা ধর্মকে ব্যবহার করেছিল ক্ষমতায় টিকে থাকতে। ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর ভোটের রাজনীতিতে তারা আর সুবিধা করতে পারেনি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতির ফল সব সময় বিএনপির ঘরেই গেছে। এ পরিস্থিতি পাল্টানোর কৌশল আওয়ামী লীগ নিতে শুরু করেছে বেশ আগেই। বিএনপির এই রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ স্পষ্টতই ভাগ বসাতে চায়। আওয়ামী লীগ যেন বিএনপি হওয়ার চেষ্টায় নেমেছে।
বিএনপির নিজের রাজনীতিতেই ধর্মের ব্যবহার ছিল এবং আছে। আর সহযোগী হিসেবে পেয়েছে জামায়াতকে। আওয়ামী লীগ যখন বিএনপির রাজনীতিতে ভাগ বসাতে চায়, তখন তারও তো সহযোগী লাগবে। শক্তি ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে হেফাজতে ইসলামই সম্ভবত তাদের প্রথম পছন্দ। এই সংগঠনটিকে সহযোগী হিসেবে পাওয়া বা ধরে রাখার নীতিই এখন আওয়ামী লীগের পথ। আওয়ামী লীগ যখন বিএনপি হতে চায়, তখন জাতীয় রাজনীতিতে ঐকমত্যের আবহাওয়া তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের ভাস্কর্য সরানো নিয়ে বলা যায় নব্বই-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বিস্তৃত জাতীয় ঐকমত্য দেখা গেল।
সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর দাবি উঠেছিল হেফাজতের তরফে। এই দাবি যে আওয়ামী লীগের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে, তা শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। ভাস্কর্যটি যে সরানো হবে, তা-ও অনুমান করা গিয়েছিল। সরকার যে হেফাজতের সঙ্গে আছে এবং সংগঠনটিকে গুরুত্ব দেয়, এটা বোঝাতে ভাস্কর্যটিকে সরানো জরুরি ছিল। এ জন্য হেফাজত ‘শুকরিয়া’ আদায় করেছে। সরকার ও সরকারপ্রধান হেফাজতের তরফে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা সবই পেয়েছেন। বিএনপির দিক থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কারণ, সরকারকে এ নিয়ে তারা কোনো ‘কৃতিত্ব’ দিতে চায় না। কিন্তু ধর্মীয় মূল্যবোধের বিবেচনায় এই অপসারণকে দলটি সঠিক বলেই মনে করে। জাতীয় পার্টির কাছে এই ভাস্কর্য অপসারণ ‘খারাপ কিছু নয়’। জামায়াত, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ বা ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মতো দলগুলোতে ভাস্কর্য সরানোর দাবিতে শুরু থেকেই সরব। এত বড় জাতীয় ঐক্য বাংলাদেশে আগে কে কবে দেখেছে!
কিন্তু আওয়ামী লীগের সমস্যা হচ্ছে, দলটি বিএনপির ধর্ম নিয়ে রাজনীতির সুফলে ভাগ বসাতে চায় ঠিকই কিন্তু এত দিন যাদের সঙ্গে চলে আসছে, তাদেরও একেবারে ফেলতে পারছে না। ভাস্কর্য অপসারণ নিয়ে বিভিন্ন বাম দল, সংস্কৃতিকর্মী বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবীদের বিরোধিতাকেও পাত্তা দিতে হচ্ছে। দলের কোনো কোনো অংশের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। সেই বিবেচনা থেকেই সম্ভবত শেষ পর্যন্ত ভাস্কর্যটির জায়গা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনে। এক রাতে ভাস্কর্য সরানো ও পরের রাতে কাছাকাছি জায়গায় তাকে পুনঃস্থাপনের কৌশল বা পরিকল্পনা যে যথেষ্ট ভেবেচিন্তে নেওয়া তা বোঝা যায়। ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনে হেফাজত নাখোশ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সরকারের তরফে ‘প্রাথমিক বিজয়’ তো তাদের উপহার দেওয়া গেছে!

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ