০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্টের ৫০ লাখ টাকা আত্বসাতের চেষ্টা

  • Update Time : ০৩:৫০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটের ‘বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র হিসাব থেকে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন চেষ্টার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। সম্প্রতি ট্রাস্ট ব্যাংক ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার শাখা থেকে ট্রাস্টের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ট্রেজারার ওই টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে উত্তোলন করে আত্বসাত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন খোদ ট্রাস্টিরা।
সঠিক পদ্ধতি অনুস্মরণ না করায় ব্যাংকও তাদের টাকা প্রদান করেনি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত টাস্টের ১৪ ট্রাস্টি তাৎক্ষনিক ব্যাংক ম্যানেজারকে চিটি দিয়ে টাকা প্রদান না করার অনুরোধও করেন। এ অবস্থায় বিষয়টি জানাজানি হলে ট্রাস্টের দায়িত্বশীল ও ট্রাস্টিদের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়।

 

জানা গেছে, ট্রাস্ট ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখায় ৫০ লাখ টাকার চেক জমা দেন বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিসবাহ ও অর্থ সম্পাদক আনসার মিয়া। ট্রাস্টের জায়গা কেনার জন্য তারা সোমবার টাকা উত্তোলন করতে ব্যাংকে যান। কিন্তু টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সঠিক না থাকায় টাকায় ব্যাংক ম্যানেজার তাদের টাকা দেননি। বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার  লন্ডনে অবস্থানরত ট্রাস্টিরা ব্যাংক ব্যবস্থাপককে টাকা প্রদান না করতে ইমেইল করেন।
ট্রাষ্টের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জন ট্রাস্টি স্বাক্ষরিত ওই ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, ট্রাস্টের বর্তমান কমিটির দায়িত্বশীলরা সাংবিধানিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্বসাথ করার অপচেষ্টা করছেন। ট্রাস্টের নিয়ম অনুযায়ী ১০ হাজার টাকার বেশি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে হলে ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির অনুমোদন লাগে। কিন্তু বর্তমান সভাপতি ও সেক্রেটারী ট্রাস্টের কোন সভা আহ্বান ও রেজুলেশন না করে ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে উত্তোলনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন’।

 

এ প্রসঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখার ব্যবস্থাপক সন্তোষ পাল, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ টাকা উত্তোলনের জন‍্য ব‍্যাংকে আসেন। কিন্তু এই ট্রাস্টির টাকা তুলতে হলে কিছু নিতীমালা আছে। তা সঠিক ভাবে দেখাতে পারেননি তারা। আমার জানা মতে এই ট্রাস্টি থেকে প্রতি বছর গরীব শিক্ষার্থীদের মধ‍্য উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। এবার তা না করে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ জায়গা কেনার কথা বলে টাকা উত্তোলনের জন‍্য আসেন। তাদের সঠিক প্রক্রিয় অনুস্মরণ করে টাকা উত্তোলনের জন্য বলেছি। ওইদিন কিছু ট্রাস্টি টাকা প্রদান না করতে অভিযোগও করেন।

 

অভিযোগকারী ও ট্রাস্টের সাবেক সভাপতি বদরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রাস্টের টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে। সেই টাকা বালাগঞ্জÑওসমানীনগর এলাকায় দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। সাংগঠনিক বিধিবিধান লঙ্গন করে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের জন্যই উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে। সেজন্য ব্যাংক ব্যবস্থাপককে চিটি দেওয়া হয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যে ট্রাস্টের কোনো সভায় টাকা উত্তোলন বা জায়গার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান।

 

ট্রাস্টের সাধারন সম্পাদক  যুক্তরাজ্য থেকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, আমরা টাকা তুলতে গিয়েছি ঠিক। কিন্তু টাকাটা আমার ব‍্যাক্তিগত কাজের জন‍্য নয়। ট্রাস্টের জন‍্য জায়গা কিনার জন‍্য  টাকা উত্তোলন করতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু ট্রাস্টের কিছু সদস‍্য ট্রাস্ট আর এগিয়ে যাক তা চায় না। তাদের কারনে টাকা তুলা সম্বভ হয়নি। লন্ডনে গিয়ে আমরা একটা সংবাদ সম্মেলন করব। এবং যে ট্রাস্টি টাকা তুলতে বাধা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্বে ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্টের ৫০ লাখ টাকা আত্বসাতের চেষ্টা

Update Time : ০৩:৫০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটের ‘বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র হিসাব থেকে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন চেষ্টার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। সম্প্রতি ট্রাস্ট ব্যাংক ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার শাখা থেকে ট্রাস্টের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ট্রেজারার ওই টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে উত্তোলন করে আত্বসাত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন খোদ ট্রাস্টিরা।
সঠিক পদ্ধতি অনুস্মরণ না করায় ব্যাংকও তাদের টাকা প্রদান করেনি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত টাস্টের ১৪ ট্রাস্টি তাৎক্ষনিক ব্যাংক ম্যানেজারকে চিটি দিয়ে টাকা প্রদান না করার অনুরোধও করেন। এ অবস্থায় বিষয়টি জানাজানি হলে ট্রাস্টের দায়িত্বশীল ও ট্রাস্টিদের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়।

 

জানা গেছে, ট্রাস্ট ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখায় ৫০ লাখ টাকার চেক জমা দেন বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিসবাহ ও অর্থ সম্পাদক আনসার মিয়া। ট্রাস্টের জায়গা কেনার জন্য তারা সোমবার টাকা উত্তোলন করতে ব্যাংকে যান। কিন্তু টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সঠিক না থাকায় টাকায় ব্যাংক ম্যানেজার তাদের টাকা দেননি। বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার  লন্ডনে অবস্থানরত ট্রাস্টিরা ব্যাংক ব্যবস্থাপককে টাকা প্রদান না করতে ইমেইল করেন।
ট্রাষ্টের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জন ট্রাস্টি স্বাক্ষরিত ওই ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, ট্রাস্টের বর্তমান কমিটির দায়িত্বশীলরা সাংবিধানিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্বসাথ করার অপচেষ্টা করছেন। ট্রাস্টের নিয়ম অনুযায়ী ১০ হাজার টাকার বেশি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে হলে ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির অনুমোদন লাগে। কিন্তু বর্তমান সভাপতি ও সেক্রেটারী ট্রাস্টের কোন সভা আহ্বান ও রেজুলেশন না করে ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে উত্তোলনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন’।

 

এ প্রসঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখার ব্যবস্থাপক সন্তোষ পাল, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ টাকা উত্তোলনের জন‍্য ব‍্যাংকে আসেন। কিন্তু এই ট্রাস্টির টাকা তুলতে হলে কিছু নিতীমালা আছে। তা সঠিক ভাবে দেখাতে পারেননি তারা। আমার জানা মতে এই ট্রাস্টি থেকে প্রতি বছর গরীব শিক্ষার্থীদের মধ‍্য উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। এবার তা না করে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ জায়গা কেনার কথা বলে টাকা উত্তোলনের জন‍্য আসেন। তাদের সঠিক প্রক্রিয় অনুস্মরণ করে টাকা উত্তোলনের জন্য বলেছি। ওইদিন কিছু ট্রাস্টি টাকা প্রদান না করতে অভিযোগও করেন।

 

অভিযোগকারী ও ট্রাস্টের সাবেক সভাপতি বদরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রাস্টের টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে। সেই টাকা বালাগঞ্জÑওসমানীনগর এলাকায় দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। সাংগঠনিক বিধিবিধান লঙ্গন করে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের জন্যই উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে। সেজন্য ব্যাংক ব্যবস্থাপককে চিটি দেওয়া হয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যে ট্রাস্টের কোনো সভায় টাকা উত্তোলন বা জায়গার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান।

 

ট্রাস্টের সাধারন সম্পাদক  যুক্তরাজ্য থেকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, আমরা টাকা তুলতে গিয়েছি ঠিক। কিন্তু টাকাটা আমার ব‍্যাক্তিগত কাজের জন‍্য নয়। ট্রাস্টের জন‍্য জায়গা কিনার জন‍্য  টাকা উত্তোলন করতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু ট্রাস্টের কিছু সদস‍্য ট্রাস্ট আর এগিয়ে যাক তা চায় না। তাদের কারনে টাকা তুলা সম্বভ হয়নি। লন্ডনে গিয়ে আমরা একটা সংবাদ সম্মেলন করব। এবং যে ট্রাস্টি টাকা তুলতে বাধা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্বে ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ